দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়কসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে ফুলবাড়ী পৌরসভার পশ্চিম গৌরীপাড়া বউবাজার এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন পৌর শহরের পূর্ব গৌরীপাড়া এলাকার জামিল হোসেনের ছেলে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাজেদুল ইসলাম মিঠু (৩৬), উপজেলার কাজিহাল ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামের মো. জালাল উদ্দিনের ছেলে মো. সাজু মিয়া (২৮), কড়াই গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে তুহিন রেজা (৩০), আমড়া গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে জুলফিকার আলী (৩০) ও চৌকিয়াপাড়া (সোনারপাড়া) গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে মোছাদ্দেক হোসেন (৩৫)।
এ ঘটনায় ফুলবাড়ী থানায় মামলা হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী আশিদুল হক (৩৭) উপজেলার কাজিহাল ইউনিয়নের আটপুকুরহাটে কেনাকাটা শেষে বাড়িতে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলে এসে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর মোটরসাইকেলের পথরোধ করে। তাঁরা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে আশিদুলকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর ফুলবাড়ী পৌর এলাকার পশ্চিম গৌরীপাড়া এলাকায় একটি বাড়িতে রেখে আশিদুলকে মারধর করে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ সময় আশিদুল হক ৫০ হাজার টাকা দিতে চাইলে তারা টাকা নিয়ে আসতে বলে। একপর্যায়ে আশিদুলের খালাতো ভাই হাবিবুর টাকা নিয়ে যান।
পরে অপহৃত আশিদুল ও হাবিবুরকে গভীর রাতে স্থান পরিবর্তন করে পৌর এলাকার তেঁতুলিয়া স্কুলের মাঠে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। অপহরণকারীদের ৩০ হাজার টাকা দিলে অপহৃত আশিদুলকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করে তাঁর খালাতো ভাই হাবিবুরকে আটকে রাখা হয়। এদিকে ওই রাতেই ছাড়া পেয়ে আশিদুল সেনাবাহিনীর একটি টহল দলকে সামনে পান। তখন তাদের বিষয়টি জানালে থানা-পুলিশসহ পশ্চিম গৌরীপাড়া বউবাজার এলাকায় রাতভর অভিযান চালিয়ে আজ ভোরে একটি বাড়ি থেকে অপহৃত হাবিবুরকে উদ্ধারসহ ওই পাঁচজনকে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফুলবাড়ী পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতিয়ার রহমান মিন্টু বলেন, ব্যক্তির দায় কখনো স্বেচ্ছাসেবক দল নেবে না। স্বেচ্ছাসেবক দলে কোনো দুষ্কৃতকারীর জায়গা হবে না। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের পর তাঁর বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় রাতভর পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে জড়িত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাঁদের কাছে থাকা দুটি মোটরসাইকেল ও নগদ সাড়ে ৫ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। পরে ভুক্তভোগী আশিদুল হক বাদী হয়ে থানায় একটি অপহরণ মামলা করেছেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।




















