ঢাকা ০৬:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশের ৯৯ শতাংশ সদস্যই সৎ ও দায়িত্বশীল: আইজিপি

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১০:১২:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫২৩ বার পড়া হয়েছে

পুলিশের ৯৯ শতাংশ সদস্যই সৎ ও দায়িত্বশীল বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, অল্প কিছু অনিয়ম যাতে পুরো বাহিনীর ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সেজন্য অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার করতে হবে। সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত সিআইডির দুই দিনব্যাপী ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা (জানুয়ারিমার্চ ২০২৬)-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  আইজিপি বলেন, নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তিকে আরও শক্তিশালী ও জনবান্ধব করতে। সম্প্রতি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং সময় অতিক্রম করছে, তবে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। একটি সফল জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করার মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা নতুন করে আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছে এবং জনগণের প্রশংসা কুড়িয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সিআইডি দেশের অপরাধ তদন্ত ব্যবস্থায় এপেক্স সংস্থা হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে জানিয়ে আইজিপি আরও বলেন, সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা, আইনগত ক্ষমতা ও দায়িত্ববোধ দেশের বিচার ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করে তুলছে। তিনি সকল সদস্যকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা প্রদর্শনের আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক কর্মকর্তাসদস্যকে নিজ কর্মক্ষেত্রকে দায়িত্ব ও সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে। সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা অত্যন্ত উচ্চ। তাই তদন্তের গতি, গুণগত মান ও সময়মতো নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে আরও পেশাদার ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ কর্তৃক মামলার অগ্রগতি তদারকির পাশাপাশি তদন্তকারী কর্মকর্তারাও দায়িত্ববোধ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেনএমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। পুলিশ বাহিনীর নৈতিকতা ও সততা প্রশ্নবিদ্ধ হলে পুরো প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ, অনিয়ম বা অনৈতিক কার্যকলাপ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থেকে পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

আইজিপি অপরাধের মূল কারণ বিশ্লেষণ করে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে রেসপন্স টিম সর্বদা প্রস্তুত রাখতে হবে। মাদক ও সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধেজিরো টলারেন্সনীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, পুলিশের ৯৯ শতাংশ সদস্যই সৎ ও দায়িত্বশীল। অল্প কিছু অনিয়ম যাতে পুরো বাহিনীর ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সেজন্য অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার করতে হবে। পুলিশকে জনগণের আস্থা ও সম্মানের জায়গায় আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সিআইডির প্রচেষ্টাকে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, বিপিএমসেবা। তিনি প্রধান অতিথিকে স্বাগত জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, গত দুই দিনের ক্রাইম কনফারেন্সে জেলা পর্যায়, বিশেষায়িত ইউনিট ও সদর দপ্তরের সকল ইউনিট তাদের কার্যক্রম, অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে। আলোচনা থেকে প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে একটি বাস্তবসম্মত ফলোআপ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা আগামী তিন মাসে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একজন সদস্যের ভুলে পুরো সিআইডি তথা পুলিশ বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ন হোকএটি গ্রহণযোগ্য নয়। তাই সকলকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল থেকে নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে।

সিআইডি প্রধান আরও বলেন, পুলিশ বাহিনী সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জিং সময় সফলভাবে অতিক্রম করেছে, সফল জাতীয় নির্বাচন সম্পাদন তার একটি প্রমাণ। অতীতের চ্যালেঞ্জিং সময়কে পেছনে ফেলে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।আমরা পারবো, এবং আমাদের পারতেই হবে”- এই দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। ক্রাইম সিন ব্যবস্থাপনায় কুইক রেসপন্স টিম গঠন, বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্ত পদ্ধতি অনুসরণ করার নির্দেশনাও দেন তিনি। অনুষ্ঠানের শেষে সিআইডির বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তাদের কৃতিত্বপূর্ণ ও সাহসী কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার প্রদান করা হয়। সিআইডি প্রধান বলেন, কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ব্যবস্থাকে সামনে আরও বিস্তৃত করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকার দুই মাসের মধ্যে জনগণকে রাজপথে আসতে বাধ্য করছে: এটিএম আজহার

