গ্রিনল্যান্ডের জনগণকে ডেনমার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যোগ দেয়ার জন্য এককালীন নগদ অর্থ প্রদানের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। এক্ষেত্রে অর্থের সুনির্দিষ্ট অঙ্ক ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখনো স্পষ্ট নয়। তবে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কয়েকটি মার্কিন সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা ও মার্কিন কর্মকর্তারা জনপ্রতি ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার (প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা) পর্যন্ত অর্থ প্রদানের কথা ভাবছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনা প্রকারান্তরে গ্রিনল্যান্ড কিনে নেয়ার ফন্দি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও ডেনমার্ক এবইং গ্রিনল্যান্ডের সরকার বারবারই বলেছেন, দ্বীপটি বিক্রির জন্য নয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসন শুধু আর্থিক প্রণোদনা দিয়েই গ্রিনল্যান্ড ‘দখলের’ কথা ভাবছে এমন নয়, প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।
উন্নত সামরিক প্রযুক্তিতে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ হওয়াসহ নানা কারণে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ পেতে চান ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, সামগ্রিকভাবে পশ্চিম গোলার্ধ ওয়াশিংটনের ভূরাজনৈতিক প্রভাবের আওতায় থাকা উচিত।
সূত্রগুলো জানায়, ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার আগ থেকেই তার সহযোগীদের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দখলের বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন। তবে গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলায় আকস্মিক অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেয়ার পর গ্রিনল্যান্ড দখলের আলোচনা নতুন করে গতি পায়।
গত রোববার (৪ জানুয়ারি) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প বলেছেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন, আর ডেনমার্ক এটা সামাল দিতে পারবে না। এটা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ আলোচনা সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানায়, এককালীন অর্থপ্রদানের বিষয়টি নতুন নয়। তবে ইদানিং এ প্রসঙ্গে আলোচনা গতি পেয়েছে। জনপ্রতি ১ লাখ ডলার পর্যন্ত দেওয়ার সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ প্রস্তাব চূড়ান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সবমিলিয়ে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার খরচ হতে পারে।




















