আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতার পরও কয়েকটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে থাকায় চাপে পড়েছে দলটি। এ পরিস্থিতিতে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া নেতাদের গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পর্যায়ক্রমে ডাকা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। বিএনপির একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ একে একরামুজ্জামান। সাক্ষাতের পর এক ভিডিও বার্তায় তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান।
ভিডিও বার্তায় একরামুজ্জামান বলেন, “২০০৪ সাল থেকে ২০ বছরের বেশি সময় ধরে বিএনপির পতাকাতলে ছিলাম। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত নেত্রী খালেদা জিয়ার সম্মানে ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের সমর্থনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে দাখিলকৃত আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি আপনাদের কাছে দোয়াপ্রার্থী যেকোনো পরিস্থিতিতে যেন আপনাদের পাশে থাকতে পারি।” উল্লেখ্য, একরামুজ্জামান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর আগে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে একাধিকবার নির্বাচন করেন। নবম ও একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে পরাজিত হলেও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন।
এদিকে ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুর্শিদা খাতুন (মুর্শিদা জামান পপি) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তিনি জেলা বিএনপির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুজ্জামান বেল্টুর স্ত্রী। বৃহস্পতিবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনটি বিএনপি তাদের মিত্র দল গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিকে ছেড়ে দেয়। ওই আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি এমএ খালেক স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
তবে বুধবার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এমএ খালেক। এ সাক্ষাতের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনসহ বিভিন্ন আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নিয়ে দলের ভেতরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির নেতারা মনে করছেন, এমএ খালেকসহ আরও কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। সেখানে তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী দলের সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর। দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার তাকেও গুলশান কার্যালয়ে ডেকে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান কথা বলেছেন।
মাদারীপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্বাহী কমিটির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান পলাশ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে সৃষ্ট জাতীয় শোকের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি পূর্ণ রাজনৈতিক আনুগত্য রেখে আমি আসন্ন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
সুনামগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরীও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য এবং ছাতক উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান। ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “আমি আপনাদের ভালোবাসায় সাড়া দিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৫ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোয়নপত্র দাখিল করেছিলাম। কিন্তু আমার শ্রদ্ধেয় অভিভাবক বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব আমাকে গতকাল তার গুলশান কার্যালয়ে ডেকে দল ও দেশের স্বার্থে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেছেন। আপনাদের ভালোবাসা ও আবেগ আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তবুও দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারকের অনুরোধ উপেক্ষা করে আমার জন্য অনেক কঠিন। এমতাবস্থায় আমি আমার মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জানি আমার এ সিদ্ধান্তে অনেকেই মনে কষ্ট পাবেন, বিরক্ত হবেন। কারণ ইতিমধ্যে আমার জন্য আপনারা অসম্ভব ত্যাগ শিকার করেছেন। আমি আপনাদের সীমাহীন ত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। দেশ ও দলের এই ক্রান্তিলগ্নে দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নিয়েছি।”


























