এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সময় ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ বাড়ানোর ঘোষণা দেয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে একটি কনটেইনারবাহী জাহাজে গুলি চালিয়েছে ইরান। এতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন করে তীব্র হয়ে উঠেছে। ব্রিটিশ সামরিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৭টা ৫৫ মিনিটে ইরানের ইসলামিক রেভলুশ্যনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একটি গানবোট কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই জাহাজটিতে গুলি চালায়। এতে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং পরিবেশগত ক্ষতিও হয়নি। খবর এনডিটিভির।
এদিকে হামলার ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন পাকিস্তানে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির আলোচনা বাস্তবায়িত হয়নি এবং ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ট্রাম্প তার ঘোষণায় বলেন, একটি ‘সমন্বিত প্রস্তাব’ না আসা পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বহাল থাকবে। তবে তেহরান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ইরানের সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, এই হামলা ‘আইনসম্মতভাবে’ হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অংশ। উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা এটিকে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও চাপ বাড়িয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি হরমুজে সামরিক ‘অবরোধ’ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও উভয় পক্ষের সামরিক পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে–এই সংঘাত এখনো ‘নীরব উত্তেজনার’ মধ্যে রয়েছে এবং যে কোনো সময় তা সর্বাত্মক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
























