ঢাকা ১১:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিত্রদেশের স্যাটেলাইট কিনে মার্কিন ঘাঁটি নজরদারি করেছে ইরান, চালিয়েছে নিখুঁত হামলা

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১১:৫৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১৭ বার পড়া হয়েছে

এবার মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর অবস্থান নজরদারিতে রাখতে ইরান একটি চীনা নির্মিত স্যাটেলাইট ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘টিইই০১বিনামের এই স্যাটেলাইটটি চীনা প্রতিষ্ঠান আর্থ আই কোম্পানি তৈরি ও উৎক্ষেপণ করে। পরে এটি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আর্থ আই কোম্পানিইনঅরবিট ডেলিভারিনামে একটি তুলনামূলকভাবে অপ্রচলিত রপ্তানি মডেলের আওতায় কাজ করে। এ ব্যবস্থায় চীনে উৎক্ষেপণের পর মহাকাশে সফলভাবে কক্ষপথে পৌঁছানোর পর স্যাটেলাইট বিদেশি ক্রেতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানি কমান্ডাররা এই স্যাটেলাইটকে মধ্যপ্রাচ্যে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেন। চুক্তির অংশ হিসেবে আইআরজিসি বেইজিংভিত্তিক স্যাটেলাইট সেবা প্রদানকারী এম্পোসাট পরিচালিত বাণিজ্যিক গ্রাউন্ড স্টেশন নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুযোগও পায়, যার কার্যক্রম এশিয়া, লাতিন আমেরিকা এবং অন্যান্য অঞ্চলে বিস্তৃত। প্রতিবেদনে বলা হয়, গুপ্তচর স্যাটেলাইটটি ১৩, ১৪ ও ১৫ মার্চ সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির চিত্র ধারণ করে। ১৪ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেন, সেখানে অবস্থানরত মার্কিন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি, বাহরাইনের মানামায় অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরের আশপাশ এবং ইরাকের এরবিল বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকাও পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই সময়গুলোতেই আইআরজিসি এসব এলাকায় হামলার দাবি করেছিল।

স্যাটেলাইটটির নজরদারির আওতা আরও বিস্তৃত ছিল। এতে কুয়েতের ক্যাম্প বুহরিং ও আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি, জিবুতির ক্যাম্প লেমনিয়ার এবং ওমানের দুকম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের খোর ফাক্কান বন্দর ও কিদফা বিদ্যুৎ ও লবণাক্ততা পানি পরিশোধন কেন্দ্র এবং বাহরাইনের বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী কারখানা আলবা অ্যালুমিনিয়াম প্ল্যান্টের মতো উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক অবকাঠামো ছিল নজরদারিতে। একজন সাবেক পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘চীনের কোনো প্রতিষ্ঠান সরকারের অনুমোদন ছাড়া এমন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে পারে,এটা বিশ্বাস করা কঠিন। অনেক দিন ধরেই স্পষ্ট যে চীন ইরানকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে, তবে সরকারের হস্তক্ষেপ গোপন রাখার চেষ্টা করছে দেশটি।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে, যেখানে ইরান বারবার প্রতিবেশী দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, সেখানে আইআরজিসির এই স্যাটেলাইট ব্যবহারের খবর উপসাগরীয় অঞ্চলে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই উদ্বেগ দিন দিন আরও বাড়ছে, কারণ চীন এই অঞ্চলের সঙ্গে গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে। দেশটি এই অঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার এবং তেলের বৃহত্তম ক্রেতা।

এদিকে এর আগের কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েলের ইরানে বোমা হামলা শুরু হওয়ার পর ইরান রাশিয়ার স্যাটেলাইট গোয়েন্দা তথ্যেও প্রবেশাধিকার পেয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানকে কোনো ধরনের সামরিক সহায়তা দেয়ার অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মার্কিন সরকারের মতে, চীন দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে সমর্থন করে আসছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে ব্যবহারযোগ্য দ্বৈতব্যবহারযোগ্য শিল্প উপাদান দিয়ে সহায়তা করে আসছে তাদের মিত্র ইরানকে। সূত্র: এনডিটিভি

