এবার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মাসেই এক অভাবনীয় সাফল্যের মুখ দেখলো নতুন সরকার। গত ৩০ দিনে বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সীমান্ত পরিস্থিতির বিপরীতে এই ‘জিরো ফিগার’ বা শূন্য প্রাণহানিকে সরকারের কঠোর নেতৃত্ব ও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এক মাসের এই খতিয়ান জনমনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
এদিকে সীমান্তের বর্তমান এই শান্ত রূপ বিগত বছরগুলোর তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যমতে, বিদায়ী ২০২৫ সালে সীমান্তে বিএসএফ–এর গুলিতে অন্তত ৩৪ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন, যা ছিলো গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এমনকি চলতি বছরের জানুয়ারিতেও তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছিলো। সেই বিভীষিকাময় প্রেক্ষাপট পেরিয়ে গত এক মাস সীমান্তে বিএসএফ–এর অস্ত্র নীরব থাকাকে একটি যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সরকারের পক্ষ থেকে নয়াদিল্লিকে দেওয়া কঠোর কূটনৈতিক বার্তার কারণেই সীমান্ত পরিস্থিতির এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বিনা কারণে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধে সরকারের অনড় অবস্থানের ফলে বিএসএফ আগের চেয়ে সংযত আচরণ করছে। একই সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অধিকতর সতর্ক ও স্বপ্রণোদিত ভূমিকা পালন করছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে চোরাচালান ও মানব পাচারবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে বাহিনীটি। গত এক মাসে বিজিবি প্রায় ২০০ কোটি টাকার চোরাই পণ্য, ২০টি বিদেশি অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ মাদকসহ দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে।
সীমান্ত হত্যা চিরতরে শূন্যে নামিয়ে আনতে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ এবং বিজিবি সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এই শান্ত পরিস্থিতিতে এখনই আত্মতুষ্টিতে ভুগতে নারাজ বিজিবি। এই ধারা অব্যাহত রাখতে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অবৈধ অনুপ্রবেশ থেকে বিরত থাকা এবং সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার কর্মীরাও সরকারের প্রথম মাসের এই সাফল্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। সরকার আশা করছে, এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে সীমান্ত অচিরেই শান্তি ও সহযোগিতার প্রতীকে পরিণত হবে।























