ঢাকা ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামায়াতের টার্গেট ১৫০ আসনে জয়

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৯:৩০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৫৪ বার পড়া হয়েছে

দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গত ৩ অক্টোবর খুলনার এক সমাবেশে শরিক দলের জন্য ১০০ আসন ছাড়ের যে বক্তব্য দেন, সেটিকে এখন ‘ব্যক্তিগত মত’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন জামায়াতের নেতারা। তার ওই মন্তব্যে দলের ভেতরে কিছুটা অসন্তোষও তৈরি হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “সেক্রেটারি জেনারেল সমাবেশে যা বলেছেন, তা দলীয়ভাবে কোনো আলোচনা হয়নি।” তিনি জানান, শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে সমমনা দলগুলোর সঙ্গে এখনো দেনদরবার চলছে।

জামায়াতের দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সাংগঠনিক শক্তিকে সর্বোচ্চ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ন্যূনতম ১৮৫টি আসনে জয়ের লক্ষ্য থাকলেও অন্তত ১৫০ আসনে জেতার মতো শক্তিশালী, জনপ্রিয় ও যোগ্য প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নতুন ভোটার ও তরুণদের কাছে পৌঁছাতে দল বিশেষ কৌশল নিয়েছে। বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের পক্ষে সংগীত, প্যারোডি গান তৈরি হচ্ছে। প্রার্থীরা ব্যাপক মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করলেও সম্প্রতি জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান এসব শোভাযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

তপশিল ঘোষণার পর প্রার্থী চূড়ান্ত নিয়ে আট দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জানান, গত বছর থেকে জামায়াত ছয় দফায় গোপনে জরিপ করেছে, যার সমন্বয় করেছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা। এখন আট দলের সমন্বয় কমিটিও আরেক দফা জরিপ চালাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য—ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা। এতে প্রার্থীরা আগেভাগেই মাঠে নামার সময় পাবেন। বেশিরভাগ আসনে প্রাথমিক প্রার্থীর তালিকা তৈরি হয়ে গেছে। জনপ্রিয়তা, স্থানীয় সম্পর্ক, অভিজ্ঞতা এবং জয়ের সম্ভাবনা মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন বলেন, “কোন আসনে কোন দলের প্রার্থী শক্তিশালী—তা নিয়ে আলোচনাই চলছে। জোটের সর্বোচ্চসংখ্যক প্রার্থীকে জিতিয়ে সংসদে নিতে চাই।”

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব কাজী নিজামুল হক নাঈম জানান, আসন ভাগাভাগি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত আলোচনায় পৌঁছানো যায়নি। তাদের দল দুটি আসনে লড়তে পারে। তিনি বলেন, “নির্দিষ্ট কোনো দলের জন্য স্থায়ীভাবে আসন বরাদ্দ নেই—যার জয়ের সম্ভাবনা বেশি তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।”

জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, “জামায়াতসহ আট দলের মধ্যে এখনো আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হয়নি। আলোচনা চলছে, আমরা সর্বোচ্চ ছাড় দিতে প্রস্তুত।” জাগপা চারটি আসনে লড়ার আশা করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোটে ‘না’ পাস হলে গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে: নাহিদ ইসলাম

জামায়াতের টার্গেট ১৫০ আসনে জয়

আপডেট সময় ০৯:৩০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গত ৩ অক্টোবর খুলনার এক সমাবেশে শরিক দলের জন্য ১০০ আসন ছাড়ের যে বক্তব্য দেন, সেটিকে এখন ‘ব্যক্তিগত মত’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন জামায়াতের নেতারা। তার ওই মন্তব্যে দলের ভেতরে কিছুটা অসন্তোষও তৈরি হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “সেক্রেটারি জেনারেল সমাবেশে যা বলেছেন, তা দলীয়ভাবে কোনো আলোচনা হয়নি।” তিনি জানান, শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে সমমনা দলগুলোর সঙ্গে এখনো দেনদরবার চলছে।

জামায়াতের দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সাংগঠনিক শক্তিকে সর্বোচ্চ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ন্যূনতম ১৮৫টি আসনে জয়ের লক্ষ্য থাকলেও অন্তত ১৫০ আসনে জেতার মতো শক্তিশালী, জনপ্রিয় ও যোগ্য প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নতুন ভোটার ও তরুণদের কাছে পৌঁছাতে দল বিশেষ কৌশল নিয়েছে। বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের পক্ষে সংগীত, প্যারোডি গান তৈরি হচ্ছে। প্রার্থীরা ব্যাপক মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করলেও সম্প্রতি জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান এসব শোভাযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

তপশিল ঘোষণার পর প্রার্থী চূড়ান্ত নিয়ে আট দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জানান, গত বছর থেকে জামায়াত ছয় দফায় গোপনে জরিপ করেছে, যার সমন্বয় করেছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা। এখন আট দলের সমন্বয় কমিটিও আরেক দফা জরিপ চালাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য—ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা। এতে প্রার্থীরা আগেভাগেই মাঠে নামার সময় পাবেন। বেশিরভাগ আসনে প্রাথমিক প্রার্থীর তালিকা তৈরি হয়ে গেছে। জনপ্রিয়তা, স্থানীয় সম্পর্ক, অভিজ্ঞতা এবং জয়ের সম্ভাবনা মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন বলেন, “কোন আসনে কোন দলের প্রার্থী শক্তিশালী—তা নিয়ে আলোচনাই চলছে। জোটের সর্বোচ্চসংখ্যক প্রার্থীকে জিতিয়ে সংসদে নিতে চাই।”

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব কাজী নিজামুল হক নাঈম জানান, আসন ভাগাভাগি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত আলোচনায় পৌঁছানো যায়নি। তাদের দল দুটি আসনে লড়তে পারে। তিনি বলেন, “নির্দিষ্ট কোনো দলের জন্য স্থায়ীভাবে আসন বরাদ্দ নেই—যার জয়ের সম্ভাবনা বেশি তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।”

জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, “জামায়াতসহ আট দলের মধ্যে এখনো আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হয়নি। আলোচনা চলছে, আমরা সর্বোচ্চ ছাড় দিতে প্রস্তুত।” জাগপা চারটি আসনে লড়ার আশা করছে।