ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক করার পর এবার কিউবাকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই হুমকি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কিউবা একটি স্বাধীন দেশ এবং কেউ তাদের ওপর হুকুম চালাতে পারবে না। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
রবিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প কিউবাকে অবিলম্বে একটি ‘চুক্তি’ করার আহ্বান জানান। অন্যথায় দেশটিকে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল এবং অর্থের প্রবাহ এখন বন্ধ হয়ে যাবে।
ট্রাম্প লিখেছেন, কিউবা বহু বছর ধরে ভেনেজুয়েলার তেল ও অর্থের ওপর বেঁচে ছিল। বিনিময়ে তারা ভেনেজুয়েলার শেষ দুই একনায়ককে নিরাপত্তা দিয়েছে। কিন্তু এখন আর তা হবে না! কিউবায় আর কোনও তেল বা অর্থ যাবে না, একেবারে শূন্য! আমি দৃঢ়ভাবে পরামর্শ দিচ্ছি, অনেক দেরি হওয়ার আগেই তারা যেন একটি চুক্তিতে আসে।
ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, কিউবা একটি মুক্ত, স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। আমাদের কী করতে হবে, তা কেউ বলে দেবে না।
তিনি আরও লিখেছেন, কিউবা নিজের মাতৃভূমি রক্ষায় ‘শেষ রক্তবিন্দু’ দিয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত।
গত ৩ জানুয়ারি কারাকাসে এক ঝটিকা অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে মার্কিন বাহিনী। এরপর থেকেই ট্রাম্পের নজর এখন কিউবার দিকে। দীর্ঘদিনের মিত্র ভেনেজুয়েলা থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার ব্যারেল তেল কিউবায় যেত, যা এখন বন্ধের পথে। মার্কিন প্রশাসন এরই মধ্যে ভেনেজুয়েলার তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করা শুরু করেছে, যার ফলে কিউবায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট তীব্রতর হচ্ছে।
মাদুরোর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কিউবানদের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, গত সপ্তাহের মার্কিন অভিযানে সেই কিউবানদের বেশিরভাগই এখন মৃত। ভেনেজুয়েলার এখন আর সেই গুন্ডাদের সুরক্ষার প্রয়োজন নেই। তাদের রক্ষার জন্য এখন বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে।
কিউবার দাবি অনুযায়ী, কারাকাসের ওই অভিযানে তাদের ৩২ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত সপ্তাহে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে কিউবার নেতাদের চিন্তিত হওয়ার কারণ আছে। এদিকে রবিবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন যেখানে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে মার্কো রুবিও কিউবার প্রেসিডেন্ট হতে পারেন। পোস্টটি শেয়ার করে ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, এটি আমার কাছে ভালোই মনে হচ্ছে!’ রুবিও একজন কিউবান-আমেরিকান এবং কিউবা থেকে নির্বাসিত বাবা-মায়ের সন্তান।
ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন কিউবায় সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই কারণ দেশটি ‘পতনের জন্য তৈরি’ হয়ে আছে। তবে এখন চুক্তি করার জন্য যে চাপ তিনি দিচ্ছেন, তার শর্ত কী হবে বা না করলে কী পরিণতি হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।



















