ঢাকা ০৭:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আমাকে কেন মৃত ঘোষণা করা হলো?’— থানায় হাজির হয়ে জানতে চাইলেন ‘খুন হওয়া’ ব্যক্তি

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১০:০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৬৭ বার পড়া হয়েছে

ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে এক অভাবনীয় ঘটনায় চরম সংকটে পড়েছে পুলিশি তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া। যাকে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলা, গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তি ও চার্জশিট পর্যন্ত প্রস্তুত হয়েছিল— সেই ব্যক্তিই জীবিত অবস্থায় থানায় হাজির হয়ে পুরো মামলাটিকে উল্টে দিয়েছেন।
গত ২২ অক্টোবর পূর্ণানগর–তুরিতোংরি বনাঞ্চল থেকে একটি অর্ধদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহটি জশপুর জেলার সিতোঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা সীমিত খাখা (৩০) বলে শনাক্ত করা হয়। এরপর তার ‘হত্যার’ অভিযোগে রামজিত রাম, বীরেন্দ্র রাম ও এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পলাতক দেখিয়ে শীতল মিনজ ও জিতু রামকেও অভিযুক্ত করা হয়। সবাইকে কারাগারে পাঠানো হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নিহতের বাবা–মা ও ভাই মরদেহ শনাক্ত করেন। অভিযুক্তরা বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্বীকারোক্তিও দেন বলে দাবি করা হয়। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল পুনর্গঠন করে। কাগজে-কলমে মামলাটি ছিল শক্তপোক্ত।
কিন্তু গত শনিবার গভীর রাতে ঘটে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। সেই ‘নিহত’ সীমিত খাখাই সশরীরে সিতোঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের সরপঞ্চ কল্পনা খালখো (টোপ্পো)-এর সঙ্গে সিটি কোতোয়ালি থানায় হাজির হন।
পুলিশকে সীমিত জানান, কাজের সন্ধানে তিনি ঝাড়খণ্ডে গিয়েছিলেন। রাঁচিতে সঙ্গীদের থেকে আলাদা হয়ে গিরিডিহ জেলার সরাই পালি গ্রামে মাঠের কাজে যুক্ত ছিলেন। মোবাইল ফোন না থাকায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। পরে জশপুরে ফিরে জানতে পারেন, তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে এবং তার সঙ্গীরা ‘হত্যা মামলায়’ জেলে আছেন।
সীমিত খাখা বলেন,
‘আমি জীবিত। তাহলে আমাকে মৃত ঘোষণা করা হলো কেন? আগে ডিএনএ পরীক্ষা করা উচিত ছিল। আমার বন্ধুরা নির্দোষ, তারা জেলে। আমার সন্তানরা খুব ছোট— তিন মাস ধরে ঠিকমতো খেতে পারেনি। জীবিত মানুষকে মৃত ঘোষণা— এ কেমন আইন?’
ঘটনাটি জানাজানি হতেই সিতোঙ্গা গ্রামে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই মামলার কারণে গ্রামবাসী সামাজিক চাপ ও আতঙ্কে ছিলেন।
সরপঞ্চ কল্পনা টোপ্পো বলেন,
‘একটি আংশিক পোড়া মরদেহকে সীমিত খাখা বলে ধরে আমাদের গ্রামের চারজনকে আটক করা হয়। তারা নির্দোষ। সীমিত ফিরে এসেছে— খবর পেয়েই আমরা তাকে থানায় নিয়ে আসি।’
এদিকে পুলিশ দাবি করছে, আইন অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল। তবে সীমিত জীবিত থাকায় মামলাটি এখন অনিশ্চিত অবস্থায় পড়েছে।
এসডিওপি চন্দ্রশেখর পারমা বলেন,
‘সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে জবানবন্দি নেয়া হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ শনাক্ত করেন। এখন সীমিত সামনে আসায় অভিযুক্তদের অস্থায়ী মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং মামলাটি নতুন করে তদন্ত করা হচ্ছে।’
সীমিত জীবিত থাকায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— বনাঞ্চল থেকে উদ্ধার হওয়া অর্ধদগ্ধ মরদেহটি আসলে কার? প্রকৃত নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং শনাক্তকরণ থেকে স্বীকারোক্তি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে একজন গেজেটেড কর্মকর্তার নেতৃত্বে বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন হবে, কোথাও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের অভাব নেই: অর্থ উপদেষ্টা

