হিজবুত তাহরীর সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তরা এলাকায় জুলাই বিপ্লবে অংশ নেওয়া কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) জুমার নামাজ শেষে উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টর জামে মসজিদের সামনে হিজবুত তাহরীরের কয়েকজন কর্মী ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তুলে নেওয়ার প্রতিবাদে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে। এ সময় উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজন মুসল্লিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন সাদ ইবনে মাহবুব নামে এক যুবক। পরিবারের দাবি, সাদ কোনোভাবেই হিজবুত তাহরীরের সঙ্গে জড়িত নন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী এবং উত্তরায় জুলাই বিপ্লবে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা রাতে উত্তরা পশ্চিম থানায় গিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় পুলিশ একটি আকাশী নীল পাঞ্জাবি পরিহিত ব্যক্তির ছবি দেখিয়ে সাদ ওই কর্মসূচিতে জড়িত বলে দাবি করে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ছবির ব্যক্তির সঙ্গে সাদের পোশাক, চুলের কাটিং কিংবা শারীরিক গড়নের কোনো মিল নেই। আটক হওয়ার সময় সাদ শার্ট পরিহিত ছিলেন, পাঞ্জাবি নয়—এমনকি পুলিশের হেফাজতে থাকায় তার পোশাক পরিবর্তনের সুযোগও ছিল না বলে পরিবার দাবি করে।
এ বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারলেও ওসি পরিবারের সদস্যদের জানান, ‘উপরের নির্দেশে’ সাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে উত্তরা পশ্চিম থানার মামলা নম্বর–১৫ (তারিখ: ৯/১/২০২৬) অনুযায়ী তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
জুলাই যোদ্ধা ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী সাদ হিজবুত তাহরীরের সাথে জড়িত নয়, হিজবুত তাহরীর সন্দেহ কেন সাদকে গ্রেফতার করা হয়েছে এব্যাপারে জানতে চাইলে উত্তরা পশ্চিম থানার ওফিসার ইনচার্জ বলেন, মামলা হয়েছে দোষী কিনা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জুলাই যোদ্ধা আজাদুর রহমান আকাশ উত্তরা পশ্চিম থানা ও ডিসি (উত্তর) কার্যালয়ে সাদের জুলাই বিপ্লবে ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরে প্রমাণ ছাড়া তাকে আটক না করার অনুরোধ জানান।
তবে এসব অনুরোধ উপেক্ষা করে পুলিশ ‘উর্ধ্বতন নির্দেশের’ কথা উল্লেখ করে সাদ ইবনে মাহবুবকে জঙ্গি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় উত্তরা এলাকায় জুলাই বিপ্লবে অংশ নেওয়া কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।



















