পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে ইমরান খানকে ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত’ বলতেও ছাড়েননি। তার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ইমরানের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। খবর ডন-এর।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) ইসলামাবাদের খাইবার পাখতুনখোয়া হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল সালমান আকরাম রাজা বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা নাকি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এটা খুবই হাস্যকর কথা, তবে এমন কথা যে ইনস্টিটিউশন (সেনাবাহিনী) প্রথমবার বলেছে এমন নয়।’
তিনি বেনজির ভুট্টোর প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, ‘অতীতেও বারবার ইনস্টিটিশন জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি আখ্যা দিয়েছে। কারণ ইনস্টিটিউশন বিশ্বাস করে যে কোনো নেতাকে ‘নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ ঘোষণা করা হলেই তাকে দৃশ্যপট থেকে মুছে ফেলা সহজ। কিন্তু এই কৌশল ব্যর্থ। ৯০-এর দশকে বেনজির ভুট্টোর ওপর এই কৌশল প্রয়োগ করেছিল সেনাবাহিনী এবং তখন তা ব্যর্থ হয়েছিল। এবারও ব্যর্থ হবে। আমরা পাগল নই, আমরা ভালো করেই জানি দেশ কে চালায়।’
পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর আলী খান বলেন, ‘আমরা এখানে সেনাবাহিনীর দেখাদেখি কোনো পাল্টা সংবাদ সম্মেলনের জন্য বসিনি। যেহেতু আমাদের অপবাদ দেওয়া হয়েছে, তাই আমরা মনে করি যে কিছু ব্যাপার জনগণের কাছে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। এ কারণেই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে।’
সম্প্রতি আদিয়ালা জেলে বন্দি ইমরান খানের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের দেখা করতে বাধা দেয়ায় ফের উত্তপ্ত হয়েছে পাকিস্তানের রাজনীতি। অনেকটা মুখোমুখি অবস্থানে চলে গেছে ইমরানের দল পিটিআই এবং সেনাবাহিনী। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরানের মৃত্যুর গুজবও ছড়ায়। পরে বোন উজমা খানকে ইমরানের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেয়া হয়। সে সাক্ষাতে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা উসকে দেয়ার অভিযোগ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। এরপরই জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া দেখায় পাকিস্তানের আইএসপিআর।




