আমাকে কেন মৃত ঘোষণা করা হলো?’— থানায় হাজির হয়ে জানতে চাইলেন ‘খুন হওয়া’ ব্যক্তি

আপডেট সময় ১০:০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে এক অভাবনীয় ঘটনায় চরম সংকটে পড়েছে পুলিশি তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া। যাকে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলা, গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তি ও চার্জশিট পর্যন্ত প্রস্তুত হয়েছিল— সেই ব্যক্তিই জীবিত অবস্থায় থানায় হাজির হয়ে পুরো মামলাটিকে উল্টে দিয়েছেন।
গত ২২ অক্টোবর পূর্ণানগর–তুরিতোংরি বনাঞ্চল থেকে একটি অর্ধদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহটি জশপুর জেলার সিতোঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা সীমিত খাখা (৩০) বলে শনাক্ত করা হয়। এরপর তার ‘হত্যার’ অভিযোগে রামজিত রাম, বীরেন্দ্র রাম ও এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পলাতক দেখিয়ে শীতল মিনজ ও জিতু রামকেও অভিযুক্ত করা হয়। সবাইকে কারাগারে পাঠানো হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নিহতের বাবা–মা ও ভাই মরদেহ শনাক্ত করেন। অভিযুক্তরা বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্বীকারোক্তিও দেন বলে দাবি করা হয়। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল পুনর্গঠন করে। কাগজে-কলমে মামলাটি ছিল শক্তপোক্ত।
কিন্তু গত শনিবার গভীর রাতে ঘটে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। সেই ‘নিহত’ সীমিত খাখাই সশরীরে সিতোঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের সরপঞ্চ কল্পনা খালখো (টোপ্পো)-এর সঙ্গে সিটি কোতোয়ালি থানায় হাজির হন।
পুলিশকে সীমিত জানান, কাজের সন্ধানে তিনি ঝাড়খণ্ডে গিয়েছিলেন। রাঁচিতে সঙ্গীদের থেকে আলাদা হয়ে গিরিডিহ জেলার সরাই পালি গ্রামে মাঠের কাজে যুক্ত ছিলেন। মোবাইল ফোন না থাকায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। পরে জশপুরে ফিরে জানতে পারেন, তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে এবং তার সঙ্গীরা ‘হত্যা মামলায়’ জেলে আছেন।
সীমিত খাখা বলেন,
‘আমি জীবিত। তাহলে আমাকে মৃত ঘোষণা করা হলো কেন? আগে ডিএনএ পরীক্ষা করা উচিত ছিল। আমার বন্ধুরা নির্দোষ, তারা জেলে। আমার সন্তানরা খুব ছোট— তিন মাস ধরে ঠিকমতো খেতে পারেনি। জীবিত মানুষকে মৃত ঘোষণা— এ কেমন আইন?’
ঘটনাটি জানাজানি হতেই সিতোঙ্গা গ্রামে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই মামলার কারণে গ্রামবাসী সামাজিক চাপ ও আতঙ্কে ছিলেন।
সরপঞ্চ কল্পনা টোপ্পো বলেন,
‘একটি আংশিক পোড়া মরদেহকে সীমিত খাখা বলে ধরে আমাদের গ্রামের চারজনকে আটক করা হয়। তারা নির্দোষ। সীমিত ফিরে এসেছে— খবর পেয়েই আমরা তাকে থানায় নিয়ে আসি।’
এদিকে পুলিশ দাবি করছে, আইন অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল। তবে সীমিত জীবিত থাকায় মামলাটি এখন অনিশ্চিত অবস্থায় পড়েছে।
এসডিওপি চন্দ্রশেখর পারমা বলেন,
‘সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে জবানবন্দি নেয়া হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ শনাক্ত করেন। এখন সীমিত সামনে আসায় অভিযুক্তদের অস্থায়ী মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং মামলাটি নতুন করে তদন্ত করা হচ্ছে।’
সীমিত জীবিত থাকায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— বনাঞ্চল থেকে উদ্ধার হওয়া অর্ধদগ্ধ মরদেহটি আসলে কার? প্রকৃত নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং শনাক্তকরণ থেকে স্বীকারোক্তি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে একজন গেজেটেড কর্মকর্তার নেতৃত্বে বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।