বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশ যখন একটি নতুন অধ্যায়ের দিকে এগোচ্ছে, যখন মানুষ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছে, ঠিক সেই সময় আবারও হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ওসমান হাদির ওপর হামলার মতো ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।
গতকাল সকালে রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং ঢাকা মহানগর ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালে যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরাজয় নিশ্চিত হয়ে ওঠে, তখন পরিকল্পিতভাবে এ দেশের মেধাবী সন্তানদের হত্যা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, গবেষক, কবি-সাহিত্যিক ও সাংবাদিকদের হত্যা করে বাংলাদেশকে মেধাহীন করার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তিনি বলেন, “এটা ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ, যার মাধ্যমে জাতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “একইভাবে আমরা সবাই জানি, ২০২৪ সালেও আমাদের সন্তানদের ওপর গণহত্যা চালানো হয়েছে।”
বিএনপি মহাসচিব জানান, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তারা স্মৃতিসৌধে এসেছেন। এ সময় তিনি শপথের কথা উল্লেখ করে বলেন, যে কোনো মূল্যে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা রক্ষা করা হবে।
স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে বিশ্বাস করার কারণ নেই
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাদের বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, সেই শক্তিই আজ ভোল পাল্টে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার কথা বলছে, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ তা বিশ্বাস করে না।
তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন মূলত দুটি শক্তির মধ্যে হবে—একদিকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও উদার গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি; অন্যদিকে সেই পশ্চাৎপদ শক্তি, যারা অতীতে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এবং এখন ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন


























