ঢাকা ০৫:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অস্ত্র রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে দিল জাপান সরকার

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১২:১৮:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫২২ বার পড়া হয়েছে

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করা শান্তিপূর্ণ নীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে জাপান। দেশটি এখন থেকে যুদ্ধাস্ত্র বিদেশে রপ্তানির অনুমতি দিচ্ছে। যার মধ্যে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধজাহাজও থাকতে পারে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে টাকাইচির নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।

এর মাধ্যমে জাপানের প্রতিরক্ষা নীতি বড় ধরনের পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে এমনটাই জানা যায়। সরকার জানিয়েছে, এখন থেকে জাপানে তৈরি সব ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম শর্তসাপেক্ষে বিদেশে বিক্রি করা যাবে। তবে এসব অস্ত্র জাতিসংঘ সনদ মেনে ব্যবহারের নিশ্চয়তা থাকতে হবে। টাকাইচি বলেন, ‘কঠিন নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কোনো দেশ একা নিজের শান্তি রক্ষা করতে পারে না।

আগে জাপানে ১৯৬৭ ও ১৯৭৬ সালের নীতির কারণে শুধুমাত্র অঘাতক সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির অনুমতি ছিল। যেমন নজরদারি বা মাইন অপসারণ যন্ত্র। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অন্তত ১৭টি দেশ জাপানের অস্ত্র কিনতে পারবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া উল্লেখযোগ্য। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ইতোমধ্যে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ চুক্তিও করেছে জাপান।

তবে জাপান জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে থাকা দেশে অস্ত্র রপ্তানি সাধারণত নিষিদ্ধ থাকবে। কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হতে পারে। এদিকে টাকাইচির এই সিদ্ধান্তের মধ্যেই তিনি টোকিওর বিতর্কিত ইয়াসুকুনি মন্দিরে প্রার্থনাসংক্রান্ত উপহার পাঠিয়েছেন বলে খবর প্রকাশ হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নিহতদের স্মরণে তৈরি এই মন্দিরে যুদ্ধাপরাধে দোষী সাব্যস্ত কয়েকজন ব্যক্তির নাম রয়েছে। যা প্রতিবেশী চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে সংবেদনশীল বিষয়।

বিশ্লেষকদের মতে, টাকাইচি প্রশাসন জাপানের দীর্ঘদিনের শান্তিপূর্ণ অবস্থান থেকে ধীরে ধীরে সরে এসে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা নীতির দিকে এগোচ্ছে। যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে। সূত্র: আল জাজিরা

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকার দুই মাসের মধ্যে জনগণকে রাজপথে আসতে বাধ্য করছে: এটিএম আজহার

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অস্ত্র রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে দিল জাপান সরকার

আপডেট সময় ১২:১৮:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করা শান্তিপূর্ণ নীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে জাপান। দেশটি এখন থেকে যুদ্ধাস্ত্র বিদেশে রপ্তানির অনুমতি দিচ্ছে। যার মধ্যে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধজাহাজও থাকতে পারে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে টাকাইচির নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।

এর মাধ্যমে জাপানের প্রতিরক্ষা নীতি বড় ধরনের পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে এমনটাই জানা যায়। সরকার জানিয়েছে, এখন থেকে জাপানে তৈরি সব ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম শর্তসাপেক্ষে বিদেশে বিক্রি করা যাবে। তবে এসব অস্ত্র জাতিসংঘ সনদ মেনে ব্যবহারের নিশ্চয়তা থাকতে হবে। টাকাইচি বলেন, ‘কঠিন নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কোনো দেশ একা নিজের শান্তি রক্ষা করতে পারে না।

আগে জাপানে ১৯৬৭ ও ১৯৭৬ সালের নীতির কারণে শুধুমাত্র অঘাতক সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির অনুমতি ছিল। যেমন নজরদারি বা মাইন অপসারণ যন্ত্র। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অন্তত ১৭টি দেশ জাপানের অস্ত্র কিনতে পারবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া উল্লেখযোগ্য। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ইতোমধ্যে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ চুক্তিও করেছে জাপান।

তবে জাপান জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে থাকা দেশে অস্ত্র রপ্তানি সাধারণত নিষিদ্ধ থাকবে। কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হতে পারে। এদিকে টাকাইচির এই সিদ্ধান্তের মধ্যেই তিনি টোকিওর বিতর্কিত ইয়াসুকুনি মন্দিরে প্রার্থনাসংক্রান্ত উপহার পাঠিয়েছেন বলে খবর প্রকাশ হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নিহতদের স্মরণে তৈরি এই মন্দিরে যুদ্ধাপরাধে দোষী সাব্যস্ত কয়েকজন ব্যক্তির নাম রয়েছে। যা প্রতিবেশী চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে সংবেদনশীল বিষয়।

বিশ্লেষকদের মতে, টাকাইচি প্রশাসন জাপানের দীর্ঘদিনের শান্তিপূর্ণ অবস্থান থেকে ধীরে ধীরে সরে এসে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা নীতির দিকে এগোচ্ছে। যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে। সূত্র: আল জাজিরা