ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাধ্য হয়ে সীমান্ত থেকে আরও ২১ জনকে ফেরত নিল বিএসএফ

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১০:৪৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • ৫২৭ বার পড়া হয়েছে

এবার ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় সীমান্তে শূন্যরেখায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকার পর নারী, শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ ২১ জনকে ফেরত নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তবে একই সময়ে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত দিয়ে আবারও কয়েকজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৮ জুন) গভীর রাতে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় সীমান্ত থেকে দীর্ঘ সময় শূন্যরেখায় মানবেতর অবস্থায় থাকার পর তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়।

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুসহ ১১ জন প্রায় ৪৮ ঘণ্টা শূন্যরেখায় আটকে ছিলেন। গত শুক্রবার রাতে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলেও বিজিবির বাধার মুখে তারা সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে অবস্থান নেন। পরে রোববার গভীর রাতে বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায়। দিনাজপুর ৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওই ১১ জনের মধ্যে তিনজন পুরুষ, চারজন নারী এবং চারজন শিশু ছিলেন।

অন্যদিকে পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা ১০ জনকে প্রায় ৭০ ঘণ্টা পর নিজেদের দেশে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ। গত শুক্রবার ভোরে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বিজিবি বাধা দেয়। এরপর তারা শূন্যরেখাসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করতে থাকে। টানা কয়েক দফা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করার পর রোববার মধ্যরাতে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হয়। নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিএসএফ সদস্যরা যাওয়ার আগে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বকবান্দা ও ঝাউবাড়ী সীমান্তে আবারও কয়েকজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা সতর্ক অবস্থান নিয়ে ওই প্রচেষ্টা প্রতিহত করেন। স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক দিন ধরেই ওই সীমান্ত এলাকায় একাধিকবার পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়েছে। বিজিবির কড়া নজরদারি এবং স্থানীয়দের সতর্কতার কারণে তা সফল হয়নি। বিজিবির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সীমান্তে পুশইনের যেকোনো চেষ্টা প্রতিরোধে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সতর্ক রাখা হয়েছে, যাতে অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করানো না যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানের পর নেপালেও নিষিদ্ধ ভারতের আম

বাধ্য হয়ে সীমান্ত থেকে আরও ২১ জনকে ফেরত নিল বিএসএফ

আপডেট সময় ১০:৪৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

এবার ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় সীমান্তে শূন্যরেখায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকার পর নারী, শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ ২১ জনকে ফেরত নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তবে একই সময়ে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত দিয়ে আবারও কয়েকজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৮ জুন) গভীর রাতে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় সীমান্ত থেকে দীর্ঘ সময় শূন্যরেখায় মানবেতর অবস্থায় থাকার পর তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়।

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুসহ ১১ জন প্রায় ৪৮ ঘণ্টা শূন্যরেখায় আটকে ছিলেন। গত শুক্রবার রাতে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলেও বিজিবির বাধার মুখে তারা সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে অবস্থান নেন। পরে রোববার গভীর রাতে বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায়। দিনাজপুর ৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওই ১১ জনের মধ্যে তিনজন পুরুষ, চারজন নারী এবং চারজন শিশু ছিলেন।

অন্যদিকে পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা ১০ জনকে প্রায় ৭০ ঘণ্টা পর নিজেদের দেশে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ। গত শুক্রবার ভোরে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বিজিবি বাধা দেয়। এরপর তারা শূন্যরেখাসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করতে থাকে। টানা কয়েক দফা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করার পর রোববার মধ্যরাতে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হয়। নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিএসএফ সদস্যরা যাওয়ার আগে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বকবান্দা ও ঝাউবাড়ী সীমান্তে আবারও কয়েকজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা সতর্ক অবস্থান নিয়ে ওই প্রচেষ্টা প্রতিহত করেন। স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক দিন ধরেই ওই সীমান্ত এলাকায় একাধিকবার পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়েছে। বিজিবির কড়া নজরদারি এবং স্থানীয়দের সতর্কতার কারণে তা সফল হয়নি। বিজিবির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সীমান্তে পুশইনের যেকোনো চেষ্টা প্রতিরোধে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সতর্ক রাখা হয়েছে, যাতে অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করানো না যায়।