ঢাকা ০৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ২০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জি এম কাদেরের জাপা প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছে না

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১০:১৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৪১ বার পড়া হয়েছে

জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জাপা) নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলেও তীব্র প্রার্থী সংকটে পড়েছে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় নৌকার ভোট লাঙলে আসতে পারে—এমন আলোচনা থাকলেও বাস্তবে জাপার মনোনয়ন নিতে আগ্রহ কম। গত বুধবার থেকে পাঁচ দিনে দলীয় মনোনয়ন ফরম তুলেছেন মাত্র ৬৭ জন। এ অবস্থায় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময়সীমা তিন দিন বাড়ানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় কার্যালয় সূত্রে এই সংখ্যা নিশ্চিত করা হলেও মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর দাবি, মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে দুই শতাধিক। তিনি জানান, ২৫ বা ২৬ ডিসেম্বর প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে এবং ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা থাকবে।
এদিকে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন জাপার জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট আজ মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবে। এই জোটে রয়েছে ছয়টি নিবন্ধিত দল—আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি-জেপি, বিএনএম, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, গণফ্রন্ট, মুসলিম লীগ ও তৃণমূল বিএনপি। আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) বৃহত্তম সুন্নি জোটও জেপি-জাপার (আনিস) জোটে যোগ দিতে পারে।
লাঙলে আগ্রহ কম
আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতায় গত চারটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ ও ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ তকমা পাওয়া এরশাদ-প্রতিষ্ঠিত জাপা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বড় চাপে পড়ে। ছাত্রনেতৃত্বের আপত্তিতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে দলটিকে ডাকা হচ্ছে না; কার্যালয়ে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। জি এম কাদেরসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা মামলার আসামি হয়েছেন। নেতৃত্ব বিরোধে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ জ্যেষ্ঠ নেতাদের বড় অংশ নিয়ে একই নামে আলাদা দল গঠন করেন।
জি এম কাদেরের সঙ্গে থাকা জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকেই এবার নির্বাচনে আগ্রহী নন। এক প্রেসিডিয়াম সদস্যের ভাষ্য, গতবার সাড়ে ৩ কোটি টাকা খরচ করেও ভোট আসেনি, এবার পরিস্থিতি আরও খারাপ; নৌকার ভোট লাঙলে আসার সম্ভাবনাও নেই।
আরেক জাপা: টিকে থাকার নির্বাচন
অন্যদিকে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের নেতৃত্বাধীন অংশটি নির্বাচনে নামছে মূলত রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে। আওয়ামী লীগ আমলে মন্ত্রী ও এমপি থাকা এই নেতৃত্বের জোটে অধিকাংশ শরিকই আওয়ামী লীগের মিত্র। আসন বণ্টন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। রুহুল আমিন হাওলাদার জানিয়েছেন, ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করা হবে এবং সুন্নিপন্থি তিন দলের সঙ্গে জোট চূড়ান্ত করার আলোচনা চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদকবিরোধী বিজ্ঞাপন সরানো নিয়ে প্রশ্ন, হাদী হত্যা মামলার প্রেক্ষাপটে রহস্য

জি এম কাদেরের জাপা প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছে না

আপডেট সময় ১০:১৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জাপা) নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলেও তীব্র প্রার্থী সংকটে পড়েছে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় নৌকার ভোট লাঙলে আসতে পারে—এমন আলোচনা থাকলেও বাস্তবে জাপার মনোনয়ন নিতে আগ্রহ কম। গত বুধবার থেকে পাঁচ দিনে দলীয় মনোনয়ন ফরম তুলেছেন মাত্র ৬৭ জন। এ অবস্থায় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময়সীমা তিন দিন বাড়ানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় কার্যালয় সূত্রে এই সংখ্যা নিশ্চিত করা হলেও মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর দাবি, মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে দুই শতাধিক। তিনি জানান, ২৫ বা ২৬ ডিসেম্বর প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে এবং ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা থাকবে।
এদিকে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন জাপার জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট আজ মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবে। এই জোটে রয়েছে ছয়টি নিবন্ধিত দল—আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি-জেপি, বিএনএম, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, গণফ্রন্ট, মুসলিম লীগ ও তৃণমূল বিএনপি। আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) বৃহত্তম সুন্নি জোটও জেপি-জাপার (আনিস) জোটে যোগ দিতে পারে।
লাঙলে আগ্রহ কম
আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতায় গত চারটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ ও ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ তকমা পাওয়া এরশাদ-প্রতিষ্ঠিত জাপা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বড় চাপে পড়ে। ছাত্রনেতৃত্বের আপত্তিতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে দলটিকে ডাকা হচ্ছে না; কার্যালয়ে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। জি এম কাদেরসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা মামলার আসামি হয়েছেন। নেতৃত্ব বিরোধে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ জ্যেষ্ঠ নেতাদের বড় অংশ নিয়ে একই নামে আলাদা দল গঠন করেন।
জি এম কাদেরের সঙ্গে থাকা জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকেই এবার নির্বাচনে আগ্রহী নন। এক প্রেসিডিয়াম সদস্যের ভাষ্য, গতবার সাড়ে ৩ কোটি টাকা খরচ করেও ভোট আসেনি, এবার পরিস্থিতি আরও খারাপ; নৌকার ভোট লাঙলে আসার সম্ভাবনাও নেই।
আরেক জাপা: টিকে থাকার নির্বাচন
অন্যদিকে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের নেতৃত্বাধীন অংশটি নির্বাচনে নামছে মূলত রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে। আওয়ামী লীগ আমলে মন্ত্রী ও এমপি থাকা এই নেতৃত্বের জোটে অধিকাংশ শরিকই আওয়ামী লীগের মিত্র। আসন বণ্টন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। রুহুল আমিন হাওলাদার জানিয়েছেন, ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করা হবে এবং সুন্নিপন্থি তিন দলের সঙ্গে জোট চূড়ান্ত করার আলোচনা চলছে।