ঢাকা ১২:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আমি সংসদে কী করতে পারি তা আপনারা দেখেছেন: রুমিন ফারহানা 

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১০:৫৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫০৪ বার পড়া হয়েছে

এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা একটি ব্যতিক্রমী প্রতিশ্রুতি নিয়ে এলাকাবাসীর সামনে হাজির হয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমি যদি এমপি নির্বাচিত হই, আমার চিকিৎসা শুরু হবে এই এলাকার সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেই। স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার বেহাল দশার সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। গতকাল রবিবার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের ধরন্তী গ্রামে এক উঠান বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকের শুরুতে গ্রামের সমর্থকেরা রুমিন ফারহানাকে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করে নেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ডাক্তার থাকে না, বিনামূল্যে ওষুধ মেলে না, পরীক্ষার যন্ত্রপাতি ঠিক থাকে না। যদি কোনো এমপি সেখানে চিকিৎসা নিত, তাহলে এসব কেন্দ্রের মান নিজ থেকেই বাড়তো। কিন্তু দুর্ভাগ্য, আমাদের এমপিরা চিকিৎসা নেন লন্ডন-সিঙ্গাপুর-ব্যাংককে। তিনি বলেন, আমি যদি এমপি হই, আমার চিকিৎসা শুরু হবে এই এলাকার সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেই। তখন সেই কেন্দ্রের সবকিছু ঠিক থাকবে। আর না থাকলে সংসদে আমি কী করতে পারি তা আওয়ামী লীগের সময় আপনারা দেখেছেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, আমার নির্বাচনী লড়াই কোনো একক সিদ্ধান্ত নয়, বরং ৯-১০ বছর ধরে আমার সঙ্গে কাজ করা কর্মী-সমর্থক ও এলাকাবাসীর যৌথ সিদ্ধান্ত। তিনি দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পেছনের যুক্তি ও জনমনের কথা সরাসরি ব্যাখ্যা করেন। রুমিন ফারহানা বলেন, ২০১৭ সাল থেকে আমি আপনাদের পাশে কাজ করছি। তখন বিএনপি আমাকে আমার বাবার এলাকায় কাজ করার দায়িত্ব ও আশ্বাস দিয়েছিলো। আমি সেই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছি। কিন্তু যখন এই আসনে জোটের প্রার্থী দেওয়া হলো, আমি প্রতিটি ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মতামত নিয়েছি। তারা আমাকে নির্দিধায় বলেছেন, ‘আপনাকে নির্বাচন করতে হবে।’ সুতরাং আমার এই লড়াই একক সিদ্ধান্ত নয়।

তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ইনশাআল্লাহ আপনারা যদি আমাকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করেন, আমি সরাইল-আশুগঞ্জকে মডেল উপজেলায় রূপান্তর করবো। নির্বাচনী হুমকি-ধমকি প্রসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কেউ আমার কর্মীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করলে বলি, তাদের আমার কর্মীর গায়ের পশম ধরার আগে আমাকে জবাব দিতে হবে। শেখ হাসিনার আমলে আমার এক কর্মীকে থানায় নেওয়া হয়েছিলো। আমি সেই রাত ২টা পর্যন্ত থানায় অবস্থান নিয়েছিলাম। শেষে ওসি তাকে ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলো। এখন তো কেউ ক্ষমতায় নেই। নির্দলীয় সরকারের একমাত্র কাজ হলো নির্বাচন সুষ্ঠু করা। আপনারা নির্ভয়ে কাজ করবেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে রুমিন ফারহানা বলেন, এই আসনে সব মিডিয়ার চোখ। বড় বড় সংস্থার নজর থাকবে, ভোট সঠিকভাবে হচ্ছে কি না। কারণ এই আসনে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা লড়ছেন। তাই এখানে পান থেকে চুন খসলেই সারা দুনিয়ায় খবর হয়ে যাবে। একটা মাগুরা উপনির্বাচনের খেসারত দিতে হয়েছে ১৭ বছর। এই ভুল আবার কেউ করবে বলে মনে হয় না। তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা আমার পাশে থাকেন, আপনাদের পক্ষে কাজ করতে আমি দুইবার চিন্তাও করবো না।

