ঢাকা ১২:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণে আপত্তি, বিক্ষোভে নামল ভারতীয় গ্রামবাসী

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০১:২৪:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • ৫২৯ বার পড়া হয়েছে

এবার বাংলাদেশভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে ঘিরে নতুন করে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের একটি সীমান্তবর্তী গ্রামে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্তমানে যে স্থানে বেড়া নির্মাণের কাজ চলছে, তা শেষ হলে পুরো গ্রামই কার্যত নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে চলে যাবে। একই সঙ্গ দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এ কারণে কাজ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন গ্রামবাসীরা। খবর দ্য হিন্দুর।  মেঘালয়ের পূর্ব খাসি হিলস জেলার পিলুর্সলা মহকুমার অন্তর্গতলিংকংগ্রামটি একদম জিরো লাইনের ওপর অবস্থিত। এটি এমন একটি ব্যতিক্রমী গ্রাম। এই গ্রামের ঘরবাড়িগুলো থেকে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বসতি মাত্র কয়েক মিটার দূরে অবস্থিত।

রোববার (৭ জুন) লিংকং গ্রামের বাসিন্দারা বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর পিলুর্সলার মহকুমা কর্মকর্তার কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। স্মারকলিপিতে তারা চলমান কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ কাজ অবিলম্বে স্থগিত করার দাবি জানান। গ্রামপ্রধান রামু বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেন, আমরা সীমান্ত বেড়া নির্মাণের বিরোধী নই। তবে আমরা চাই এই বেড়া যেন একদম জিরো লাইনের ওপর দেওয়া হয়, যাতে আমাদের গ্রামটি ভারতের ভেতরে এবং বেড়ার সুরক্ষিত সীমানার মধ্যে থাকে।  তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রস্তাবিত নকশা অনুযায়ী বেড়া দেওয়া হলে পুরো লিংকং গ্রামটি ভারতের মূল নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে (বাংলাদেশের দিকে) পড়ে যাবে, যা তাদের নিরাপত্তা ও যাতায়াতকে চরম হুমকির মুখে ফেলবে।

রিমা খংসডির নামে স্থানীয় এক নারী বলেন, বর্তমান নকশায় বেড়া হলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। আমরা চাই রাজ্য সরকার আমাদের এই উদ্বেগের কথা শুনুক এবং অবিলম্বে বিষয়টি ভারত সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরুক।  স্থানীয়দের মতে, করোনাকালীন সময়ে গ্রামবাসীদের তৈরি একটি অস্থায়ী বাঁশের বেড়া ছাড়া এই গ্রামটিকে বাংলাদেশ থেকে আলাদা করার মতো আর কোনো স্থায়ী সীমানা এখনও নেই। সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে ভারতবাংলাদেশ সীমান্তে এই কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় কর্মকর্তারা।  উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সাথে মেঘালয় রাজ্যের মোট ৪৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। যার মধ্যে স্থানীয় জটিলতা এবং দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে মাত্র ৮০ কিলোমিটারের কম অংশ এখনও বেড়াবিহীন অবস্থায় রয়েছে। 

বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লিংকং গ্রামের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে ইতোমধ্যে একটি বিএসএফ আউটপোস্ট বা ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে। গ্রামবাসীদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।  এদিকে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেসব সীমান্তে মানুষের বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেসব স্থানে জিরো লাইনেইসিঙ্গেলরোবা এক সারির বিশেষ কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে নয়া দিল্লি। ওই কর্মকর্তা বলেন, জিরো লাইনে এক লাইনের বেড়া দেওয়ার প্রস্তাবটি নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বাংলাদেশের নতুন সরকার এখনও এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানের পর নেপালেও নিষিদ্ধ ভারতের আম

বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণে আপত্তি, বিক্ষোভে নামল ভারতীয় গ্রামবাসী

আপডেট সময় ০১:২৪:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

এবার বাংলাদেশভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে ঘিরে নতুন করে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের একটি সীমান্তবর্তী গ্রামে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্তমানে যে স্থানে বেড়া নির্মাণের কাজ চলছে, তা শেষ হলে পুরো গ্রামই কার্যত নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে চলে যাবে। একই সঙ্গ দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এ কারণে কাজ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন গ্রামবাসীরা। খবর দ্য হিন্দুর।  মেঘালয়ের পূর্ব খাসি হিলস জেলার পিলুর্সলা মহকুমার অন্তর্গতলিংকংগ্রামটি একদম জিরো লাইনের ওপর অবস্থিত। এটি এমন একটি ব্যতিক্রমী গ্রাম। এই গ্রামের ঘরবাড়িগুলো থেকে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বসতি মাত্র কয়েক মিটার দূরে অবস্থিত।

রোববার (৭ জুন) লিংকং গ্রামের বাসিন্দারা বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর পিলুর্সলার মহকুমা কর্মকর্তার কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। স্মারকলিপিতে তারা চলমান কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ কাজ অবিলম্বে স্থগিত করার দাবি জানান। গ্রামপ্রধান রামু বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেন, আমরা সীমান্ত বেড়া নির্মাণের বিরোধী নই। তবে আমরা চাই এই বেড়া যেন একদম জিরো লাইনের ওপর দেওয়া হয়, যাতে আমাদের গ্রামটি ভারতের ভেতরে এবং বেড়ার সুরক্ষিত সীমানার মধ্যে থাকে।  তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রস্তাবিত নকশা অনুযায়ী বেড়া দেওয়া হলে পুরো লিংকং গ্রামটি ভারতের মূল নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে (বাংলাদেশের দিকে) পড়ে যাবে, যা তাদের নিরাপত্তা ও যাতায়াতকে চরম হুমকির মুখে ফেলবে।

রিমা খংসডির নামে স্থানীয় এক নারী বলেন, বর্তমান নকশায় বেড়া হলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। আমরা চাই রাজ্য সরকার আমাদের এই উদ্বেগের কথা শুনুক এবং অবিলম্বে বিষয়টি ভারত সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরুক।  স্থানীয়দের মতে, করোনাকালীন সময়ে গ্রামবাসীদের তৈরি একটি অস্থায়ী বাঁশের বেড়া ছাড়া এই গ্রামটিকে বাংলাদেশ থেকে আলাদা করার মতো আর কোনো স্থায়ী সীমানা এখনও নেই। সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে ভারতবাংলাদেশ সীমান্তে এই কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় কর্মকর্তারা।  উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সাথে মেঘালয় রাজ্যের মোট ৪৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। যার মধ্যে স্থানীয় জটিলতা এবং দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে মাত্র ৮০ কিলোমিটারের কম অংশ এখনও বেড়াবিহীন অবস্থায় রয়েছে। 

বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লিংকং গ্রামের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে ইতোমধ্যে একটি বিএসএফ আউটপোস্ট বা ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে। গ্রামবাসীদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।  এদিকে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেসব সীমান্তে মানুষের বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেসব স্থানে জিরো লাইনেইসিঙ্গেলরোবা এক সারির বিশেষ কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে নয়া দিল্লি। ওই কর্মকর্তা বলেন, জিরো লাইনে এক লাইনের বেড়া দেওয়ার প্রস্তাবটি নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বাংলাদেশের নতুন সরকার এখনও এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।