ঢাকা ০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চবির সেই আওয়ামীপন্থি শিক্ষকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত ছাত্রলীগ

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৮:২৯:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫১৮ বার পড়া হয়েছে

চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যায় সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের আওয়ামীপন্থি শিক্ষক হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভ নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে তিনি ক্যাম্পাসে এলে চাকসুর প্রতিনিধিরা তাকে ধরে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসেন।

জানা যায়, আটক হাসান মুহাম্মদ রোমানের মুঠোফোনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ চবির রানিং কমিটির সভাপতি রেজাউল হক রুবেল, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু, পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে আলাদা করার ঘোষণা দেওয়া লীগ নেতা আবরার শাহরিয়ারের সাথে তার নিয়মিত কথোপকথনের প্রমাণ পাওয়া যায়। এমনটি গতকাল শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতেও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের চবি শাখার সভাপতির সাথে তার কথা হয়।

এ বিষয়ে চাকসুর পরিবহন ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক মো. ইসহাক ভূঁঞা বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী হেনস্তা এবং সব ধরনের অপকর্মের নেতৃত্ব যারা দিয়েছিল তাদের মধ্যে অন্যতম হাসান রোমান। এছাড়াও নানা ধরনের অপকর্মে তিনি জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিশন গঠিত হয়েছিল যেখানে রিপোর্টটির বিরুদ্ধে যায়। এ অবস্থায় তার সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা এবং বেতন ভাতা বন্ধ হওয়ার কথা থাকলেও তিনি ভর্তি পরীক্ষার ডিউটি পান। বিষয়টি জানাজানি হল শিক্ষার্থীরা তাকে ধরে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসেন।

এসময় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মের প্রমাণও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি চাকসুর‌ আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদ বলেন, তিনি শাহ আমানত হলের হল টিউটর থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগকে বিভিন্ন ভাবে গাইড করত। তাছাড়া ছাত্রলীগের গ্রুপগুলো তিনি বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন। শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন আন্দোলনগুলোকে জঙ্গী ট্যাগ দিয়ে দমন করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন। জুলাই আন্দোলনেও ফ্যাসিবাদের পক্ষে তিনি বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। গতরাতেও তিনি চবির নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি রুবেলের সাথে কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, তাকে কেউ নিজ থেকে দৌড়ায় নাই। আমরা গিয়েছিলাম ডিন স্যারের কাছে তার ব্যাপারে জবাব চাইতে। তখনই দেখি তিনি দৌড়ে চলে যাচ্ছে। আইন অনুষদের পিছনের রাস্তা দিয়ে দৌড়ে পালাতে গিয়ে নিজেই পড়ে যান। তখন কয়েকজন শিক্ষার্থী দেখতে পেয়ে তার পিছু করে ধরে ফেলে এবং তাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ-চীনের ওপর নজর রাখতে পশ্চিমবঙ্গে ভারতের নৌঘাঁটি

চবির সেই আওয়ামীপন্থি শিক্ষকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত ছাত্রলীগ

আপডেট সময় ০৮:২৯:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যায় সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের আওয়ামীপন্থি শিক্ষক হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভ নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে তিনি ক্যাম্পাসে এলে চাকসুর প্রতিনিধিরা তাকে ধরে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসেন।

জানা যায়, আটক হাসান মুহাম্মদ রোমানের মুঠোফোনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ চবির রানিং কমিটির সভাপতি রেজাউল হক রুবেল, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু, পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে আলাদা করার ঘোষণা দেওয়া লীগ নেতা আবরার শাহরিয়ারের সাথে তার নিয়মিত কথোপকথনের প্রমাণ পাওয়া যায়। এমনটি গতকাল শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতেও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের চবি শাখার সভাপতির সাথে তার কথা হয়।

এ বিষয়ে চাকসুর পরিবহন ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক মো. ইসহাক ভূঁঞা বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী হেনস্তা এবং সব ধরনের অপকর্মের নেতৃত্ব যারা দিয়েছিল তাদের মধ্যে অন্যতম হাসান রোমান। এছাড়াও নানা ধরনের অপকর্মে তিনি জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিশন গঠিত হয়েছিল যেখানে রিপোর্টটির বিরুদ্ধে যায়। এ অবস্থায় তার সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা এবং বেতন ভাতা বন্ধ হওয়ার কথা থাকলেও তিনি ভর্তি পরীক্ষার ডিউটি পান। বিষয়টি জানাজানি হল শিক্ষার্থীরা তাকে ধরে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসেন।

এসময় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মের প্রমাণও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি চাকসুর‌ আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদ বলেন, তিনি শাহ আমানত হলের হল টিউটর থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগকে বিভিন্ন ভাবে গাইড করত। তাছাড়া ছাত্রলীগের গ্রুপগুলো তিনি বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন। শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন আন্দোলনগুলোকে জঙ্গী ট্যাগ দিয়ে দমন করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন। জুলাই আন্দোলনেও ফ্যাসিবাদের পক্ষে তিনি বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। গতরাতেও তিনি চবির নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি রুবেলের সাথে কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, তাকে কেউ নিজ থেকে দৌড়ায় নাই। আমরা গিয়েছিলাম ডিন স্যারের কাছে তার ব্যাপারে জবাব চাইতে। তখনই দেখি তিনি দৌড়ে চলে যাচ্ছে। আইন অনুষদের পিছনের রাস্তা দিয়ে দৌড়ে পালাতে গিয়ে নিজেই পড়ে যান। তখন কয়েকজন শিক্ষার্থী দেখতে পেয়ে তার পিছু করে ধরে ফেলে এবং তাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসে।