নির্বাচনে জয়–পরাজয় যাই হোক না কেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সুষ্ঠু ও সফল নির্বাচন নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
রোববার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জামায়াতে ইসলামীর চার সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। বৈঠকে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন দলের শীর্ষ নেতারা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, মিয়া গোলাম পরওয়ার ও রফিকুল ইসলাম খান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের সময় স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ভূত যেকোনো বিরোধ নিরসনে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া নির্বাচন উপলক্ষে একটি হটলাইন চালু থাকবে, যেখানে সব ধরনের অভিযোগ গ্রহণ করা হবে।
তিনি জানান, অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রকে দ্রুত সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে এবং জানুয়ারির মধ্যেই এসব ক্যামেরা ইনস্টল সম্পন্ন হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য থাকবে বডি ক্যামেরা, যা কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটর করা হবে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ফুটেজ সংরক্ষণ করা হবে।
গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচারণা প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে—এতে কোনো আইনগত বাধা নেই। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বই হলো সংস্কারের পক্ষে থাকা।
বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা জানান, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে তারা পূর্ণোদ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন। একইসঙ্গে গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে প্রচারণাও চলবে।
প্রধান উপদেষ্টা দৃঢ়ভাবে বলেন, “যে যাই বলুক না কেন, ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে। এবারের নির্বাচন কোনো গোজামিলের নির্বাচন হবে না। সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দল—সবার।”
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, শিল্প, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, সড়ক, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।




















