ঢাকা ১১:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাতীবান্ধায় আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় গভীর রাতে ওসি’র উপস্থিতি, তদন্ত কমিটি

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১০:৫৫:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫২৯ বার পড়া হয়েছে

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ’র বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠকে অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে জেলা পুলিশ এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

 

শনিবার (১০ জানুয়ারি) লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহাদাত হোসেন সুমাকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন তাজু’র বাসায় একটি দাওয়াতের আয়োজন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, দাওয়াতের আড়ালে সেখানে একটি গোপন রাজনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের অন্তত ছয়জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠে।

 

জানা গেছে, আমজাদ হোসেন তাজু লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ডামি প্রার্থী ছিলেন। তিনি একাধিক মামলার আসামি এবং বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, বৈঠক ও দাওয়াতের বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হতে শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে দ্রুত ওই বাসা ত্যাগ করেন ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। একটি সূত্র জানায়, ওই সময় হাতীবান্ধার বাসিন্দা হলেও জেলার বাইরে কর্মরত প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

 

 

এদিকে আমজাদ হোসেন তাজু’র স্ত্রী শাপলা আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এটি কোনো গোপন বৈঠক নয়। আমাদের বাসায় একটি পারিবারিক দাওয়াতের আয়োজন ছিল। সেখানে বিভিন্ন অতিথি উপস্থিত ছিলেন।”

অন্যদিকে শনিবার সকালে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ দাবি করেন, তিনি কোনো আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় যাননি এবং গোপন বৈঠকের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

 

তবে লালমনিরহাট সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) জয়ন্ত কুমার সেন জানান, “ওই বাসায় পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দাওয়াতে উপস্থিত ছিলেন। তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেই ওসি সেখানে গিয়েছিলেন।”

 

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান আরও বলেন, “ওসি’র উপস্থিতি ও বৈঠক সংক্রান্ত অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ-চীনের ওপর নজর রাখতে পশ্চিমবঙ্গে ভারতের নৌঘাঁটি

হাতীবান্ধায় আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় গভীর রাতে ওসি’র উপস্থিতি, তদন্ত কমিটি

আপডেট সময় ১০:৫৫:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ’র বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠকে অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে জেলা পুলিশ এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

 

শনিবার (১০ জানুয়ারি) লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহাদাত হোসেন সুমাকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন তাজু’র বাসায় একটি দাওয়াতের আয়োজন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, দাওয়াতের আড়ালে সেখানে একটি গোপন রাজনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের অন্তত ছয়জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠে।

 

জানা গেছে, আমজাদ হোসেন তাজু লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ডামি প্রার্থী ছিলেন। তিনি একাধিক মামলার আসামি এবং বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, বৈঠক ও দাওয়াতের বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হতে শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে দ্রুত ওই বাসা ত্যাগ করেন ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। একটি সূত্র জানায়, ওই সময় হাতীবান্ধার বাসিন্দা হলেও জেলার বাইরে কর্মরত প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

 

 

এদিকে আমজাদ হোসেন তাজু’র স্ত্রী শাপলা আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এটি কোনো গোপন বৈঠক নয়। আমাদের বাসায় একটি পারিবারিক দাওয়াতের আয়োজন ছিল। সেখানে বিভিন্ন অতিথি উপস্থিত ছিলেন।”

অন্যদিকে শনিবার সকালে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ দাবি করেন, তিনি কোনো আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় যাননি এবং গোপন বৈঠকের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

 

তবে লালমনিরহাট সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) জয়ন্ত কুমার সেন জানান, “ওই বাসায় পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দাওয়াতে উপস্থিত ছিলেন। তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেই ওসি সেখানে গিয়েছিলেন।”

 

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান আরও বলেন, “ওসি’র উপস্থিতি ও বৈঠক সংক্রান্ত অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”