ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে স্বামীর নাম সরাসরি উচ্চারণ না করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ ও কষ্টের কথা তুলে ধরেছেন তাঁর সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম।
রোববার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া শিমুলডাঙ্গী স্কুল মাঠে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, তাঁর স্বামী টানা ৩৭ বছর রাজনীতি করছেন। এর মধ্যে ১৬ বছর তিনি ঠিকমতো রাতে ঘুমাতে পারেননি, ভালোভাবে খাবারও খাননি। দীর্ঘ সময় কারাবাসও করতে হয়েছে তাঁকে।
রাহাত আরা বেগম জানান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ পর্যন্ত ১১ বার কারাবরণ করেছেন। এর মধ্যে একবার টানা সাত মাস এবং অন্যান্যবার তিন মাস, দুই মাস ও এক মাস করে জেলে থাকতে হয়েছে।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “আপনারা তো তাঁর পাশে আছেন? তিনি এত কষ্ট করেছেন, এবার আপনারা তাঁকে একটু শান্তি দিন।”
তিনি আরও বলেন, দেশ যখন সংকটের মধ্য দিয়ে যায়, তখন তাঁর স্বামী কখনোই শান্তিতে থাকতে পারেন না। দেশের মানুষের দুরবস্থা দেখে তাঁর মন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। বাসায় আলাপচারিতার সময় তিনি প্রায়ই বলেন—দেশের মানুষ ভালো নেই, কবে তারা মুক্তি পাবে, কবে তাদের মুখে হাসি ফুটবে। এসব কথা বলতে বলতে তিনি অনেক সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এ সময় রাহাত আরা বেগম আশা প্রকাশ করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশে ফিরবেন।
অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, গড়েয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রেজওয়ানুল ইসলাম শাহ, জেলা মহিলা দলের সভাপতি ফোরাতুন নাহার প্যারিস, সাধারণ সম্পাদক নাজমা পারভিনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ শেষে রাহাত আরা বেগম ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত আরেকটি সমাবেশে অংশ নেন।


























