ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর বাগযুদ্ধকে ‘প্রেমিক-প্রেমিকার ঝগড়া’ বললেন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১০:২৫:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • ৫২৩ বার পড়া হয়েছে

এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বাগযুদ্ধকেপ্রেমিকপ্রেমিকার ঝগড়াহিসেবে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার। তিনি দুই নেতার মধ্যে চলমান উত্তেজনাকেহালকা করে দেখানোরপাশাপাশি এটিকেঅতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপনকরা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন। ইরান ইস্যুতে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা এবং পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেছিলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন হারাতে পারে। এ সময় তিনি নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ করে কড়া ভাষায় বলেন, ‘বিবি, সতর্ক হও, নইলে তুমি একা হয়ে পড়বে।

এই ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনা আরও গুরুত্ব পায়, যেখানে ইসরায়েল ও ইরান সাময়িকভাবে হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেয়। যদিও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি, তবে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলার পরিকল্পনা করছিল ইসরায়েল। তবে ট্রাম্প সরাসরি নেতানিয়াহুকে ফোন করে ওই পরিকল্পনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করেন, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে ওয়াশিংটনের সমর্থন নাও পাওয়া যেতে পারে।

ট্রাম্প পরে দাবি করেন, তার আহ্বানের পর নেতানিয়াহু পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করেন এবং ইরানও পাল্টা হামলা থেকে বিরত থাকার বার্তা দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। তবে এই পুরো পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দুই নেতার মধ্যে প্রায় চার দশকের সম্পর্ক রয়েছে এবং এমন পরিস্থিতিতে মাঝে মাঝে মতপার্থক্য দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। তার মতে, ‘এটি অনেকটা প্রেমিকপ্রেমিকার ঝগড়ার মতো, যেখানে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়, কিন্তু সম্পর্ক অটুট থাকে।

লেইটার বলেন, ‘তাদের মধ্যে প্রায় ৪০ বছরের গভীর বন্ধুত্ব রয়েছে, আর মাঝে মাঝে প্রেমিকপ্রেমিকাদের মধ্যে একটু ঝগড়া হয় এবং কখনো কখনো ঘরের ভেতরের পরিবেশ এবং কথোপকথনের উত্তেজনা কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে যোগাযোগ মূলত সহযোগিতামূলক এবং দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সমন্বয় অত্যন্ত শক্তিশালী। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, কিছু গণমাধ্যম বিষয়টিকে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করছে। ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত স্বীকার করেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের অনুরোধে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপেরউত্তেজনা কমানোরসিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তিনি যোগ করেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট খুব ভালো করেই বোঝেন, ইসরায়েল জবাব না দিয়ে নিজের দেশে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত মুখ বুজে সহ্য করতে পারে না।

অন্যদিকে, চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা নতুন করে গতি পেয়েছে। কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত এবং সামরিক পাল্টা পদক্ষেপের পর হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান কূটনৈতিক তৎপরতা আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের একটি সুযোগ তৈরি করলেও ইসরায়েলইরান সম্পর্ক এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানের পর নেপালেও নিষিদ্ধ ভারতের আম

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর বাগযুদ্ধকে ‘প্রেমিক-প্রেমিকার ঝগড়া’ বললেন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত

আপডেট সময় ১০:২৫:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বাগযুদ্ধকেপ্রেমিকপ্রেমিকার ঝগড়াহিসেবে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার। তিনি দুই নেতার মধ্যে চলমান উত্তেজনাকেহালকা করে দেখানোরপাশাপাশি এটিকেঅতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপনকরা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন। ইরান ইস্যুতে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা এবং পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেছিলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন হারাতে পারে। এ সময় তিনি নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ করে কড়া ভাষায় বলেন, ‘বিবি, সতর্ক হও, নইলে তুমি একা হয়ে পড়বে।

এই ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনা আরও গুরুত্ব পায়, যেখানে ইসরায়েল ও ইরান সাময়িকভাবে হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেয়। যদিও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি, তবে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলার পরিকল্পনা করছিল ইসরায়েল। তবে ট্রাম্প সরাসরি নেতানিয়াহুকে ফোন করে ওই পরিকল্পনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করেন, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে ওয়াশিংটনের সমর্থন নাও পাওয়া যেতে পারে।

ট্রাম্প পরে দাবি করেন, তার আহ্বানের পর নেতানিয়াহু পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করেন এবং ইরানও পাল্টা হামলা থেকে বিরত থাকার বার্তা দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। তবে এই পুরো পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দুই নেতার মধ্যে প্রায় চার দশকের সম্পর্ক রয়েছে এবং এমন পরিস্থিতিতে মাঝে মাঝে মতপার্থক্য দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। তার মতে, ‘এটি অনেকটা প্রেমিকপ্রেমিকার ঝগড়ার মতো, যেখানে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়, কিন্তু সম্পর্ক অটুট থাকে।

লেইটার বলেন, ‘তাদের মধ্যে প্রায় ৪০ বছরের গভীর বন্ধুত্ব রয়েছে, আর মাঝে মাঝে প্রেমিকপ্রেমিকাদের মধ্যে একটু ঝগড়া হয় এবং কখনো কখনো ঘরের ভেতরের পরিবেশ এবং কথোপকথনের উত্তেজনা কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে যোগাযোগ মূলত সহযোগিতামূলক এবং দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সমন্বয় অত্যন্ত শক্তিশালী। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, কিছু গণমাধ্যম বিষয়টিকে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করছে। ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত স্বীকার করেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের অনুরোধে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপেরউত্তেজনা কমানোরসিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তিনি যোগ করেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট খুব ভালো করেই বোঝেন, ইসরায়েল জবাব না দিয়ে নিজের দেশে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত মুখ বুজে সহ্য করতে পারে না।

অন্যদিকে, চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা নতুন করে গতি পেয়েছে। কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত এবং সামরিক পাল্টা পদক্ষেপের পর হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান কূটনৈতিক তৎপরতা আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের একটি সুযোগ তৈরি করলেও ইসরায়েলইরান সম্পর্ক এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।