ঢাকা ১০:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্প ফিরতেই চীন যাচ্ছেন পুতিন, বিশ্ব রাজনীতির নয়া মেরুকরণ?

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১০:৩৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • ৫২৬ বার পড়া হয়েছে

এবার ট্রাম্পের বেইজিং সফর শেষ হওয়ার চার দিনের মাথায় এবার চীন সফরে যাচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পরপর যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার শীর্ষ নেতার চীন সফরকে ঘিরে বৈশ্বিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরির আলোচনা শুরু হয়েছে। চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে সোমবার (১৮ মে) এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে বলা হয়, পুতিন আগামী ১৯ ও ২০ মে বেইজিং সফর করবেন।

সফরের আগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং পুতিন একে অপরকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। শি জিনপিং তার বার্তায় উল্লেখ করেন, কৌশলগত অংশীদারত্বের ৩০ বছর পূর্তির বছরে দুই দেশের সহযোগিতা আগের চেয়ে আরও গভীর ও সুসংহত হয়েছে। চীনা সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস বলছে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই দেশে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মতো দুই প্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তির রাষ্ট্রপ্রধানের সফর ঠান্ডা যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বিরল ঘটনা। বিশ্লেষকদের মতে, এতে বোঝা যায়বেইজিং দ্রুত বৈশ্বিক কূটনীতির অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে মস্কোর প্রতি চীনের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তা আরও বেড়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় চীন রাশিয়ার জ্বালানির ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। সিআরইএএর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চীন রাশিয়া থেকে প্রায় ৩৬৭ বিলিয়ন ডলারের জীবাশ্ম জ্বালানি কিনেছে। বর্তমানে রাশিয়ার মোট রফতানির একচতুর্থাংশের বেশি পণ্যই যাচ্ছে চীনে, যা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপ সামলাতে মস্কোর জন্য বড় সহায়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, পুতিনশি বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে তাইওয়ান সংকট ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা। এই প্রেক্ষাপটে দুই দেশপাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প নিয়েও অগ্রগতি আনতে পারে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে অতিরিক্ত ৫০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা তৈরি হবে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সফর শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন যুদ্ধ, তাইওয়ান এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ঘিরে নতুন কূটনৈতিক ব্লক তৈরির ইঙ্গিতও দিতে পারে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে ইসরাইল দুই ঘণ্টাও টিকতে পারত না: ট্রাম্প

ট্রাম্প ফিরতেই চীন যাচ্ছেন পুতিন, বিশ্ব রাজনীতির নয়া মেরুকরণ?

আপডেট সময় ১০:৩৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

এবার ট্রাম্পের বেইজিং সফর শেষ হওয়ার চার দিনের মাথায় এবার চীন সফরে যাচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পরপর যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার শীর্ষ নেতার চীন সফরকে ঘিরে বৈশ্বিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরির আলোচনা শুরু হয়েছে। চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে সোমবার (১৮ মে) এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে বলা হয়, পুতিন আগামী ১৯ ও ২০ মে বেইজিং সফর করবেন।

সফরের আগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং পুতিন একে অপরকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। শি জিনপিং তার বার্তায় উল্লেখ করেন, কৌশলগত অংশীদারত্বের ৩০ বছর পূর্তির বছরে দুই দেশের সহযোগিতা আগের চেয়ে আরও গভীর ও সুসংহত হয়েছে। চীনা সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস বলছে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই দেশে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মতো দুই প্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তির রাষ্ট্রপ্রধানের সফর ঠান্ডা যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বিরল ঘটনা। বিশ্লেষকদের মতে, এতে বোঝা যায়বেইজিং দ্রুত বৈশ্বিক কূটনীতির অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে মস্কোর প্রতি চীনের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তা আরও বেড়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় চীন রাশিয়ার জ্বালানির ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। সিআরইএএর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চীন রাশিয়া থেকে প্রায় ৩৬৭ বিলিয়ন ডলারের জীবাশ্ম জ্বালানি কিনেছে। বর্তমানে রাশিয়ার মোট রফতানির একচতুর্থাংশের বেশি পণ্যই যাচ্ছে চীনে, যা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপ সামলাতে মস্কোর জন্য বড় সহায়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, পুতিনশি বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে তাইওয়ান সংকট ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা। এই প্রেক্ষাপটে দুই দেশপাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প নিয়েও অগ্রগতি আনতে পারে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে অতিরিক্ত ৫০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা তৈরি হবে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সফর শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন যুদ্ধ, তাইওয়ান এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ঘিরে নতুন কূটনৈতিক ব্লক তৈরির ইঙ্গিতও দিতে পারে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান