ঢাকা ০১:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউক্রেনে হাইপারসনিক ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি রাশিয়ার

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৩:৩৪:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৪৬ বার পড়া হয়েছে

 

ইউক্রেনে এবার হাইপারসনিক ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করল মস্কো। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাশিয়ার সামরিক বাহিনী জানায়, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একটি বাসভবনে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার চেষ্টা করা হয়েছে—এমন অভিযোগের জবাবে তারা ইউক্রেনের লক্ষ্যবস্তুতে ‘ওরেশনিক’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে মস্কোর এই দাবিকে কিয়েভ ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর দাবি, এটি দ্বিতীয়বারের মতো মধ্যম-পাল্লার ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা। প্রেসিডেন্ট পুতিন এর আগে বলেছিলেন, শব্দের গতির ১০ গুণেরও বেশি গতিসম্পন্ন এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা কার্যত অসম্ভব। ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র পারমাণবিক ও প্রচলিত—উভয় ধরনের ওয়ারহেড বহনে সক্ষম হলেও সর্বশেষ হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রটিতে কেবল প্রচলিত ওয়ারহেড ছিল বলে জানিয়েছে মস্কো।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইউক্রেনের ‘গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে আক্রমণ ড্রোন এবং স্থল ও নৌভিত্তিক দীর্ঘপাল্লার উচ্চ-নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহারের কথাও বলা হয়।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে দাবি করা হয়, হামলার লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ছিল ড্রোন উৎপাদনকারী স্থাপনা এবং ইউক্রেনের সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সকে সহায়তাকারী জ্বালানি অবকাঠামো।

রাশিয়ার অভিযোগ, ইউক্রেনের ড্রোনগুলো ডিসেম্বরের শেষদিকে নভোগোরোদ অঞ্চলে পুতিনের একটি বাসভবনে হামলার চেষ্টা করেছিল। তবে ইউক্রেন এই দাবিকে ‘অবাস্তব মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়ে জানায়, শান্তি আলোচনাকে নস্যাৎ করতেই এমন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, তিনি ওই বাসভবনে হামলার ঘটনা বিশ্বাস করেন না, যদিও ওই এলাকার কাছাকাছি ‘অন্য কিছু’ ঘটেছিল বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় লভিভ অঞ্চলের গভর্নর আগেই জানিয়েছিলেন, রাশিয়ার একটি হামলায় একটি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। যাচাই না হওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিবেদনে এটিকে একটি বৃহৎ ভূগর্ভস্থ গ্যাস সংরক্ষণাগার বলে দাবি করা হয়, যদিও তা নিশ্চিত করা যায়নি।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী নিশ্চিত করে, কাস্পিয়ান সাগরের কাছে কাপুস্তিন ইয়ার পরীক্ষণ কেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপিত একটি ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে রাশিয়া।

২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে প্রথমবারের মতো ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবি করে মস্কো। সে সময় ইউক্রেনীয় সূত্র জানিয়েছিল, ক্ষেপণাস্ত্রটিতে বিস্ফোরক নয়, ডামি ওয়ারহেড ছিল এবং ক্ষয়ক্ষতি সীমিত ছিল। পুতিন দাবি করেছেন, প্রচলিত ওয়ারহেড থাকলেও ওরেশনিকের ধ্বংসক্ষমতা পারমাণবিক অস্ত্রের কাছাকাছি।

 

তবে কিছু পশ্চিমা কর্মকর্তা ওরেশনিকের সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছিলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে এই অস্ত্রকে ‘গেম-চেঞ্জার’ হিসেবে দেখা হচ্ছে না।

এদিকে ডিসেম্বরেই রাশিয়া বেলারুসে ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েনের ভিডিও প্রকাশ করে, যা সম্ভাব্য যুদ্ধে ইউরোপজুড়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এই যুদ্ধ বেশিদিন চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে আমাদের নেই: নেতানিয়াহু

ইউক্রেনে হাইপারসনিক ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি রাশিয়ার

আপডেট সময় ০৩:৩৪:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

 

ইউক্রেনে এবার হাইপারসনিক ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করল মস্কো। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাশিয়ার সামরিক বাহিনী জানায়, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একটি বাসভবনে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার চেষ্টা করা হয়েছে—এমন অভিযোগের জবাবে তারা ইউক্রেনের লক্ষ্যবস্তুতে ‘ওরেশনিক’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে মস্কোর এই দাবিকে কিয়েভ ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর দাবি, এটি দ্বিতীয়বারের মতো মধ্যম-পাল্লার ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা। প্রেসিডেন্ট পুতিন এর আগে বলেছিলেন, শব্দের গতির ১০ গুণেরও বেশি গতিসম্পন্ন এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা কার্যত অসম্ভব। ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র পারমাণবিক ও প্রচলিত—উভয় ধরনের ওয়ারহেড বহনে সক্ষম হলেও সর্বশেষ হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রটিতে কেবল প্রচলিত ওয়ারহেড ছিল বলে জানিয়েছে মস্কো।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইউক্রেনের ‘গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে আক্রমণ ড্রোন এবং স্থল ও নৌভিত্তিক দীর্ঘপাল্লার উচ্চ-নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহারের কথাও বলা হয়।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে দাবি করা হয়, হামলার লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ছিল ড্রোন উৎপাদনকারী স্থাপনা এবং ইউক্রেনের সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সকে সহায়তাকারী জ্বালানি অবকাঠামো।

রাশিয়ার অভিযোগ, ইউক্রেনের ড্রোনগুলো ডিসেম্বরের শেষদিকে নভোগোরোদ অঞ্চলে পুতিনের একটি বাসভবনে হামলার চেষ্টা করেছিল। তবে ইউক্রেন এই দাবিকে ‘অবাস্তব মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়ে জানায়, শান্তি আলোচনাকে নস্যাৎ করতেই এমন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, তিনি ওই বাসভবনে হামলার ঘটনা বিশ্বাস করেন না, যদিও ওই এলাকার কাছাকাছি ‘অন্য কিছু’ ঘটেছিল বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় লভিভ অঞ্চলের গভর্নর আগেই জানিয়েছিলেন, রাশিয়ার একটি হামলায় একটি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। যাচাই না হওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিবেদনে এটিকে একটি বৃহৎ ভূগর্ভস্থ গ্যাস সংরক্ষণাগার বলে দাবি করা হয়, যদিও তা নিশ্চিত করা যায়নি।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী নিশ্চিত করে, কাস্পিয়ান সাগরের কাছে কাপুস্তিন ইয়ার পরীক্ষণ কেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপিত একটি ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে রাশিয়া।

২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে প্রথমবারের মতো ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবি করে মস্কো। সে সময় ইউক্রেনীয় সূত্র জানিয়েছিল, ক্ষেপণাস্ত্রটিতে বিস্ফোরক নয়, ডামি ওয়ারহেড ছিল এবং ক্ষয়ক্ষতি সীমিত ছিল। পুতিন দাবি করেছেন, প্রচলিত ওয়ারহেড থাকলেও ওরেশনিকের ধ্বংসক্ষমতা পারমাণবিক অস্ত্রের কাছাকাছি।

 

তবে কিছু পশ্চিমা কর্মকর্তা ওরেশনিকের সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছিলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে এই অস্ত্রকে ‘গেম-চেঞ্জার’ হিসেবে দেখা হচ্ছে না।

এদিকে ডিসেম্বরেই রাশিয়া বেলারুসে ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েনের ভিডিও প্রকাশ করে, যা সম্ভাব্য যুদ্ধে ইউরোপজুড়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।