ঢাকা ০৯:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ায় এবি পার্টির সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন মঞ্জু

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৫:২২:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫১১ বার পড়া হয়েছে

এবার জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে যোগ দেওয়ায় ক্ষমা চেয়েছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সিটিজেনম প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় এবি পার্টি জনমানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, একটি নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা আপনাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। নির্বাচনী রাজনীতির উত্তাপে আমাদের একটি বড় রাজনৈতিক জোটে যোগ দিতে হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে আপনাদের অনেকেই কষ্ট পেয়েছেন। আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা চাই। মঞ্জু উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে জানতে চান তারা তার ক্ষমা গ্রহণ করেছেন কি না, তখন সমস্বরে ‘না’ ধ্বনি ওঠে। এই প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, যখন কেউ ক্ষমা চায়, তখন ক্ষমা করা উচিত। ক্ষমা না করা এখন একটি নেতিবাচক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।

এদিকে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মঞ্জু বলেন, নির্বাচনী বাস্তবতা ছোট দলগুলোর জন্য অত্যন্ত কঠিন। এই বাস্তবতায় বড় দলের সঙ্গে জোট না করে ছোট দলগুলোর টিকে থাকা কঠিন। তবুও, জামায়াতের জোটে যোগ দেওয়ার দায়ের ৬০ শতাংশ আমরা নিজেরাই নিচ্ছি। সাধারণ জনগণকে আমরা দোষারোপ করব না। এ সময় সিটিজেনস প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রশ্ন করেন— কেন এবি পার্টি নতুন কোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে? এর জবাবে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, একটি ছোট দল হিসেবে আমাদের সেই সামর্থ্য ছিল না। ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট দেওয়া থেকে শুরু করে পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা— এককভাবে এসব করা আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না।

হতাশা প্রকাশ করে মঞ্জু বলেন, দলের নেতাকর্মীরা নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমান ও বিদ্রুপের শিকার হচ্ছেন। মানুষ আমাদের নিয়ে ঠাট্টা করে— সবাই মিলেও কি ১০০ ভোট পাবে? আমরা আদৌ দল গঠন বা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্য কি না— এমন প্রশ্ন তোলে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তাসনিম জারার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সবার ক্ষেত্রে এমন সুযোগ থাকে না। জারার আলাদা একটি পটভূমি আছে এবং তার শক্তিশালী মিডিয়া সমর্থন রয়েছে। তারপরও তিনি এক শতাংশ সমর্থনও নিশ্চিত করতে পারেননি। যাদের এ ধরনের সুবিধা নেই, তারা চাইলেও দল ছেড়ে একা নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন না।

রাজনৈতিক সংস্কার প্রসঙ্গে মঞ্জু বলেন, আমরা ভুল করব, আপনারা তা ধরিয়ে দেবেন, আর আমরা তা সংশোধন করব—এটাই নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত। দেশ পরিচালনায় সংসদ সদস্যদের চেয়ে সৎ জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোনো এলাকায় ডিসি ও এসপি সৎ হলে দেশের ৭০ শতাংশ কাজ সেখানেই সম্পন্ন হয়ে যায়। এমপিরা সেখানে অপরিহার্য নন। মঞ্জু বলেন, তিনি তার নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের আশ্বস্ত করেছেন যে নির্বাচিত হলে তিনি ডিসি ও এসপিদের কাজে হস্তক্ষেপ করবেন না। তিনি বলেন, মানুষ তাত্ত্বিক বিতর্ক বোঝে না। তারা চায় ভালো রাস্তা, ঘরের জন্য টিন, টুপি আর কম্বল।

জনপ্রিয় সংবাদ

আমরা এক ইঞ্চিও নড়ব না, ভারতে যাব না: বিসিবি সহসভাপতি

জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ায় এবি পার্টির সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন মঞ্জু

আপডেট সময় ০৫:২২:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

এবার জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে যোগ দেওয়ায় ক্ষমা চেয়েছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সিটিজেনম প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় এবি পার্টি জনমানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, একটি নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা আপনাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। নির্বাচনী রাজনীতির উত্তাপে আমাদের একটি বড় রাজনৈতিক জোটে যোগ দিতে হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে আপনাদের অনেকেই কষ্ট পেয়েছেন। আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা চাই। মঞ্জু উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে জানতে চান তারা তার ক্ষমা গ্রহণ করেছেন কি না, তখন সমস্বরে ‘না’ ধ্বনি ওঠে। এই প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, যখন কেউ ক্ষমা চায়, তখন ক্ষমা করা উচিত। ক্ষমা না করা এখন একটি নেতিবাচক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।

এদিকে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মঞ্জু বলেন, নির্বাচনী বাস্তবতা ছোট দলগুলোর জন্য অত্যন্ত কঠিন। এই বাস্তবতায় বড় দলের সঙ্গে জোট না করে ছোট দলগুলোর টিকে থাকা কঠিন। তবুও, জামায়াতের জোটে যোগ দেওয়ার দায়ের ৬০ শতাংশ আমরা নিজেরাই নিচ্ছি। সাধারণ জনগণকে আমরা দোষারোপ করব না। এ সময় সিটিজেনস প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রশ্ন করেন— কেন এবি পার্টি নতুন কোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে? এর জবাবে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, একটি ছোট দল হিসেবে আমাদের সেই সামর্থ্য ছিল না। ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট দেওয়া থেকে শুরু করে পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা— এককভাবে এসব করা আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না।

হতাশা প্রকাশ করে মঞ্জু বলেন, দলের নেতাকর্মীরা নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমান ও বিদ্রুপের শিকার হচ্ছেন। মানুষ আমাদের নিয়ে ঠাট্টা করে— সবাই মিলেও কি ১০০ ভোট পাবে? আমরা আদৌ দল গঠন বা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্য কি না— এমন প্রশ্ন তোলে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তাসনিম জারার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সবার ক্ষেত্রে এমন সুযোগ থাকে না। জারার আলাদা একটি পটভূমি আছে এবং তার শক্তিশালী মিডিয়া সমর্থন রয়েছে। তারপরও তিনি এক শতাংশ সমর্থনও নিশ্চিত করতে পারেননি। যাদের এ ধরনের সুবিধা নেই, তারা চাইলেও দল ছেড়ে একা নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন না।

রাজনৈতিক সংস্কার প্রসঙ্গে মঞ্জু বলেন, আমরা ভুল করব, আপনারা তা ধরিয়ে দেবেন, আর আমরা তা সংশোধন করব—এটাই নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত। দেশ পরিচালনায় সংসদ সদস্যদের চেয়ে সৎ জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোনো এলাকায় ডিসি ও এসপি সৎ হলে দেশের ৭০ শতাংশ কাজ সেখানেই সম্পন্ন হয়ে যায়। এমপিরা সেখানে অপরিহার্য নন। মঞ্জু বলেন, তিনি তার নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের আশ্বস্ত করেছেন যে নির্বাচিত হলে তিনি ডিসি ও এসপিদের কাজে হস্তক্ষেপ করবেন না। তিনি বলেন, মানুষ তাত্ত্বিক বিতর্ক বোঝে না। তারা চায় ভালো রাস্তা, ঘরের জন্য টিন, টুপি আর কম্বল।