ঢাকা ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মোদি ট্রাম্পকে ফোন না করায় ভেস্তে যায় ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৮:৫৭:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫২২ বার পড়া হয়েছে

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন না করায় দুই দেশের মধ্যকার প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তিটি ভেস্তে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

 

ব্যবসায়িক ও প্রযুক্তিবিষয়ক মার্কিন পডকাস্ট ‘অল-ইন’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লুটনিক বলেন, চুক্তিটি সম্পন্ন করার জন্য সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত ছিল। কিন্তু চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে প্রধানমন্ত্রী মোদির পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একটি ফোন করার প্রয়োজন ছিল। লুটনিকের দাবি, ভারত সরকার সম্ভবত বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিতে ছিল, তাই মোদি শেষ পর্যন্ত ফোন করেননি।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরই ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একটি বাণিজ্য চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল। কিন্তু যোগাযোগের ঘাটতির কারণে শেষ মুহূর্তে আলোচনা ভেস্তে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতের এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলতে মোদি দ্বিধাবোধ করছিলেন। তার আশঙ্কা ছিল, একতরফা কথোপকথনে ট্রাম্প তাকে কোনও কঠিন শর্তের মুখে ফেলে দিতে পারেন।

 

এ বিষয়ে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বাণিজ্য আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় গত বছরের আগস্টে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশ করেন ট্রাম্প, যা বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ শুল্ক হার। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানির পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সম্প্রতি ট্রাম্প আবারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ভারত যদি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি না কমায়, তবে এই শুল্কের হার আরও বাড়ানো হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থানের প্রভাবে ভারতীয় রুপির মান রেকর্ড নিচে নেমে গেছে। একটি দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্য চুক্তির জন্য অপেক্ষায় থাকা বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও এর ফলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

লুটনিক জানিয়েছেন, ভারত বর্তমানে এমন এক শুল্ক কাঠামো চাইছে যা ব্রিটেন ও ভিয়েতনামকে দেওয়া মার্কিন প্রস্তাবের মাঝামাঝি। তবে যুক্তরাষ্ট্র আগে এই প্রস্তাব দিলেও এখন সেটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ-চীনের ওপর নজর রাখতে পশ্চিমবঙ্গে ভারতের নৌঘাঁটি

মোদি ট্রাম্পকে ফোন না করায় ভেস্তে যায় ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি

আপডেট সময় ০৮:৫৭:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন না করায় দুই দেশের মধ্যকার প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তিটি ভেস্তে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

 

ব্যবসায়িক ও প্রযুক্তিবিষয়ক মার্কিন পডকাস্ট ‘অল-ইন’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লুটনিক বলেন, চুক্তিটি সম্পন্ন করার জন্য সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত ছিল। কিন্তু চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে প্রধানমন্ত্রী মোদির পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একটি ফোন করার প্রয়োজন ছিল। লুটনিকের দাবি, ভারত সরকার সম্ভবত বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিতে ছিল, তাই মোদি শেষ পর্যন্ত ফোন করেননি।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরই ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একটি বাণিজ্য চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল। কিন্তু যোগাযোগের ঘাটতির কারণে শেষ মুহূর্তে আলোচনা ভেস্তে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতের এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলতে মোদি দ্বিধাবোধ করছিলেন। তার আশঙ্কা ছিল, একতরফা কথোপকথনে ট্রাম্প তাকে কোনও কঠিন শর্তের মুখে ফেলে দিতে পারেন।

 

এ বিষয়ে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বাণিজ্য আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় গত বছরের আগস্টে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশ করেন ট্রাম্প, যা বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ শুল্ক হার। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানির পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সম্প্রতি ট্রাম্প আবারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ভারত যদি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি না কমায়, তবে এই শুল্কের হার আরও বাড়ানো হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থানের প্রভাবে ভারতীয় রুপির মান রেকর্ড নিচে নেমে গেছে। একটি দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্য চুক্তির জন্য অপেক্ষায় থাকা বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও এর ফলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

লুটনিক জানিয়েছেন, ভারত বর্তমানে এমন এক শুল্ক কাঠামো চাইছে যা ব্রিটেন ও ভিয়েতনামকে দেওয়া মার্কিন প্রস্তাবের মাঝামাঝি। তবে যুক্তরাষ্ট্র আগে এই প্রস্তাব দিলেও এখন সেটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।