ঢাকা ০৪:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক আইআরজিসি প্রধান কেন চান যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘স্থল আক্রমণ’ চালাক

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৪:০১:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৩২ বার পড়া হয়েছে

এবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একজন ঊর্ধ্বতন সামরিক উপদেষ্টা সতর্ক করেছেন যে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো তাদেরআক্রমণের আওতার মধ্যেরয়েছে। যা জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে। ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর সাবেক সর্বাধিনায়ক মোহসেন রেজাই টেলিভিশনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌচলাচল প্রতিবন্ধকতা চালিয়ে যায়, তবে তেহরান মার্কিন জাহাজ ডুবিয়ে দেবে। গত মাসে খামেনি রেজাইকে সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করেন। ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীর পুলিশ হতে চান। এটা কি সত্যিই আপনার কাজ? যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনীর কি এটাই কাজ?’ তিনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন। ইরানের একজন প্রবীণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব রেজাই ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত আইআরজিসির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

সামরিক পোশাক পরা অবস্থায় রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, ‘সম্ভবত আমাদের ভাইয়েরা লঞ্চারগুলো সরিয়ে নিয়েছে এবং এখন সেগুলো আব্রাহাম লিঙ্কন ও সমস্ত আমেরিকান যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে তাক করা হয়েছে। আপনাদের এই জাহাজগুলো আমাদের প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রেই ডুবে যাবে এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর জন্য এক বিরাট বিপদ সৃষ্টি হবে। এগুলো অবশ্যই আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় আসতে পারে এবং আমরা সবগুলো ধ্বংস করে দিতে পারি। আমরা একটিকেও আমাদের হাত থেকে পালাতে দেব না।বলেন রেজাই।

ইরানে ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা মার্কিনইসরাইলি হামলার পর তেহরান হরমুজে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে সামরিক অবরোধ আরোপ করে। বর্তমানে এই সংঘাতে একটি ভঙ্গুর দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। এদিকে, ইরানের আদর্শিক সেনাবাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ডসের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একজন কট্টরপন্থি হিসেবে বিবেচিত রেজাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে স্থল অভিযান চালায় তবে তাদারুণহবে, কারণআমরা হাজার হাজার সেনাকে জিম্মি করে রাখব, এবং তারপর প্রতিটি জিম্মির জন্য এক বিলিয়ন ডলার পাব।

রেজাই দাবি করেছেন, তিনি যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর পক্ষে একেবারেই নন, তবে তিনি এও যোগ করেন যে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। তবে রেজাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনায় ইরানি কর্মকর্তাদের আগের চেয়ে আরও বেশি সতর্ক হওয়ার আহ্বানও জানান। প্রতিবেদন অনুসারে, রেজাই বলেন, ‘অবিরাম যুদ্ধকে ভয় পাওয়া আমেরিকানদের মতো নয়, আমরা একটি দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত এবং এতে অভ্যস্ত।সূত্র: এনডিটিভি

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক আইআরজিসি প্রধান কেন চান যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘স্থল আক্রমণ’ চালাক

সাবেক আইআরজিসি প্রধান কেন চান যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘স্থল আক্রমণ’ চালাক

আপডেট সময় ০৪:০১:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

এবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একজন ঊর্ধ্বতন সামরিক উপদেষ্টা সতর্ক করেছেন যে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো তাদেরআক্রমণের আওতার মধ্যেরয়েছে। যা জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে। ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর সাবেক সর্বাধিনায়ক মোহসেন রেজাই টেলিভিশনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌচলাচল প্রতিবন্ধকতা চালিয়ে যায়, তবে তেহরান মার্কিন জাহাজ ডুবিয়ে দেবে। গত মাসে খামেনি রেজাইকে সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করেন। ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীর পুলিশ হতে চান। এটা কি সত্যিই আপনার কাজ? যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনীর কি এটাই কাজ?’ তিনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন। ইরানের একজন প্রবীণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব রেজাই ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত আইআরজিসির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

সামরিক পোশাক পরা অবস্থায় রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, ‘সম্ভবত আমাদের ভাইয়েরা লঞ্চারগুলো সরিয়ে নিয়েছে এবং এখন সেগুলো আব্রাহাম লিঙ্কন ও সমস্ত আমেরিকান যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে তাক করা হয়েছে। আপনাদের এই জাহাজগুলো আমাদের প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রেই ডুবে যাবে এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর জন্য এক বিরাট বিপদ সৃষ্টি হবে। এগুলো অবশ্যই আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় আসতে পারে এবং আমরা সবগুলো ধ্বংস করে দিতে পারি। আমরা একটিকেও আমাদের হাত থেকে পালাতে দেব না।বলেন রেজাই।

ইরানে ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা মার্কিনইসরাইলি হামলার পর তেহরান হরমুজে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে সামরিক অবরোধ আরোপ করে। বর্তমানে এই সংঘাতে একটি ভঙ্গুর দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। এদিকে, ইরানের আদর্শিক সেনাবাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ডসের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একজন কট্টরপন্থি হিসেবে বিবেচিত রেজাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে স্থল অভিযান চালায় তবে তাদারুণহবে, কারণআমরা হাজার হাজার সেনাকে জিম্মি করে রাখব, এবং তারপর প্রতিটি জিম্মির জন্য এক বিলিয়ন ডলার পাব।

রেজাই দাবি করেছেন, তিনি যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর পক্ষে একেবারেই নন, তবে তিনি এও যোগ করেন যে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। তবে রেজাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনায় ইরানি কর্মকর্তাদের আগের চেয়ে আরও বেশি সতর্ক হওয়ার আহ্বানও জানান। প্রতিবেদন অনুসারে, রেজাই বলেন, ‘অবিরাম যুদ্ধকে ভয় পাওয়া আমেরিকানদের মতো নয়, আমরা একটি দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত এবং এতে অভ্যস্ত।সূত্র: এনডিটিভি