ঢাকা ১২:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানকে ঘিরে মন্তব্যে তীব্র সমালোচনার মুখে জামায়াত প্রার্থী শিশির মনির — রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৪:৩৯:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৮৫ বার পড়া হয়েছে

তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে দেওয়া মন্তব্য ঘিরে তীব্র সমালোচনায় জড়িয়েছেন সুনামগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ও সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী শিশির মনির। তিনি ফেসবুকে লিখেছিলেন— “আমি যদি জনাব তারেক রহমান সাহেবের জায়গায় থাকতাম, কোনো কিছু তোয়াক্কা না করে অনেক আগেই মায়ের কাছে চলে আসতাম।” এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও নতুন বিতর্ক।

এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই জানিয়েছেন— দেশে ফেরা তার একক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়; রাজনৈতিক বাস্তবতা ও নিয়ন্ত্রণাধীন অবস্থার কারণে বিষয়টি জটিল। তার মা, ৮১ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় বিষয়টি আরও আলোচনার জন্ম দেয়।

শিশির মনিরের স্ট্যাটাস প্রকাশের পরই নেটদুনিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং পরবর্তীতে তিনি তা মুছেও ফেলেন। এর আগে আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার আসামিদের পক্ষে আইনজীবী হওয়া, পূজামণ্ডপে গিয়ে ‘রোজা ও পূজা মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ’ মন্তব্য, এমনকি আওয়ামী লীগের ডামি প্রার্থীকে শুভেচ্ছা জানানো— সব মিলিয়ে তিনি অতীতেও নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন।

জাপানে নির্বাসিত সাংবাদিক খোমেনী ইহসান শিশির মনিরকে ‘ভণ্ড’ ও ‘কাপুরুষ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরেও তিনি শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে একটি সাহসী পোস্ট দেননি— অথচ এখন নিজেকে বিপ্লবী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, শিশির মনির তার বাবা–মায়ের মার্কিন নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও তাদের খোঁজও রাখেন না।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতারা শিশির মনিরের অতীত আচরণ ও রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে বলেন, তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় নীরব ছিলেন। অনেকেই মনে করেন, এমন বিতর্কিত ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও তারেক রহমানকে উপদেশ দেওয়া তার জন্য শোভনীয় নয়।

অনেকে উল্লেখ করেন, আবরার ফাহাদের মতো দেশপ্রেমিক শিক্ষার্থীর হত্যাকারীদের পক্ষে দাঁড়ানো ব্যক্তি হিসেবে শিশির মনিরের ‘নৈতিক অবস্থান’ প্রশ্নবিদ্ধ। কেউ কেউ মন্তব্য করেন— পূজামণ্ডপে গিয়ে রোজা–পূজার তুলনা করা তার ধর্মীয় অজ্ঞতার পরিচয়।

ফেসবুকে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন— জুলাই আন্দোলনের সময় শিশির মনির কোথায় ছিলেন? আর এখন কেন তিনি হঠাৎ ‘সাহসী ও বিপ্লবী’ হয়ে উঠলেন?

সবশেষে সামাজিক মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে— অনেকেই মনে করছেন, শিশির মনিরের অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনায় তারেক রহমানকে নিয়ে এমন মন্তব্য করা অনুচিত, অশোভন ও রাজনৈতিকভাবে অ成熟।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়াকে ‘আগ্রাসন’ হিসেবে দেখা হবে, ইরানের হুঁশিয়ারি

তারেক রহমানকে ঘিরে মন্তব্যে তীব্র সমালোচনার মুখে জামায়াত প্রার্থী শিশির মনির — রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক

আপডেট সময় ০৪:৩৯:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে দেওয়া মন্তব্য ঘিরে তীব্র সমালোচনায় জড়িয়েছেন সুনামগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ও সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী শিশির মনির। তিনি ফেসবুকে লিখেছিলেন— “আমি যদি জনাব তারেক রহমান সাহেবের জায়গায় থাকতাম, কোনো কিছু তোয়াক্কা না করে অনেক আগেই মায়ের কাছে চলে আসতাম।” এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও নতুন বিতর্ক।

এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই জানিয়েছেন— দেশে ফেরা তার একক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়; রাজনৈতিক বাস্তবতা ও নিয়ন্ত্রণাধীন অবস্থার কারণে বিষয়টি জটিল। তার মা, ৮১ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় বিষয়টি আরও আলোচনার জন্ম দেয়।

শিশির মনিরের স্ট্যাটাস প্রকাশের পরই নেটদুনিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং পরবর্তীতে তিনি তা মুছেও ফেলেন। এর আগে আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার আসামিদের পক্ষে আইনজীবী হওয়া, পূজামণ্ডপে গিয়ে ‘রোজা ও পূজা মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ’ মন্তব্য, এমনকি আওয়ামী লীগের ডামি প্রার্থীকে শুভেচ্ছা জানানো— সব মিলিয়ে তিনি অতীতেও নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন।

জাপানে নির্বাসিত সাংবাদিক খোমেনী ইহসান শিশির মনিরকে ‘ভণ্ড’ ও ‘কাপুরুষ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরেও তিনি শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে একটি সাহসী পোস্ট দেননি— অথচ এখন নিজেকে বিপ্লবী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, শিশির মনির তার বাবা–মায়ের মার্কিন নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও তাদের খোঁজও রাখেন না।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতারা শিশির মনিরের অতীত আচরণ ও রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে বলেন, তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় নীরব ছিলেন। অনেকেই মনে করেন, এমন বিতর্কিত ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও তারেক রহমানকে উপদেশ দেওয়া তার জন্য শোভনীয় নয়।

অনেকে উল্লেখ করেন, আবরার ফাহাদের মতো দেশপ্রেমিক শিক্ষার্থীর হত্যাকারীদের পক্ষে দাঁড়ানো ব্যক্তি হিসেবে শিশির মনিরের ‘নৈতিক অবস্থান’ প্রশ্নবিদ্ধ। কেউ কেউ মন্তব্য করেন— পূজামণ্ডপে গিয়ে রোজা–পূজার তুলনা করা তার ধর্মীয় অজ্ঞতার পরিচয়।

ফেসবুকে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন— জুলাই আন্দোলনের সময় শিশির মনির কোথায় ছিলেন? আর এখন কেন তিনি হঠাৎ ‘সাহসী ও বিপ্লবী’ হয়ে উঠলেন?

সবশেষে সামাজিক মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে— অনেকেই মনে করছেন, শিশির মনিরের অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনায় তারেক রহমানকে নিয়ে এমন মন্তব্য করা অনুচিত, অশোভন ও রাজনৈতিকভাবে অ成熟।