ঢাকা ১০:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

“তেজগাঁওয়ে খালেদা জিয়ার লাগানো কাঁঠালিচাঁপা গাছ নিখোঁজ: কাটার অভিযোগ ঘিরে নতুন আলোচনা”

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১০:১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৮০ বার পড়া হয়েছে

কাঁঠালিচাঁপা—বেগম খালেদা জিয়ার অত্যন্ত প্রিয় ফুল। ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে নিজ হাতে একটি কাঁঠালিচাঁপার গাছ রোপণ করেছিলেন। তবে ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর খালেদা জিয়ার লাগানো সেই গাছ কেটে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—এমন দাবি শোনা যায় বিভিন্ন সূত্রে। ২০০১ সালে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজ কার্যালয়ে ফিরে এসে গাছটি আর না দেখে খালেদা জিয়া গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছিলেন। তাঁর এই দুঃখের কথা তিনি জানিয়েছিলেন যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমানকে।

বৃহস্পতিবার তেজগাঁও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ঘুরে দেখা যায়—সেই কাঁঠালিচাঁপার গাছটি আর নেই। তবে ঠিক পাশে থাকা স্বর্ণচাঁপার গাছটি এখনো টিকে আছে, যা সেই সময়কার মুখ্য সচিব রোপণ করেছিলেন।

১৯৯১-৯৬ মেয়াদে উপ-প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এক কর্মকর্তা জানান, বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ উপলক্ষে খালেদা জিয়া কাঁঠালিচাঁপার গাছটি লাগিয়েছিলেন। সেসময় কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারাও একটি করে গাছ রোপণ করেছিলেন।

এই বিষয় নিয়ে শফিক রেহমান স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, একবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি প্রথম কাঁঠালিচাঁপার মিষ্টি গন্ধ অনুভব করেন। খালেদা জিয়া হাসিমুখে জানান, সেটি তাঁর প্রিয় কাঁঠালিচাঁপা। সেই থেকেই তিনি খালেদা জিয়ার জন্মদিনে নিয়মিত ফুলটি উপহার দিতেন। কিন্তু ২০০১ সালে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর সামনে কাঁঠালিচাঁপা দেখে খালেদা জিয়া বিষণ্ণ হয়ে জানান—কোনো কারণ ছাড়াই তাঁর লাগানো গাছটি কেটে ফেলা হয়েছিল।

প্রটোকল অফিসার ও সহকারী একান্ত সচিব শামসুল আলম জানান, খালেদা জিয়া অফিসে আসার আগেই তাঁর কক্ষে কাঁচের পাত্রে কাঁঠালিচাঁপার পাপড়ি সাজানো থাকত। সেই সুবাসে পুরো পরিবেশ ভরে যেত।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের আরবোরিকালচার শাখার কর্মকর্তারা জানান, তারা পুরনো মালিদের কাউকে আর পাননি, তবে কাঁঠালিচাঁপার গাছ কেটে ফেলার ঘটনার কথা তারা শুনেছেন। কাঁঠালিচাঁপা ফুলের সুবাস, রঙ ও বৈশিষ্ট্যও তারা ব্যাখ্যা করেন।

ঘুরে দেখা যায়, খালেদা জিয়ার লাগানো ‘বনাশ্রম’ নামের ঔষধি বাগানের ভিত্তিপ্রস্তর এখনো অক্ষত। সেখানে রয়েছে ৮৫ প্রজাতির ৮২৯টি গাছ, যার মধ্যে ফলজ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধন গাছ রয়েছে। ১৯৯৩ সালের সার্ক সম্মেলনে সাত দেশের নেতাদের লাগানো বকুল গাছটিও টিকে আছে।

তবে খালেদা জিয়ার প্রিয় কাঁঠালিচাঁপার গাছটির আর কোনো চিহ্ন নেই—যা নিয়েই নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে জবাব দেবে ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতাইব হিজবুল্লাহ

“তেজগাঁওয়ে খালেদা জিয়ার লাগানো কাঁঠালিচাঁপা গাছ নিখোঁজ: কাটার অভিযোগ ঘিরে নতুন আলোচনা”

আপডেট সময় ১০:১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

কাঁঠালিচাঁপা—বেগম খালেদা জিয়ার অত্যন্ত প্রিয় ফুল। ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে নিজ হাতে একটি কাঁঠালিচাঁপার গাছ রোপণ করেছিলেন। তবে ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর খালেদা জিয়ার লাগানো সেই গাছ কেটে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—এমন দাবি শোনা যায় বিভিন্ন সূত্রে। ২০০১ সালে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজ কার্যালয়ে ফিরে এসে গাছটি আর না দেখে খালেদা জিয়া গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছিলেন। তাঁর এই দুঃখের কথা তিনি জানিয়েছিলেন যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমানকে।

বৃহস্পতিবার তেজগাঁও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ঘুরে দেখা যায়—সেই কাঁঠালিচাঁপার গাছটি আর নেই। তবে ঠিক পাশে থাকা স্বর্ণচাঁপার গাছটি এখনো টিকে আছে, যা সেই সময়কার মুখ্য সচিব রোপণ করেছিলেন।

১৯৯১-৯৬ মেয়াদে উপ-প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এক কর্মকর্তা জানান, বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ উপলক্ষে খালেদা জিয়া কাঁঠালিচাঁপার গাছটি লাগিয়েছিলেন। সেসময় কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারাও একটি করে গাছ রোপণ করেছিলেন।

এই বিষয় নিয়ে শফিক রেহমান স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, একবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি প্রথম কাঁঠালিচাঁপার মিষ্টি গন্ধ অনুভব করেন। খালেদা জিয়া হাসিমুখে জানান, সেটি তাঁর প্রিয় কাঁঠালিচাঁপা। সেই থেকেই তিনি খালেদা জিয়ার জন্মদিনে নিয়মিত ফুলটি উপহার দিতেন। কিন্তু ২০০১ সালে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর সামনে কাঁঠালিচাঁপা দেখে খালেদা জিয়া বিষণ্ণ হয়ে জানান—কোনো কারণ ছাড়াই তাঁর লাগানো গাছটি কেটে ফেলা হয়েছিল।

প্রটোকল অফিসার ও সহকারী একান্ত সচিব শামসুল আলম জানান, খালেদা জিয়া অফিসে আসার আগেই তাঁর কক্ষে কাঁচের পাত্রে কাঁঠালিচাঁপার পাপড়ি সাজানো থাকত। সেই সুবাসে পুরো পরিবেশ ভরে যেত।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের আরবোরিকালচার শাখার কর্মকর্তারা জানান, তারা পুরনো মালিদের কাউকে আর পাননি, তবে কাঁঠালিচাঁপার গাছ কেটে ফেলার ঘটনার কথা তারা শুনেছেন। কাঁঠালিচাঁপা ফুলের সুবাস, রঙ ও বৈশিষ্ট্যও তারা ব্যাখ্যা করেন।

ঘুরে দেখা যায়, খালেদা জিয়ার লাগানো ‘বনাশ্রম’ নামের ঔষধি বাগানের ভিত্তিপ্রস্তর এখনো অক্ষত। সেখানে রয়েছে ৮৫ প্রজাতির ৮২৯টি গাছ, যার মধ্যে ফলজ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধন গাছ রয়েছে। ১৯৯৩ সালের সার্ক সম্মেলনে সাত দেশের নেতাদের লাগানো বকুল গাছটিও টিকে আছে।

তবে খালেদা জিয়ার প্রিয় কাঁঠালিচাঁপার গাছটির আর কোনো চিহ্ন নেই—যা নিয়েই নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়েছে।