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্রিকেটের সঙ্গে দেশের সম্মান জড়িত, আমাদের একজন ক্রিকেটারকে অপমান করা মানে দেশকে অপমান করা: মির্জা ফখরুল

আমি সংসদে কী করতে পারি তা আপনারা দেখেছেন: রুমিন ফারহানা 

আপডেট সময় ১০:৫৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা একটি ব্যতিক্রমী প্রতিশ্রুতি নিয়ে এলাকাবাসীর সামনে হাজির হয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমি যদি এমপি নির্বাচিত হই, আমার চিকিৎসা শুরু হবে এই এলাকার সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেই। স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার বেহাল দশার সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। গতকাল রবিবার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের ধরন্তী গ্রামে এক উঠান বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকের শুরুতে গ্রামের সমর্থকেরা রুমিন ফারহানাকে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করে নেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ডাক্তার থাকে না, বিনামূল্যে ওষুধ মেলে না, পরীক্ষার যন্ত্রপাতি ঠিক থাকে না। যদি কোনো এমপি সেখানে চিকিৎসা নিত, তাহলে এসব কেন্দ্রের মান নিজ থেকেই বাড়তো। কিন্তু দুর্ভাগ্য, আমাদের এমপিরা চিকিৎসা নেন লন্ডন-সিঙ্গাপুর-ব্যাংককে। তিনি বলেন, আমি যদি এমপি হই, আমার চিকিৎসা শুরু হবে এই এলাকার সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেই। তখন সেই কেন্দ্রের সবকিছু ঠিক থাকবে। আর না থাকলে সংসদে আমি কী করতে পারি তা আওয়ামী লীগের সময় আপনারা দেখেছেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, আমার নির্বাচনী লড়াই কোনো একক সিদ্ধান্ত নয়, বরং ৯-১০ বছর ধরে আমার সঙ্গে কাজ করা কর্মী-সমর্থক ও এলাকাবাসীর যৌথ সিদ্ধান্ত। তিনি দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পেছনের যুক্তি ও জনমনের কথা সরাসরি ব্যাখ্যা করেন। রুমিন ফারহানা বলেন, ২০১৭ সাল থেকে আমি আপনাদের পাশে কাজ করছি। তখন বিএনপি আমাকে আমার বাবার এলাকায় কাজ করার দায়িত্ব ও আশ্বাস দিয়েছিলো। আমি সেই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছি। কিন্তু যখন এই আসনে জোটের প্রার্থী দেওয়া হলো, আমি প্রতিটি ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মতামত নিয়েছি। তারা আমাকে নির্দিধায় বলেছেন, ‘আপনাকে নির্বাচন করতে হবে।’ সুতরাং আমার এই লড়াই একক সিদ্ধান্ত নয়।

তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ইনশাআল্লাহ আপনারা যদি আমাকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করেন, আমি সরাইল-আশুগঞ্জকে মডেল উপজেলায় রূপান্তর করবো। নির্বাচনী হুমকি-ধমকি প্রসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কেউ আমার কর্মীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করলে বলি, তাদের আমার কর্মীর গায়ের পশম ধরার আগে আমাকে জবাব দিতে হবে। শেখ হাসিনার আমলে আমার এক কর্মীকে থানায় নেওয়া হয়েছিলো। আমি সেই রাত ২টা পর্যন্ত থানায় অবস্থান নিয়েছিলাম। শেষে ওসি তাকে ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলো। এখন তো কেউ ক্ষমতায় নেই। নির্দলীয় সরকারের একমাত্র কাজ হলো নির্বাচন সুষ্ঠু করা। আপনারা নির্ভয়ে কাজ করবেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে রুমিন ফারহানা বলেন, এই আসনে সব মিডিয়ার চোখ। বড় বড় সংস্থার নজর থাকবে, ভোট সঠিকভাবে হচ্ছে কি না। কারণ এই আসনে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা লড়ছেন। তাই এখানে পান থেকে চুন খসলেই সারা দুনিয়ায় খবর হয়ে যাবে। একটা মাগুরা উপনির্বাচনের খেসারত দিতে হয়েছে ১৭ বছর। এই ভুল আবার কেউ করবে বলে মনে হয় না। তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা আমার পাশে থাকেন, আপনাদের পক্ষে কাজ করতে আমি দুইবার চিন্তাও করবো না।