জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সিলেট সফরে গিয়ে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেননি। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ তাকে আনতে যাওয়া সরকারি গাড়ি ফিরিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘১২ তারিখের পরে চড়ব।’
বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর এদিন প্রথমবারের মতো সিলেটে যান তিনি। তাকে নিতে বিমানবন্দর এলাকায় সিলেট প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি গাড়ি পাঠানো হয়। তবে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে শফিকুর রহমান প্রশ্ন করেন, ‘এটা কি সরকারি গাড়ি? আমি ১২ তারিখের পরে চড়ব। আপনারা আসেন, আমি কৃতজ্ঞ। আমি পাওয়ার এক্সারসাইজ করতে চাই না।’ উল্লেখ্য, আগামী ১২ মার্চ থেকে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হবে।
দুপুরে সিলেটের একটি কমিউনিটি সেন্টারে জেলা জামায়াত আয়োজিত ‘শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য শিক্ষা শিবির’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি। পরে নগরের কুদরতউল্লাহ মসজিদ-এ জুমার নামাজ আদায় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন, সরকারি দলের মন্ত্রীদের ‘কাঁচা কথাবার্তা’ সমাজকে অস্থির করে তুলছে এবং অপরাধ উসকে দিচ্ছে। দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য চলতে থাকলে দেশ কীভাবে ভালো দিকে যাবে— এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি। সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘কালোকে কালো, সাদাকে সাদা বলবেন। আমার বিরুদ্ধেও কিছু পেলে বলবেন।’
তিনি আরও বলেন, মিডিয়ার ভূমিকা হতে হবে ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ। সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়া যেমন প্রয়োজন, তেমনি অকারণে প্রশংসাও ক্ষতিকর। ‘নিউজ আর ভিউজ আলাদা। নিউজে যা আছে তাই দিন; ভিউজ সমাজ নেবে কি নেবে না, সেটা সমাজের সিদ্ধান্ত,’ যোগ করেন তিনি।
বিকেলে সিলেট প্রেস ক্লাব আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, সরকারি দলের দায়িত্ব হচ্ছে ইতিবাচক ধারার রাজনীতির সুযোগ তৈরি করা। সংসদের ভেতরে কিংবা বাইরে সংঘাতের মধ্যে দেশের কোনো উপকার নেই। বরং জনগণকে ধারণ করে সমন্বয়ের রাজনীতি করতে পারলেই দেশ লাভবান হবে।
তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল মানে সবকিছুতে বিরোধিতা, আর সরকারি দল মানে সবকিছুতে দমন— এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। দমনও চলবে না, অন্ধ বিরোধিতাও চলবে না। এই দুইয়ের সমন্বয় আমরা দেখতে চাই।’
সিলেটে ইতিবাচক ও সমন্বয়ের রাজনীতির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সংসদে গেলে বা সিলেটে এলে আমার পরিচয় একটাই— আমি আপনাদের মানুষ।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, প্রত্যাশিত ফল না এলেও এবার তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচনকে অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করা হয়নি— এটিকে তিনি ইতিবাচক রাজনীতির দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখেন। একই সঙ্গে সরকারি দলের প্রতি বিরোধী দলের গঠনমূলক রাজনীতির সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।





