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক আইআরজিসি প্রধান কেন চান যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘স্থল আক্রমণ’ চালাক

মিত্রদেশের স্যাটেলাইট কিনে মার্কিন ঘাঁটি নজরদারি করেছে ইরান, চালিয়েছে নিখুঁত হামলা

আপডেট সময় ১১:৫৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

এবার মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর অবস্থান নজরদারিতে রাখতে ইরান একটি চীনা নির্মিত স্যাটেলাইট ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘টিইই০১বিনামের এই স্যাটেলাইটটি চীনা প্রতিষ্ঠান আর্থ আই কোম্পানি তৈরি ও উৎক্ষেপণ করে। পরে এটি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আর্থ আই কোম্পানিইনঅরবিট ডেলিভারিনামে একটি তুলনামূলকভাবে অপ্রচলিত রপ্তানি মডেলের আওতায় কাজ করে। এ ব্যবস্থায় চীনে উৎক্ষেপণের পর মহাকাশে সফলভাবে কক্ষপথে পৌঁছানোর পর স্যাটেলাইট বিদেশি ক্রেতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানি কমান্ডাররা এই স্যাটেলাইটকে মধ্যপ্রাচ্যে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেন। চুক্তির অংশ হিসেবে আইআরজিসি বেইজিংভিত্তিক স্যাটেলাইট সেবা প্রদানকারী এম্পোসাট পরিচালিত বাণিজ্যিক গ্রাউন্ড স্টেশন নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুযোগও পায়, যার কার্যক্রম এশিয়া, লাতিন আমেরিকা এবং অন্যান্য অঞ্চলে বিস্তৃত। প্রতিবেদনে বলা হয়, গুপ্তচর স্যাটেলাইটটি ১৩, ১৪ ও ১৫ মার্চ সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির চিত্র ধারণ করে। ১৪ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেন, সেখানে অবস্থানরত মার্কিন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি, বাহরাইনের মানামায় অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরের আশপাশ এবং ইরাকের এরবিল বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকাও পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই সময়গুলোতেই আইআরজিসি এসব এলাকায় হামলার দাবি করেছিল।

স্যাটেলাইটটির নজরদারির আওতা আরও বিস্তৃত ছিল। এতে কুয়েতের ক্যাম্প বুহরিং ও আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি, জিবুতির ক্যাম্প লেমনিয়ার এবং ওমানের দুকম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের খোর ফাক্কান বন্দর ও কিদফা বিদ্যুৎ ও লবণাক্ততা পানি পরিশোধন কেন্দ্র এবং বাহরাইনের বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী কারখানা আলবা অ্যালুমিনিয়াম প্ল্যান্টের মতো উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক অবকাঠামো ছিল নজরদারিতে। একজন সাবেক পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘চীনের কোনো প্রতিষ্ঠান সরকারের অনুমোদন ছাড়া এমন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে পারে,এটা বিশ্বাস করা কঠিন। অনেক দিন ধরেই স্পষ্ট যে চীন ইরানকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে, তবে সরকারের হস্তক্ষেপ গোপন রাখার চেষ্টা করছে দেশটি।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে, যেখানে ইরান বারবার প্রতিবেশী দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, সেখানে আইআরজিসির এই স্যাটেলাইট ব্যবহারের খবর উপসাগরীয় অঞ্চলে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই উদ্বেগ দিন দিন আরও বাড়ছে, কারণ চীন এই অঞ্চলের সঙ্গে গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে। দেশটি এই অঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার এবং তেলের বৃহত্তম ক্রেতা।

এদিকে এর আগের কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েলের ইরানে বোমা হামলা শুরু হওয়ার পর ইরান রাশিয়ার স্যাটেলাইট গোয়েন্দা তথ্যেও প্রবেশাধিকার পেয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানকে কোনো ধরনের সামরিক সহায়তা দেয়ার অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মার্কিন সরকারের মতে, চীন দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে সমর্থন করে আসছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে ব্যবহারযোগ্য দ্বৈতব্যবহারযোগ্য শিল্প উপাদান দিয়ে সহায়তা করে আসছে তাদের মিত্র ইরানকে। সূত্র: এনডিটিভি