শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি ঘিরে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা ও বিতর্ক। নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের আমন্ত্রণ জানানোয় আলোচনা সভা বর্জন করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। অন্যদিকে, পাবনায় দিবসের সকালে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ‘দুর্জয় পাবনা’ তালাবদ্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকরা। বরিশালে দিবসটি পালন করতে গিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।
মোহনগঞ্জে আলোচনা সভা বর্জন
রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় মোহনগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। বেলা ১১টায় উপজেলা মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হলেও সেখানে জামায়াতে ইসলামী নেতাদের উপস্থিতি দেখে সভা বর্জন করে বেরিয়ে যান বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
পরে পৌর শহরের স্টেশন রোডে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের হলরুমে সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের মঞ্চে স্থান দেওয়ায় আমরা আলোচনা সভা বর্জন করেছি। যারা স্বাধীনতাযুদ্ধে বুদ্ধিজীবীদের হত্যার সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে আমরা একসঙ্গে বসতে পারি না।’
মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ, জামায়াতকে না রাখার অনুরোধ জানানো হলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তা মানেননি। তবে ইউএনও আমেনা খাতুন বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আলাদা আসনের ব্যবস্থাও ছিল।
তালাবদ্ধ ছিল ‘দুর্জয় পাবনা’
পাবনায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের সকালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা দেখেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থিত স্মৃতিস্তম্ভ ‘দুর্জয় পাবনা’ তালাবদ্ধ। সকাল সাড়ে ৭টায় সেখানে গিয়ে চারটি তালা ঝুলতে দেখা যায়। পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এক কর্মী এসে তালা খুলে দেন।
পাবনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার বলেন, ‘জেলা প্রশাসন কীভাবে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের বিষয়টি জানে না—এটা বিস্ময়কর।’ তবে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বরিশালে বিএনপির সংঘর্ষ
বরিশালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে দুপুর ১২টার দিকে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কির জেরে হাতাহাতি ও মারামারি হয়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন অভিযোগ করেন, দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও বরিশাল-৫ আসনের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের অনুসারীরাই হামলা চালিয়েছে।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের মতো একটি জাতীয় শোক দিবসে এসব ঘটনায় কর্মসূচির পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিভিন্ন মহল।


























