ঢাকা ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিডিআর হত্যাযজ্ঞে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততার প্রমাণ দিয়েছে স্বাধীন তদন্ত কমিশন

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৮:২১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৮৯ বার পড়া হয়েছে

বিডিআর বিদ্রোহের নামে সংঘটিত নৃশংস হত্যাযজ্ঞ নিয়ে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে। রোববার (৩০ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান ও অন্যান্য সদস্যরা এই প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন। এতে আওয়ামী লীগের দলগতভাবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ উঠে এসেছে। একইসঙ্গে তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপসকে ‘মূল সমন্বয়কারী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদন গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতি দীর্ঘদিন অন্ধকারে ছিল। আপনারা সত্য উদ্‌ঘাটনে যে ভূমিকা রেখেছেন, জাতি তা স্মরণে রাখবে।” তিনি আরও বলেন, এই প্রতিবেদন বহু প্রশ্নের অবসান ঘটাবে এবং ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবে।

কমিশন প্রধান জানান, ১৬ বছর আগের ঘটনার বহু আলামত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তদন্ত ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। অনেক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। এরপরও সাক্ষ্যগ্রহণ ও নথি সংগ্রহে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখা হয়েছে। কারও সাক্ষ্য ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত শোনা হয়েছে, আগের সব তদন্ত-নথি সংগ্রহ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডে বহিঃশক্তির পাশাপাশি তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সরাসরি সম্পৃক্ততার শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া গেছে। কেন সেনাবাহিনী অ্যাকশন নেয়নি—এ প্রশ্নেরও উত্তর তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।

কমিশনের সদস্য মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার (অব.) বলেন, হত্যাযজ্ঞটি পরিকল্পিত ছিল এবং এর প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন তৎকালীন এমপি শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগও ঘটনাকে আড়াল করতে সক্রিয় ভূমিকা নেয়। ২০–২৫ জনের একটি মিছিল নিয়ে তারা পিলখানায় ঢোকে; কিন্তু বের হওয়ার সময় সেই সংখ্যা দুই শতাধিক হয়ে যায়।

কমিশন প্রধান জানান, পুরো ঘটনার পেছনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিল—এমন প্রমাণ তাদের হাতে এসেছে। তিনি বলেন, দায় নিরূপণে তৎকালীন সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে সেনাপ্রধান, পুলিশ, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর চরম ব্যর্থতা চিহ্নিত হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, কয়েকটি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং কিছু সাংবাদিকের অপেশাদার আচরণ তখন পরিস্থিতি আরও জটিল করেছিল।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, যেসব বিডিআর সদস্যকে ঘটনার সময় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শেখ হাসিনা সাক্ষাৎ করেছিলেন, তাদের সঠিক পরিচয় কিংবা তথ্য সংরক্ষণ করা হয়নি। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর মধ্যে এমন পরিস্থিতি এড়াতে এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কমিশন বেশ কিছু সুপারিশ দিয়েছে।

কনটেন্ট শুট করতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ আল-আমিন, বারডেমে মৃত্যুশয্যায়

বিডিআর হত্যাযজ্ঞে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততার প্রমাণ দিয়েছে স্বাধীন তদন্ত কমিশন

আপডেট সময় ০৮:২১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

বিডিআর বিদ্রোহের নামে সংঘটিত নৃশংস হত্যাযজ্ঞ নিয়ে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে। রোববার (৩০ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান ও অন্যান্য সদস্যরা এই প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন। এতে আওয়ামী লীগের দলগতভাবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ উঠে এসেছে। একইসঙ্গে তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপসকে ‘মূল সমন্বয়কারী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদন গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতি দীর্ঘদিন অন্ধকারে ছিল। আপনারা সত্য উদ্‌ঘাটনে যে ভূমিকা রেখেছেন, জাতি তা স্মরণে রাখবে।” তিনি আরও বলেন, এই প্রতিবেদন বহু প্রশ্নের অবসান ঘটাবে এবং ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবে।

কমিশন প্রধান জানান, ১৬ বছর আগের ঘটনার বহু আলামত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তদন্ত ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। অনেক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। এরপরও সাক্ষ্যগ্রহণ ও নথি সংগ্রহে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখা হয়েছে। কারও সাক্ষ্য ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত শোনা হয়েছে, আগের সব তদন্ত-নথি সংগ্রহ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডে বহিঃশক্তির পাশাপাশি তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সরাসরি সম্পৃক্ততার শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া গেছে। কেন সেনাবাহিনী অ্যাকশন নেয়নি—এ প্রশ্নেরও উত্তর তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।

কমিশনের সদস্য মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার (অব.) বলেন, হত্যাযজ্ঞটি পরিকল্পিত ছিল এবং এর প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন তৎকালীন এমপি শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগও ঘটনাকে আড়াল করতে সক্রিয় ভূমিকা নেয়। ২০–২৫ জনের একটি মিছিল নিয়ে তারা পিলখানায় ঢোকে; কিন্তু বের হওয়ার সময় সেই সংখ্যা দুই শতাধিক হয়ে যায়।

কমিশন প্রধান জানান, পুরো ঘটনার পেছনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিল—এমন প্রমাণ তাদের হাতে এসেছে। তিনি বলেন, দায় নিরূপণে তৎকালীন সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে সেনাপ্রধান, পুলিশ, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর চরম ব্যর্থতা চিহ্নিত হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, কয়েকটি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং কিছু সাংবাদিকের অপেশাদার আচরণ তখন পরিস্থিতি আরও জটিল করেছিল।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, যেসব বিডিআর সদস্যকে ঘটনার সময় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শেখ হাসিনা সাক্ষাৎ করেছিলেন, তাদের সঠিক পরিচয় কিংবা তথ্য সংরক্ষণ করা হয়নি। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর মধ্যে এমন পরিস্থিতি এড়াতে এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কমিশন বেশ কিছু সুপারিশ দিয়েছে।