ঢাকা ১০:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মানুষ গুম হয়েছে কিনা, জানেন না শেখ হাসিনা: আইনজীবী আমির হোসেন

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৯:১৪:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৪৭ বার পড়া হয়েছে

 

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশে কোনো মানুষ গুম হয়নি—এমনটাই দাবি করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। গুম করে নির্যাতনের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ থেকে শেখ হাসিনাকে অব্যাহতি চেয়ে করা আবেদনের শুনানিতে রোববার তিনি এই বক্তব্য দেন।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ শুনানির সময় আমির হোসেন বলেন, প্রসিকিউশন শেখ হাসিনাকে ‘সব অপরাধের সূতিকাগার’ হিসেবে তুলে ধরছে এবং তাঁর নির্দেশেই নাকি গুমের ঘটনা ঘটেছে—এমন দাবি করছে। কিন্তু এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো লিখিত বা দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি প্রসিকিউশন। কারণ শেখ হাসিনা কখনো গুম বা অপহরণের নির্দেশ দেননি এবং দেশে কোনো গুম হয়েছে কিনা, সে বিষয়েও তিনি অবগত ছিলেন না।

শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল প্রশ্ন তোলে—রাষ্ট্রের চিফ এক্সিকিউটিভ হিসেবে শেখ হাসিনা এসব অপরাধের দায় এড়িয়ে যেতে পারেন কি না? জবাবে আইনজীবী বলেন, একটি দেশে বহু অপরাধ ঘটে; সবকিছু প্রধান নির্বাহীর জ্ঞাত থাকা সম্ভব নয়। তাছাড়া, তাঁর সরকারের সময়ে গুম-নির্যাতনের অভিযোগগুলো প্রোপাগান্ডা ছাড়া কিছু নয়, কারণ মামলায় প্রসিকিউশন কোনো বিশ্বাসযোগ্য নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ থেকে শেখ হাসিনার অব্যাহতি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অভিযোগ গঠনের আদেশ রোববার

এই মামলায় শেখ হাসিনাসহ সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ দেওয়ার জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। শুনানির সময় ১৭ আসামির মধ্যে ১০ জন সেনা কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।

ট্রাইব্যুনালে তিন আসামির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ এবং সাতজনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার তবারক হোসেন ভূঁইয়া। শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে শুনানি করেন মো. আমির হোসেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী এবং সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম। র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক পলাতক এম খুরশিদ হোসেন, ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ ও কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সুজাদ মিয়া।

গুমের মামলার আদেশ পেছাল

এদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি)-এ গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় শেখ হাসিনা ও সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ পিছিয়ে বৃহস্পতিবার নতুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল-১। অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের দিন নির্ধারিত থাকলেও ওই দিন আদেশ না দিয়ে পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্রিনল্যান্ডবাসীর আনুগত্য ‘কিনতে’ জনপ্রতি কোটি টাকা দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

মানুষ গুম হয়েছে কিনা, জানেন না শেখ হাসিনা: আইনজীবী আমির হোসেন

আপডেট সময় ০৯:১৪:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

 

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশে কোনো মানুষ গুম হয়নি—এমনটাই দাবি করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। গুম করে নির্যাতনের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ থেকে শেখ হাসিনাকে অব্যাহতি চেয়ে করা আবেদনের শুনানিতে রোববার তিনি এই বক্তব্য দেন।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ শুনানির সময় আমির হোসেন বলেন, প্রসিকিউশন শেখ হাসিনাকে ‘সব অপরাধের সূতিকাগার’ হিসেবে তুলে ধরছে এবং তাঁর নির্দেশেই নাকি গুমের ঘটনা ঘটেছে—এমন দাবি করছে। কিন্তু এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো লিখিত বা দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি প্রসিকিউশন। কারণ শেখ হাসিনা কখনো গুম বা অপহরণের নির্দেশ দেননি এবং দেশে কোনো গুম হয়েছে কিনা, সে বিষয়েও তিনি অবগত ছিলেন না।

শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল প্রশ্ন তোলে—রাষ্ট্রের চিফ এক্সিকিউটিভ হিসেবে শেখ হাসিনা এসব অপরাধের দায় এড়িয়ে যেতে পারেন কি না? জবাবে আইনজীবী বলেন, একটি দেশে বহু অপরাধ ঘটে; সবকিছু প্রধান নির্বাহীর জ্ঞাত থাকা সম্ভব নয়। তাছাড়া, তাঁর সরকারের সময়ে গুম-নির্যাতনের অভিযোগগুলো প্রোপাগান্ডা ছাড়া কিছু নয়, কারণ মামলায় প্রসিকিউশন কোনো বিশ্বাসযোগ্য নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ থেকে শেখ হাসিনার অব্যাহতি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অভিযোগ গঠনের আদেশ রোববার

এই মামলায় শেখ হাসিনাসহ সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ দেওয়ার জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। শুনানির সময় ১৭ আসামির মধ্যে ১০ জন সেনা কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।

ট্রাইব্যুনালে তিন আসামির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ এবং সাতজনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার তবারক হোসেন ভূঁইয়া। শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে শুনানি করেন মো. আমির হোসেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী এবং সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম। র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক পলাতক এম খুরশিদ হোসেন, ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ ও কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সুজাদ মিয়া।

গুমের মামলার আদেশ পেছাল

এদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি)-এ গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় শেখ হাসিনা ও সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ পিছিয়ে বৃহস্পতিবার নতুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল-১। অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের দিন নির্ধারিত থাকলেও ওই দিন আদেশ না দিয়ে পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।