পুলিশের ৯৯ শতাংশ সদস্যই সৎ ও দায়িত্বশীল: আইজিপি

আপডেট সময় ১০:১২:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

পুলিশের ৯৯ শতাংশ সদস্যই সৎ ও দায়িত্বশীল বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, অল্প কিছু অনিয়ম যাতে পুরো বাহিনীর ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সেজন্য অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার করতে হবে। সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত সিআইডির দুই দিনব্যাপী ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা (জানুয়ারিমার্চ ২০২৬)-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  আইজিপি বলেন, নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তিকে আরও শক্তিশালী ও জনবান্ধব করতে। সম্প্রতি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং সময় অতিক্রম করছে, তবে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। একটি সফল জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করার মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা নতুন করে আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছে এবং জনগণের প্রশংসা কুড়িয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সিআইডি দেশের অপরাধ তদন্ত ব্যবস্থায় এপেক্স সংস্থা হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে জানিয়ে আইজিপি আরও বলেন, সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা, আইনগত ক্ষমতা ও দায়িত্ববোধ দেশের বিচার ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করে তুলছে। তিনি সকল সদস্যকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা প্রদর্শনের আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক কর্মকর্তাসদস্যকে নিজ কর্মক্ষেত্রকে দায়িত্ব ও সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে। সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা অত্যন্ত উচ্চ। তাই তদন্তের গতি, গুণগত মান ও সময়মতো নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে আরও পেশাদার ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ কর্তৃক মামলার অগ্রগতি তদারকির পাশাপাশি তদন্তকারী কর্মকর্তারাও দায়িত্ববোধ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেনএমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। পুলিশ বাহিনীর নৈতিকতা ও সততা প্রশ্নবিদ্ধ হলে পুরো প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ, অনিয়ম বা অনৈতিক কার্যকলাপ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থেকে পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

আইজিপি অপরাধের মূল কারণ বিশ্লেষণ করে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে রেসপন্স টিম সর্বদা প্রস্তুত রাখতে হবে। মাদক ও সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধেজিরো টলারেন্সনীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, পুলিশের ৯৯ শতাংশ সদস্যই সৎ ও দায়িত্বশীল। অল্প কিছু অনিয়ম যাতে পুরো বাহিনীর ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সেজন্য অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার করতে হবে। পুলিশকে জনগণের আস্থা ও সম্মানের জায়গায় আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সিআইডির প্রচেষ্টাকে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, বিপিএমসেবা। তিনি প্রধান অতিথিকে স্বাগত জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, গত দুই দিনের ক্রাইম কনফারেন্সে জেলা পর্যায়, বিশেষায়িত ইউনিট ও সদর দপ্তরের সকল ইউনিট তাদের কার্যক্রম, অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে। আলোচনা থেকে প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে একটি বাস্তবসম্মত ফলোআপ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা আগামী তিন মাসে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একজন সদস্যের ভুলে পুরো সিআইডি তথা পুলিশ বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ন হোকএটি গ্রহণযোগ্য নয়। তাই সকলকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল থেকে নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে।

সিআইডি প্রধান আরও বলেন, পুলিশ বাহিনী সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জিং সময় সফলভাবে অতিক্রম করেছে, সফল জাতীয় নির্বাচন সম্পাদন তার একটি প্রমাণ। অতীতের চ্যালেঞ্জিং সময়কে পেছনে ফেলে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।আমরা পারবো, এবং আমাদের পারতেই হবে”- এই দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। ক্রাইম সিন ব্যবস্থাপনায় কুইক রেসপন্স টিম গঠন, বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্ত পদ্ধতি অনুসরণ করার নির্দেশনাও দেন তিনি। অনুষ্ঠানের শেষে সিআইডির বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তাদের কৃতিত্বপূর্ণ ও সাহসী কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার প্রদান করা হয়। সিআইডি প্রধান বলেন, কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ব্যবস্থাকে সামনে আরও বিস্তৃত করা হবে।