ঢাকা ০৫:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিউজিল্যান্ডের মসজিদে ৫১ মুসল্লিকে হত্যা: আদালতে আসামির আপিল খারিজ

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০২:৩৯:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫২৫ বার পড়া হয়েছে

এবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে গুলি করে ৫১ মুসল্লিকে হত্যা করা শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী ব্রেন্টন ট্যারান্টের (৩৫) করা আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) আদালত জানায়, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে দোষ স্বীকারের সিদ্ধান্ত বাতিলের তার এই আবেদন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনজন বিচারকের একটি বেঞ্চ বলেছে, ট্যারান্ট ২০২২ সালের নভেম্বরে অর্থাৎ ৫০৫ কার্যদিবস দেরিতে তার আপিল দাখিল করেন। গত ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ দিনব্যাপী শুনানিতে বিবাদী পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, তিনি স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করেননি। বরং কারাগারের কঠোর পরিবেশই তাকে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করেছিল।

বিচারকরা আইনজীবীদের যুক্তি গ্রহণ করেননি। আদালত বলেছে, অস্ট্রেলীয় ওই ব্যক্তির বক্তব্য অসংগতিপূর্ণ। কারাগারের নথি, মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিবেদন ও তার আগের আইনজীবীদের সাক্ষ্য অনুযায়ী তার বক্তব্য ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারকরা লিখেছেন, তিনি এমন কোনো মানসিক রোগে ভুগছিলেন না, যার কারণে স্বেচ্ছায় নিজের দোষ স্বীকার করতে পারতেন না। অন্যান্য প্রমাণাদি এটাই প্রমাণ করে যে, তিনি দোষ স্বীকার করার বিষয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন। তাকে কোনো জবরদস্তি বা চাপ দেওয়া হয়নি। কিন্তু আপিল আবেদনে তিনি তার মানসিক অবস্থা সম্পর্কে অসত্য তথ্য দিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন।

আদালত আরও জানায়, ট্যারান্ট তার আইনজীবীদেরও মামলা পরিচালনার দায়িত্ব থেকে বাদ দিয়েছেন। বিচারকরা বলেছেন, সমাজের স্বার্থ, বিশেষ করে ভুক্তভোগীদের স্বার্থে আপিলের জন্য আরও সময় না দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জোরালো। এর অর্থ হলো তার আপিল আবেদনের প্রক্রিয়া এখানেই শেষ হচ্ছে। ২০১৯ সালের ২৩ মার্চ জুমার আমাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে সেমিঅটোমেটিক অস্ত্র দিয়ে গুলি চালায় ট্যারান্ট। গুলির ঘটনায় অন্তত ৫১ জন মুসল্লি নিহত হন এবং কয়েক ডজন আহত হন। এ ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২০ সালের মার্চে মসজিদে ঘটানো হত্যাকাণ্ডের দোষ স্বীকার করেন ট্যারান্ট।

ওই বছর আগস্ট মাসে তাকে প্যারোলের কোনো সুযোগ ছাড়াই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ফলে তাকে যাবজ্জীবন কারাগারেই থাকতে হবে। বর্তমানে তিনি অকল্যান্ড কারাগারেই রয়েছেন। জানা যায়, অস্ট্রেলিয়ায় জন্মগ্রহণকারী ওই ব্যক্তি ২০১৭ সালে গণগুলি চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে নিউজিল্যান্ডে যান। হামলার আগে তিনি বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র জোগাড় করেন এবং পরিকল্পিত অপরাধের স্থানগুলো রেকি করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

আগামী ২৫ বছর গ্রীষ্মকালে হবে না পবিত্র হজ

নিউজিল্যান্ডের মসজিদে ৫১ মুসল্লিকে হত্যা: আদালতে আসামির আপিল খারিজ

আপডেট সময় ০২:৩৯:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

এবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে গুলি করে ৫১ মুসল্লিকে হত্যা করা শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী ব্রেন্টন ট্যারান্টের (৩৫) করা আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) আদালত জানায়, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে দোষ স্বীকারের সিদ্ধান্ত বাতিলের তার এই আবেদন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনজন বিচারকের একটি বেঞ্চ বলেছে, ট্যারান্ট ২০২২ সালের নভেম্বরে অর্থাৎ ৫০৫ কার্যদিবস দেরিতে তার আপিল দাখিল করেন। গত ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ দিনব্যাপী শুনানিতে বিবাদী পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, তিনি স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করেননি। বরং কারাগারের কঠোর পরিবেশই তাকে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করেছিল।

বিচারকরা আইনজীবীদের যুক্তি গ্রহণ করেননি। আদালত বলেছে, অস্ট্রেলীয় ওই ব্যক্তির বক্তব্য অসংগতিপূর্ণ। কারাগারের নথি, মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিবেদন ও তার আগের আইনজীবীদের সাক্ষ্য অনুযায়ী তার বক্তব্য ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারকরা লিখেছেন, তিনি এমন কোনো মানসিক রোগে ভুগছিলেন না, যার কারণে স্বেচ্ছায় নিজের দোষ স্বীকার করতে পারতেন না। অন্যান্য প্রমাণাদি এটাই প্রমাণ করে যে, তিনি দোষ স্বীকার করার বিষয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন। তাকে কোনো জবরদস্তি বা চাপ দেওয়া হয়নি। কিন্তু আপিল আবেদনে তিনি তার মানসিক অবস্থা সম্পর্কে অসত্য তথ্য দিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন।

আদালত আরও জানায়, ট্যারান্ট তার আইনজীবীদেরও মামলা পরিচালনার দায়িত্ব থেকে বাদ দিয়েছেন। বিচারকরা বলেছেন, সমাজের স্বার্থ, বিশেষ করে ভুক্তভোগীদের স্বার্থে আপিলের জন্য আরও সময় না দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জোরালো। এর অর্থ হলো তার আপিল আবেদনের প্রক্রিয়া এখানেই শেষ হচ্ছে। ২০১৯ সালের ২৩ মার্চ জুমার আমাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে সেমিঅটোমেটিক অস্ত্র দিয়ে গুলি চালায় ট্যারান্ট। গুলির ঘটনায় অন্তত ৫১ জন মুসল্লি নিহত হন এবং কয়েক ডজন আহত হন। এ ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২০ সালের মার্চে মসজিদে ঘটানো হত্যাকাণ্ডের দোষ স্বীকার করেন ট্যারান্ট।

ওই বছর আগস্ট মাসে তাকে প্যারোলের কোনো সুযোগ ছাড়াই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ফলে তাকে যাবজ্জীবন কারাগারেই থাকতে হবে। বর্তমানে তিনি অকল্যান্ড কারাগারেই রয়েছেন। জানা যায়, অস্ট্রেলিয়ায় জন্মগ্রহণকারী ওই ব্যক্তি ২০১৭ সালে গণগুলি চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে নিউজিল্যান্ডে যান। হামলার আগে তিনি বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র জোগাড় করেন এবং পরিকল্পিত অপরাধের স্থানগুলো রেকি করেন।