ঢাকা ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে বিরোধ, ৩০ ঘণ্টা পর বাবার মরদেহ দাফন

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১১:২৪:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫২৬ বার পড়া হয়েছে

এবার কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধের মরদেহ প্রায় ৩০ ঘণ্টা দাফন ছাড়া থাকার পর অবশেষে সমঝোতার মাধ্যমে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে লিখিত চুক্তিতে দুই পক্ষের স্বাক্ষরের পর দাফন সম্পন্ন হয়। নাগেশ্বরী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পয়রাডাঙ্গা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজিজার রহমান (৭৫) মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। পরদিন বুধবার বেলা ১১টায় জানাজা নির্ধারণ করে এলাকায় মাইকিং করা হয়। তবে সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে নির্ধারিত সময়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জীবদ্দশায় আজিজার রহমান বাড়িভিটাসহ স্থাবরঅস্থাবর সম্পত্তি দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে রফিকুল ইসলাম ওরফে টাইগারের নামে লিখে দেন। এ নিয়ে প্রথম পক্ষের ছেলে আবদুল হাকিমের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। বুধবার সকালে জানাজায় অংশ নিতে এলাকাবাসী জড়ো হলে হাকিম সম্পত্তির সমবণ্টনের দাবি তুলে দাফনে আপত্তি জানান। ফলে জানাজা স্থগিত হয়ে যায় এবং মরদেহ কাফন পরানো অবস্থায় বাড়ির আঙিনায় রাখা ছিল।

প্রতিবেশী খয়বর আলী আক্কাছ আলী, রফিকুল ইসলাম, আজিজুল হক সহ উপস্থিত অনেকেই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এনিয়ে এই সম্পত্তি নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এলাকাবাসী জানাজায় অংশ নিতে এলে প্রথম স্ত্রীর সন্তানরা দাফনে আপত্তি জানায়। তারা দাবি জানান, বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি সমানভাবে বণ্টন এবং প্রয়োজনীয় দলিল সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় তারা জানাজা ও দাফন করতে দেবেন না। 

দিনভর স্থানীয় মুরব্বি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা দুই পক্ষকে নিয়ে একাধিক দফায় বৈঠক করেন। সন্ধ্যার পরও সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত রাত ১০টার দিকে সালিশ বৈঠকে সমঝোতা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বসতভিটার ২১ শতাংশ জমির মধ্যে দুই ভাই ৮ শতাংশ করে পাবেন এবং অবশিষ্ট অংশ বোনের জন্য বরাদ্দ থাকবে। আবাদি জমি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বণ্টনের বিষয়েও একমত হন তারা। এ বিষয়ে স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামায় উভয় পক্ষ স্বাক্ষর করেন। সমঝোতার পর রাত ১১টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। এ বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লা হিল জামান জানান, এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ হয়নি এবং বিষয়টি তার জানা নেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইফতারের আগে যেভাবে চাইলে রোজাদারের দোয়া কবুল হয়

সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে বিরোধ, ৩০ ঘণ্টা পর বাবার মরদেহ দাফন

আপডেট সময় ১১:২৪:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এবার কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধের মরদেহ প্রায় ৩০ ঘণ্টা দাফন ছাড়া থাকার পর অবশেষে সমঝোতার মাধ্যমে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে লিখিত চুক্তিতে দুই পক্ষের স্বাক্ষরের পর দাফন সম্পন্ন হয়। নাগেশ্বরী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পয়রাডাঙ্গা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজিজার রহমান (৭৫) মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। পরদিন বুধবার বেলা ১১টায় জানাজা নির্ধারণ করে এলাকায় মাইকিং করা হয়। তবে সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে নির্ধারিত সময়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জীবদ্দশায় আজিজার রহমান বাড়িভিটাসহ স্থাবরঅস্থাবর সম্পত্তি দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে রফিকুল ইসলাম ওরফে টাইগারের নামে লিখে দেন। এ নিয়ে প্রথম পক্ষের ছেলে আবদুল হাকিমের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। বুধবার সকালে জানাজায় অংশ নিতে এলাকাবাসী জড়ো হলে হাকিম সম্পত্তির সমবণ্টনের দাবি তুলে দাফনে আপত্তি জানান। ফলে জানাজা স্থগিত হয়ে যায় এবং মরদেহ কাফন পরানো অবস্থায় বাড়ির আঙিনায় রাখা ছিল।

প্রতিবেশী খয়বর আলী আক্কাছ আলী, রফিকুল ইসলাম, আজিজুল হক সহ উপস্থিত অনেকেই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এনিয়ে এই সম্পত্তি নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এলাকাবাসী জানাজায় অংশ নিতে এলে প্রথম স্ত্রীর সন্তানরা দাফনে আপত্তি জানায়। তারা দাবি জানান, বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি সমানভাবে বণ্টন এবং প্রয়োজনীয় দলিল সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় তারা জানাজা ও দাফন করতে দেবেন না। 

দিনভর স্থানীয় মুরব্বি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা দুই পক্ষকে নিয়ে একাধিক দফায় বৈঠক করেন। সন্ধ্যার পরও সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত রাত ১০টার দিকে সালিশ বৈঠকে সমঝোতা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বসতভিটার ২১ শতাংশ জমির মধ্যে দুই ভাই ৮ শতাংশ করে পাবেন এবং অবশিষ্ট অংশ বোনের জন্য বরাদ্দ থাকবে। আবাদি জমি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বণ্টনের বিষয়েও একমত হন তারা। এ বিষয়ে স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামায় উভয় পক্ষ স্বাক্ষর করেন। সমঝোতার পর রাত ১১টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। এ বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লা হিল জামান জানান, এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ হয়নি এবং বিষয়টি তার জানা নেই।