ঢাকা ০২:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগ ও জামায়াত একই জিনিস, আমাদের সতর্ক থাকতে হবে: ইশরাক

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১১:৩৮:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • ৫৪০ বার পড়া হয়েছে

এবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো গণহত্যার অভিযোগ নাই। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আছে এবং জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আছে। এই দুইটা একই জিনিস। এদের বিষয়ে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে, সচেতন থাকতে হবে। বুধবার (৩ জুন) বিকেলে নোয়াখালীর চাটখিলে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধে ছিলেন না অথবা মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের বয়স ছিল ৮১০ বছর তাদেরকেও অন্যায়ভাবে বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদী সরকার মুক্তিযুদ্ধের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এতে তালিকাটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে যখন মুক্তিযোদ্ধা শব্দটির সঙ্গে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা উচ্চারিত হয়, তখন আমার বুকটা ফেটে যায়। এটা আমরা সহ্য করতে পারি না।

স্বাধীনতা বিরোধীদের আস্ফালন প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এই স্বাধীনতা বিরোধীরা ১৬ ডিসেম্বরকে অনেক সময় প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে। তারা ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা হয় নাই, সেই ধরনের মিথ্যা বয়ান দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে। তারা ২৪ সালের পুরা কৃতিত্বটাই তাদের পকেটস্ত করে বাংলাদেশকে আবারো পাকিস্তানপন্থী করার চেষ্টা করছে। এমনও কথা তারা বলে, পাকিস্তানই নাকি ভালো ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী সবসময় মুক্তিযুদ্ধকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আমাদেরকে প্রতিনিয়ত দিক নির্দেশনা দিয়ে চলেছেন। ইনশাআল্লাহ মুক্তিযোদ্ধাদের যদি কখনো কোথাও কোনো ধরনের অপমান, প্রতিপন্ন বা অসম্মানঅশ্রদ্ধা করা হয়, সেটা আমরা আর বসে থাকবো না। আমরা সেটার কঠোর জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, ৭১এর পরে ২৪এ যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল সেটি ছিল একটা জন মানুষের আন্দোলন। এর কৃতিত্ব দাবিদার আমরা সকলেই, যারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রাম লড়াই করেছি। আমাদের নেতা ইলিয়াস আলী চলে গিয়েছে, আজ পর্যন্ত তার কোনো হদিস পাই নাই। চৌধুরী আলমের মত নেতাকে গুম করে ফেলা হয়েছে। এরকম শত শত, কয়েক হাজারের উপরে মানুষকে গুম করে ফেলা হয়েছে, হত্যার শিকার হয়েছে। আমরা তো ৫ তারিখের পরে এসে বলি নাই যে ২৪এর গণঅভ্যুত্থানটা একক আমাদের কৃতিত্ব। এটা আমরা কোনো দিনই বলি নাই, বলবও না। আমরা কোনো কিছুর কৃতিত্ব নেওয়ার জন্য লড়াই সংগ্রাম আন্দোলন করি নাই। সাধারণ মানুষের উপরে যখন জুলুমের সীমা অতিক্রম করে গিয়েছিল, তখনই আমরা সেটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি।

সরকারের সময়কাল এবং প্রশাসনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সকল রাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রথম ১৮০ দিনকে ধরাই হয় না কোনো একটা সরকারকে মূল্যায়ন করার জন্য। আমাদের সরকার কিন্তু সেই সময়টা পায় নাই। ১৭ বছরের যে জঞ্জাল এই সিস্টেমের মধ্যে ঢুকে গিয়েছে, আমি একজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড করতে গিয়ে এই অভিজ্ঞতাটা সরাসরি দেখছি। এটিকে পরিষ্কার করে দেশকে তার অভিষ্ট লক্ষ্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদেরকে কিছুটা সময় দিতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেছি। কোনো রাজাকার অথবা কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি যদি আমাদেরকে বলে যেপতন করে দিব, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। আমরা কিন্তু এখনো ধৈর্য ধরে সহ্য করে চলেছি, আর কোনো গণ্ডগোল আমরা চাই না। দেশের অর্থনীতির অবস্থা ভালো নয়। কিন্তু আমাদেরকে যদি আবারো প্রয়োজনে রাজপথে নামতে হয় তাহলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশ রাজাকার মুক্ত করা মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কোনো ব্যাপার না। মুক্তিযোদ্ধারাও এই বিষয়ে আমার সঙ্গে থাকবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে ইসরাইল দুই ঘণ্টাও টিকতে পারত না: ট্রাম্প

