আওয়ামী লীগকে উদ্ধৃত করে অধ্যাপক লতিফুর রহমান যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একমত নয় বলে স্পষ্ট করেছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে সাবেক সংসদ সদস্য (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩) অধ্যাপক লতিফুর রহমান যে বক্তব্য রেখেছেন, তা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সেখানে তিনি আওয়ামী লীগকে উদ্ধৃত করে যে বক্তব্য প্রদান করেছেন, তা তার ব্যক্তিগত মতামত।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, তার এই বক্তব্যের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একমত নয় এবং এটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দৃষ্টিভঙ্গিও নয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাকে সতর্ক করা হয়েছে।
এর আগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জামায়াতে যোগ দিলে তার দায় দায়িত্ব জামায়াত নেবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য অধ্যাপক লতিফুর রহমান। তার এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ফাটাপাড়া মদনমোড় এলাকায় এক উঠান বৈঠকে বক্তব্য দেন অধ্যাপক লতিফুর রহমান।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আগামী দিনের বাংলাদেশে একটি পরিবর্তন হতে চলেছে। আমাদের দলে যারা আওয়ামী লীগ থেকে আসবেন, আপনাদের দায়-দায়িত্ব আমরা নিব। আপনারা আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াতে যোগ দেন, বিএনপি থেকে জামায়াতে যোগ দেন, আপনাদের দায়িত্ব আমরা নিব। জামায়াতে ইসলামীকে আগের জামায়াত মনে করিয়েন না, জামায়াত এখন অনেক শক্তিশালী।
তিনি আরও বলেন, ‘নবাবগঞ্জের সব সমস্যা এখন লতিফুর রহমান দেখে। যারা আওয়ামী লীগ থেকে এসেছেন, নির্দ্বিধায় থাকবেন, আপনাদের বিষয়ে আইন-আদালত, কোর্ট-থানার দায়িত্ব আমরা নিব, ইনশাআল্লাহ।’
এ বিষয়ে জামায়াত নেতা লতিফুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার বক্তব্যটি আনকাট করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ বক্তব্যটি এখানে আসেনি। আমি সকল মতের মানুষকে ইসলামের ছায়াতলে দাওয়াত দিয়েছি। কিন্ত শুধু আওয়ামী লীগকে হাইলাইটস করা হচ্ছে। আমার বক্তব্যে শুধু আওয়ামী লীগ নয় বরং বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ সাধারণ মানুষকে জামায়াতে যোগ দেওয়ার কথা বলেছি। যাতে করে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে পারি।’
তিনি আরও বলেন, ‘চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নে ভিলেজ পলিটিক্স আছে। এর কারণে যারা (আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী) জামায়াতের পক্ষে কাজ করছে তাদের বাড়িতে বেছে বেছে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। তাই তাদেরকে নির্ভয়ে জামায়াতের পক্ষে কাজ করার জন্য আমি এ কথা বলেছি। কিন্ত আমার বক্তব্য আনকাট প্রচার করা হচ্ছে। এর বিচার আমি আল্লাহর কাছে দিয়েছি, তিনিই এর ভালো বিচার করবেন।’
























