ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শহিদ ওসমান হাদি হল’ এবং শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের নাম পরিবর্তন করে ‘বীরপ্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হল’ সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি ভবনের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সিনেটের কাছে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শেখ মুজিবুর রহমান হল, ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, রাসেল টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু টাওয়ার, সুলতানা কামাল হোস্টেলসহ কয়েকটি স্থাপনার নামের পরিবর্তন প্রস্তাব সিনেটে সুপারিশ আকারে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট হল সংসদ থেকে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে ডাকসু তাদের নির্বাহী কমিটির পূর্ণাঙ্গ সভায় আলোচনা করে সুপারিশ প্রদান করেছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট হল প্রশাসনও মিটিং করে তাদের মতামত দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, আবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে ডাকসুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সমিতিগুলোও নাম পরিবর্তনের পক্ষে সুপারিশ করেছে। এসব সুপারিশ পর্যালোচনা করে এসএমটি ও সিন্ডিকেট সভায় আলোচনা শেষে বিষয়গুলো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সিনেটে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
প্রক্টর বলেন, নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবগুলো একটি পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এসেছে। এ ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট শুধু সুপারিশ প্রদান করেছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সিনেটে বহু সদস্যের উপস্থিতিতে বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত ও বিস্তৃত আলোচনা হবে।
এর আগে ফজিলাতুন্নেছা হলের শিক্ষার্থীরা অনলাইন ভোট ও মুজিব হলের শিক্ষার্থীরা স্বাক্ষরের মাধ্যমে হল সংসদের মাধ্যমে নাম পরিবর্তনের বিষয়ে নিজেদের মতামত উপস্থাপন করেন। পরবর্তীতে ডাকসু ‘ফ্যাসিবাদের আইকন’ হিসেবে উল্লেখ করে শেখ পরিবার সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর নাম পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানায়।
ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট হল সংসদগুলো নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব উত্থাপন করে। এরপর ডাকসুর পক্ষ থেকে আমরা ফ্যাসিবাদী আইকনদের নামে থাকা স্থাপনাগুলোর নাম পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়েছিলাম। সংশ্লিষ্ট হলের শিক্ষার্থীদের মতামত অনুযায়ী ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ নাম বাতিল করে ‘শহিদ ওসমান হাদি হল’ এবং ‘ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল’-এর নাম বাতিল করে ‘বীরপ্রতিক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হল’ করার দাবি জানিয়েছিলাম।
অন্যান্য স্থাপনার ক্ষেত্রে জুলাই বিপ্লবের শহিদদের নামকে প্রাধান্য দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে শহিদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম আকরাম ও শান্তের নাম আলোচনায় আসতে পারে। তবে এসব প্রস্তাব লিখিত আকারে দেয়া হয়নি বলেও উল্লেখ করেন এস এম ফরহাদ।




