আওয়ামী লীগ ও জামায়াত একই জিনিস, আমাদের সতর্ক থাকতে হবে: ইশরাক

আপডেট সময় ১১:৩৮:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

এবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো গণহত্যার অভিযোগ নাই। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আছে এবং জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আছে। এই দুইটা একই জিনিস। এদের বিষয়ে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে, সচেতন থাকতে হবে। বুধবার (৩ জুন) বিকেলে নোয়াখালীর চাটখিলে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধে ছিলেন না অথবা মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের বয়স ছিল ৮১০ বছর তাদেরকেও অন্যায়ভাবে বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদী সরকার মুক্তিযুদ্ধের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এতে তালিকাটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে যখন মুক্তিযোদ্ধা শব্দটির সঙ্গে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা উচ্চারিত হয়, তখন আমার বুকটা ফেটে যায়। এটা আমরা সহ্য করতে পারি না।

স্বাধীনতা বিরোধীদের আস্ফালন প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এই স্বাধীনতা বিরোধীরা ১৬ ডিসেম্বরকে অনেক সময় প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে। তারা ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা হয় নাই, সেই ধরনের মিথ্যা বয়ান দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে। তারা ২৪ সালের পুরা কৃতিত্বটাই তাদের পকেটস্ত করে বাংলাদেশকে আবারো পাকিস্তানপন্থী করার চেষ্টা করছে। এমনও কথা তারা বলে, পাকিস্তানই নাকি ভালো ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী সবসময় মুক্তিযুদ্ধকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আমাদেরকে প্রতিনিয়ত দিক নির্দেশনা দিয়ে চলেছেন। ইনশাআল্লাহ মুক্তিযোদ্ধাদের যদি কখনো কোথাও কোনো ধরনের অপমান, প্রতিপন্ন বা অসম্মানঅশ্রদ্ধা করা হয়, সেটা আমরা আর বসে থাকবো না। আমরা সেটার কঠোর জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, ৭১এর পরে ২৪এ যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল সেটি ছিল একটা জন মানুষের আন্দোলন। এর কৃতিত্ব দাবিদার আমরা সকলেই, যারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রাম লড়াই করেছি। আমাদের নেতা ইলিয়াস আলী চলে গিয়েছে, আজ পর্যন্ত তার কোনো হদিস পাই নাই। চৌধুরী আলমের মত নেতাকে গুম করে ফেলা হয়েছে। এরকম শত শত, কয়েক হাজারের উপরে মানুষকে গুম করে ফেলা হয়েছে, হত্যার শিকার হয়েছে। আমরা তো ৫ তারিখের পরে এসে বলি নাই যে ২৪এর গণঅভ্যুত্থানটা একক আমাদের কৃতিত্ব। এটা আমরা কোনো দিনই বলি নাই, বলবও না। আমরা কোনো কিছুর কৃতিত্ব নেওয়ার জন্য লড়াই সংগ্রাম আন্দোলন করি নাই। সাধারণ মানুষের উপরে যখন জুলুমের সীমা অতিক্রম করে গিয়েছিল, তখনই আমরা সেটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি।

সরকারের সময়কাল এবং প্রশাসনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সকল রাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রথম ১৮০ দিনকে ধরাই হয় না কোনো একটা সরকারকে মূল্যায়ন করার জন্য। আমাদের সরকার কিন্তু সেই সময়টা পায় নাই। ১৭ বছরের যে জঞ্জাল এই সিস্টেমের মধ্যে ঢুকে গিয়েছে, আমি একজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড করতে গিয়ে এই অভিজ্ঞতাটা সরাসরি দেখছি। এটিকে পরিষ্কার করে দেশকে তার অভিষ্ট লক্ষ্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদেরকে কিছুটা সময় দিতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেছি। কোনো রাজাকার অথবা কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি যদি আমাদেরকে বলে যেপতন করে দিব, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। আমরা কিন্তু এখনো ধৈর্য ধরে সহ্য করে চলেছি, আর কোনো গণ্ডগোল আমরা চাই না। দেশের অর্থনীতির অবস্থা ভালো নয়। কিন্তু আমাদেরকে যদি আবারো প্রয়োজনে রাজপথে নামতে হয় তাহলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশ রাজাকার মুক্ত করা মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কোনো ব্যাপার না। মুক্তিযোদ্ধারাও এই বিষয়ে আমার সঙ্গে থাকবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।