প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পিলখানায় সংঘটিত সেনা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা–সার্বভৌমত্ববিরোধী তৎপরতা বিদ্যমান ছিল। পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জাতীয় শহীদ সেনা দিবস (২৫ ফেব্রুয়ারি) উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নাগরিক হিসেবে বিষয়টি সবার উপলব্ধিতে থাকা জরুরি। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের কাছে পিলখানার হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এখন বোধগম্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের পর নানা ধরনের মিথ্যা ও অপতথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, সশস্ত্র বাহিনী একটি স্বাধীন দেশের মর্যাদা, বীরত্ব ও গৌরবের প্রতীক। ভবিষ্যতে যেন কেউ সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে না পারে, সে জন্য পুনরায় শপথে বলীয়ান হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থবিরোধী যে কোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াবে—এই হোক শহীদ সেনা দিবসের প্রত্যয়। পিলখানায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার ঘটনায় গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। তাদের আশঙ্কা, অদৃশ্য কোনো শক্তির চাপে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারেরও দাবি জানিয়েছেন তারা। ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’-কে ‘সি’ গ্রেড থেকে ‘এ’ গ্রেডে উন্নীত করে ‘শোক দিবস’ ঘোষণারও দাবি তাদের।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়। ঘটনার ১৭ বছর পরও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে অপেক্ষায় আছেন শহীদদের স্বজনরা। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পিলখানার হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন ১১ মাস তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ডের পেছনে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার নাম উঠে এসেছে বলে জানা যায়। সমন্বয়কারী হিসেবে ফজলে নূর তাপসের নামও উল্লেখ রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা। এছাড়া, ভারত এ ঘটনা থেকে সুবিধা পেয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি সামরিকভাবে মোকাবিলা না করে কেন রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হয়েছিল, কেন সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও তা ব্যবহার করা হয়নি, প্রশাসনের ভূমিকা কী ছিল, পুলিশ, র্যাব ও ডিজিএফআইসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা কী ছিল— এসব বিষয়ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে, প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তা এখনো জনসম্মুখে প্রকাশ না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। তাদের মতে, প্রতিবেদনে কী আছে তা জাতির সামনে প্রকাশ না করার পেছনে অদৃশ্য শক্তির প্রভাব থাকতে পারে। একই সঙ্গে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা। জাতীয় শহীদ সেনা দিবসকে ‘এ’ গ্রেডে উন্নীত করার পাশাপাশি শহীদ সেনাদের গেজেট প্রকাশের দাবিও জানিয়েছেন স্বজনরা।



















