ঢাকা ০১:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইসলামি দলগুলোর ঐক্য রক্ষায় ৯০ আসন ছাড়তে পারে জামায়াত

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৯:৩৯:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ৭০৭ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য পূর্ণাঙ্গ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি এবার এককভাবে নয়, বরং আট দলের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি ইনক্লুসিভ ইলেকশন প্যানেল গঠনের চেষ্টা করছে। এতে নারী, হিন্দু, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও ছাত্রসংসদ থেকে আসা নতুন মুখ যুক্ত হতে পারে। ফলে প্রাথমিকভাবে ঘোষিত ৩০০ আসনের তালিকা থেকে ৬০ থেকে ৯০ জন প্রার্থী বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানায়।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নতুনভাবে বিভিন্ন সম্প্রদায় ও ছাত্রনেতাদের যুক্ত করার পরিকল্পনা থাকায় আগের কিছু প্রার্থী স্বাভাবিকভাবেই বাদ পড়তে পারেন। সমঝোতা তালিকায় বিভিন্ন দলের গ্রহণযোগ্যতা, জনপ্রিয়তা এবং জয়ের সম্ভাবনার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াসির আরাফাত বলেন, প্রাথমিক তালিকা থেকে ৬০ থেকে ৯০ আসনে প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে। ইনক্লুসিভ প্যানেলে নারী ও সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেই এই সামঞ্জস্য আনা হচ্ছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে সহযোগী আট দলের আলোচনা শেষে।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, আমাদের ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সক্ষমতা আছে এবং প্রাথমিকভাবে প্রার্থীও ঘোষণা করেছি। কিন্তু ইসলামী দলগুলোর ঐক্যের স্বার্থে আমরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। কোনো আসনে আমাদের প্রার্থীর জনপ্রিয়তা বেশি হলেও সমঝোতার প্রয়োজনে তা ছাড়তে হতে পারে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং কওমি ঘরানার দলগুলোর প্রভাব যেসব এলাকায় বেশি, যেমন মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী, চরমোনাই, হাটহাজারী, ছারছিনা, সেখানে সমঝোতার অংশ হিসেবে জামায়াত প্রার্থী না-ও দিতে পারে। এসব এলাকায় কওমি প্রভাবশালী দলের জনসমর্থন বিবেচনাই হবে মূল বিষয়।

জামায়াতসহ বর্তমানে আট দল একসঙ্গে কাজ করলেও অতিরিক্ত আরও দুটি দল জোটে যুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে নবীন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), যারা ৩০০ আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকলেও জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা করছে। তবে এনসিপির অভ্যন্তরীণ বিভক্তির কারণে সিদ্ধান্তে বারবার পরিবর্তন আসছে, ফলে জোটে যুক্ত হওয়ার অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। যদি এনসিপি জোটে আসে, তবে তাদের আসন দাবির কারণে জামায়াতকে আরও বেশি আসন ছাড়তে হতে পারে।

ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই সম্ভাব্য চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবে জামায়াতে ইসলামি। দলটির নেতারা বলছেন, ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ঐক্য গঠনের লক্ষ্যেই এই ইনক্লুসিভ প্যানেল এবং সে জন্য প্রয়োজনীয় ত্যাগ দলটি মেনে নিতে প্রস্তুত।

জনপ্রিয় সংবাদ

আইন লঙ্ঘন করে সীমান্তে বিএসএফের সড়ক নির্মাণ নিয়ে বিজিবি–বিএসএফ পতাকা বৈঠক

ইসলামি দলগুলোর ঐক্য রক্ষায় ৯০ আসন ছাড়তে পারে জামায়াত

আপডেট সময় ০৯:৩৯:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য পূর্ণাঙ্গ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি এবার এককভাবে নয়, বরং আট দলের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি ইনক্লুসিভ ইলেকশন প্যানেল গঠনের চেষ্টা করছে। এতে নারী, হিন্দু, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও ছাত্রসংসদ থেকে আসা নতুন মুখ যুক্ত হতে পারে। ফলে প্রাথমিকভাবে ঘোষিত ৩০০ আসনের তালিকা থেকে ৬০ থেকে ৯০ জন প্রার্থী বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানায়।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নতুনভাবে বিভিন্ন সম্প্রদায় ও ছাত্রনেতাদের যুক্ত করার পরিকল্পনা থাকায় আগের কিছু প্রার্থী স্বাভাবিকভাবেই বাদ পড়তে পারেন। সমঝোতা তালিকায় বিভিন্ন দলের গ্রহণযোগ্যতা, জনপ্রিয়তা এবং জয়ের সম্ভাবনার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াসির আরাফাত বলেন, প্রাথমিক তালিকা থেকে ৬০ থেকে ৯০ আসনে প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে। ইনক্লুসিভ প্যানেলে নারী ও সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেই এই সামঞ্জস্য আনা হচ্ছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে সহযোগী আট দলের আলোচনা শেষে।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, আমাদের ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সক্ষমতা আছে এবং প্রাথমিকভাবে প্রার্থীও ঘোষণা করেছি। কিন্তু ইসলামী দলগুলোর ঐক্যের স্বার্থে আমরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। কোনো আসনে আমাদের প্রার্থীর জনপ্রিয়তা বেশি হলেও সমঝোতার প্রয়োজনে তা ছাড়তে হতে পারে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং কওমি ঘরানার দলগুলোর প্রভাব যেসব এলাকায় বেশি, যেমন মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী, চরমোনাই, হাটহাজারী, ছারছিনা, সেখানে সমঝোতার অংশ হিসেবে জামায়াত প্রার্থী না-ও দিতে পারে। এসব এলাকায় কওমি প্রভাবশালী দলের জনসমর্থন বিবেচনাই হবে মূল বিষয়।

জামায়াতসহ বর্তমানে আট দল একসঙ্গে কাজ করলেও অতিরিক্ত আরও দুটি দল জোটে যুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে নবীন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), যারা ৩০০ আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকলেও জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা করছে। তবে এনসিপির অভ্যন্তরীণ বিভক্তির কারণে সিদ্ধান্তে বারবার পরিবর্তন আসছে, ফলে জোটে যুক্ত হওয়ার অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। যদি এনসিপি জোটে আসে, তবে তাদের আসন দাবির কারণে জামায়াতকে আরও বেশি আসন ছাড়তে হতে পারে।

ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই সম্ভাব্য চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবে জামায়াতে ইসলামি। দলটির নেতারা বলছেন, ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ঐক্য গঠনের লক্ষ্যেই এই ইনক্লুসিভ প্যানেল এবং সে জন্য প্রয়োজনীয় ত্যাগ দলটি মেনে নিতে প্রস্তুত।