ঢাকা ০৯:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের দাবি জামায়াতের, ‘সরকারকে সংকটে ফেলতে চাই না’ — মিয়া গোলাম পরওয়ার

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৫:০৫:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৬৮ বার পড়া হয়েছে

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। একইসঙ্গে তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক করে বলেন, কোনো দলের ষড়যন্ত্রে পা দিয়ে নব্য ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হলে তা প্রতিরোধ করা হবে।

রোববার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে জামায়াতে ইসলামীসহ আন্দোলনরত আট দলের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি দাবি করেন, আট দলীয় জোটে আরও রাজনৈতিক দল যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং এই জোট আরও সম্প্রসারিত হবে। এমন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেখানে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়নের জায়গা থাকবে না, এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলেই দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না—এ নিয়ে জাতির বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আন্দোলনের সময় পাঁচ দফার যেসব দাবি তুলে ধরা হয়েছিল, তার অনেকগুলোই এখনো পূরণ হয়নি। বিশেষ করে জুলাই সনদভিত্তিক সাংবিধানিক সংস্কারগুলো সম্পর্কে জনগণকে যথাযথভাবে অবহিত করা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে। ভোটারদের অংশগ্রহণ কমে যেতে পারে এবং গণভোটের বিষয়গুলো অনেকেই বুঝে উঠতে পারবেন না। তাই জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের নতুন তারিখ ঘোষণার দাবি জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির উদাহরণ হিসেবে খুলনায় আদালতপাড়ায় প্রকাশ্যে দুইজনকে হত্যার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এমন প্রশাসনের অধীনে নির্বাচনের দিন ভোট ডাকাতি বা সহিংসতা না হওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তিনি প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনকে উদাহরণ হিসেবে টেনে তিনি বলেন, অতীতের ভোট ডাকাতির দায়ে বিভিন্ন কর্মকর্তাকে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এবারও জনগণের ভোটাধিকার লুটের চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টরা একই পরিণতির শিকার হবেন বলে সতর্ক করেন তিনি।

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বিভিন্ন খেলাফতপন্থী দল ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টিসহ আট দলের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে মার্কিন নৌবহর ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকি আইআরজিসির

জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের দাবি জামায়াতের, ‘সরকারকে সংকটে ফেলতে চাই না’ — মিয়া গোলাম পরওয়ার

আপডেট সময় ০৫:০৫:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। একইসঙ্গে তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক করে বলেন, কোনো দলের ষড়যন্ত্রে পা দিয়ে নব্য ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হলে তা প্রতিরোধ করা হবে।

রোববার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে জামায়াতে ইসলামীসহ আন্দোলনরত আট দলের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি দাবি করেন, আট দলীয় জোটে আরও রাজনৈতিক দল যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং এই জোট আরও সম্প্রসারিত হবে। এমন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেখানে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়নের জায়গা থাকবে না, এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলেই দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না—এ নিয়ে জাতির বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আন্দোলনের সময় পাঁচ দফার যেসব দাবি তুলে ধরা হয়েছিল, তার অনেকগুলোই এখনো পূরণ হয়নি। বিশেষ করে জুলাই সনদভিত্তিক সাংবিধানিক সংস্কারগুলো সম্পর্কে জনগণকে যথাযথভাবে অবহিত করা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে। ভোটারদের অংশগ্রহণ কমে যেতে পারে এবং গণভোটের বিষয়গুলো অনেকেই বুঝে উঠতে পারবেন না। তাই জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের নতুন তারিখ ঘোষণার দাবি জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির উদাহরণ হিসেবে খুলনায় আদালতপাড়ায় প্রকাশ্যে দুইজনকে হত্যার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এমন প্রশাসনের অধীনে নির্বাচনের দিন ভোট ডাকাতি বা সহিংসতা না হওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তিনি প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনকে উদাহরণ হিসেবে টেনে তিনি বলেন, অতীতের ভোট ডাকাতির দায়ে বিভিন্ন কর্মকর্তাকে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এবারও জনগণের ভোটাধিকার লুটের চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টরা একই পরিণতির শিকার হবেন বলে সতর্ক করেন তিনি।

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বিভিন্ন খেলাফতপন্থী দল ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টিসহ আট দলের নেতারা বক্তব্য রাখেন।