ঢাকা ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কোনো অভিযোগ আছে কি না, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে: জামায়াতের কাছে জানতে চায় ইইউ

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১১:১৭:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫২৩ বার পড়া হয়েছে

জামায়াতের কাছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদল জানতে চেয়েছে সব দলের জন্য সমান সুযোগ আছে কি না, কোনো সুনির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জ ও অভিযোগ আছে কি না। জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে প্রতিবেশীসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে, তা ইইউ প্রতিনিধিদল জানতে চেয়েছে। তবে জামায়াত অভিযোগ আছে বলে জানালেও এখনই সেগুলো প্রকাশ করবে না বলে তাদের জানিয়েছে।

 

সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভার্স ইজাবসের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন জামায়াতের আমির। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

 

জামায়াত আমির বলেন, বৈঠকে ইইউ প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে সব দলের জন্য সমান সুযোগ আছে কি না, কোনো সুনির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জ ও অভিযোগ আছে কি না, তা জামায়াতের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। জামায়াত অভিযোগ আছে বলে জানালেও এখনই সেগুলো প্রকাশ করবে না বলে তাদের জানিয়েছে। আগে নির্বাচন কমিশন এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে অভিযোগ ও চ্যালেঞ্জের বিষয়ে জানাতে চায় জামায়াত। এরপরও সমাধান না পেলে জামায়াত জনগণকে এসব বিষয়ে জানাবে।

 

জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে প্রতিবেশীসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে ইইউ প্রতিনিধিদলের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, জামায়াতের সঙ্গে বিশ্বের সভ্য, শান্তিকামী ও গণতান্ত্রিক সব রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকবে বলে তাঁদের জানানো হয়েছে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। প্রতিবেশীরাও প্রতিবেশীর মতো আচরণ করবে, এমন আশা করে জামায়াত। তবে সেই আচরণ হতে হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে। নির্দিষ্ট কোনো রাষ্ট্রের দিকে না ঝুঁকে সারা বিশ্বের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সমন্বয় রক্ষা করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চায় জামায়াত।

 

নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি জামায়াত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে উল্লেখ করে দলটির আমির বলেন, তারা বিশ্বাস করেন, মা-বোনেরা এবার জামায়াতকে বেছে নেবেন। এর লক্ষণ ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু জামায়াতের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারীদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি হিজাব খুলে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তাঁদের তাড়িয়ে দেওয়ার, ঠেকিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দলের কাজ হচ্ছে সব শ্রেণি-পেশার, বয়সের, লিঙ্গের মানুষকে সম্মান দেখানো। শুধু রাজনৈতিক কারণে কাউকে অপমান করার অধিকার কারও নেই।

 

শফিকুর রহমান বলেন, আশা করা যায়, আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। জামায়াত অর্পিত আমানতের বোঝা সঠিকভাবে বহন করার চেষ্টা করবে। জনগণ যদি অন্য কাউকে পছন্দ করে, জামায়াত দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে। অন্যরা যদি বিরোধী দলে যায়, তাদের কাছ থেকেও একই বিষয় প্রত্যাশা করে জামায়াত। এটা স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি। নির্বাচন হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থিতিশীলতার প্রক্রিয়ায় কোনো পক্ষ বা রাজনৈতিক দল হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। বিচার বিভাগ স্বাধীনতা ভোগ করবে। তবে বিচার বিভাগেরও জবাবদিহি, দায়বদ্ধতার জায়গা থাকবে। সেটিও নিশ্চিত করা হবে, যাতে সেখানে একটি ভারসাম্য নিশ্চিত করা যায়।

 

গত ৫৪ বছরের রাজনীতি দেখে জনগণ হতাশ উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, এই রাজনীতি আর মানুষ দেখতে চায় না, তারা পরিবর্তন চায়। সেই পরিবর্তনের জন্য মাসের পর মাস ঐকমত্য কমিশন বৈঠক করেছে। যারা সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই সেসব বৈঠকে অংশ নিয়েছে। এসব বৈঠক থেকে উঠে আসা পরামর্শকে ধারণ ও গ্রহণ করতে হবে। ক্ষমতায় গেলে এসব বাস্তবায়ন করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে দলগুলোকে। সংস্কার বাস্তবায়ন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত এবং দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান যদি নিশ্চিত হয়, তাহলে সব ধরনের সহায়তা করতে জামায়াত প্রস্তুত।

জনপ্রিয় সংবাদ

বছরের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল ভারত

কোনো অভিযোগ আছে কি না, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে: জামায়াতের কাছে জানতে চায় ইইউ

আপডেট সময় ১১:১৭:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

জামায়াতের কাছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদল জানতে চেয়েছে সব দলের জন্য সমান সুযোগ আছে কি না, কোনো সুনির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জ ও অভিযোগ আছে কি না। জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে প্রতিবেশীসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে, তা ইইউ প্রতিনিধিদল জানতে চেয়েছে। তবে জামায়াত অভিযোগ আছে বলে জানালেও এখনই সেগুলো প্রকাশ করবে না বলে তাদের জানিয়েছে।

 

সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভার্স ইজাবসের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন জামায়াতের আমির। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

 

জামায়াত আমির বলেন, বৈঠকে ইইউ প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে সব দলের জন্য সমান সুযোগ আছে কি না, কোনো সুনির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জ ও অভিযোগ আছে কি না, তা জামায়াতের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। জামায়াত অভিযোগ আছে বলে জানালেও এখনই সেগুলো প্রকাশ করবে না বলে তাদের জানিয়েছে। আগে নির্বাচন কমিশন এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে অভিযোগ ও চ্যালেঞ্জের বিষয়ে জানাতে চায় জামায়াত। এরপরও সমাধান না পেলে জামায়াত জনগণকে এসব বিষয়ে জানাবে।

 

জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে প্রতিবেশীসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে ইইউ প্রতিনিধিদলের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, জামায়াতের সঙ্গে বিশ্বের সভ্য, শান্তিকামী ও গণতান্ত্রিক সব রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকবে বলে তাঁদের জানানো হয়েছে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। প্রতিবেশীরাও প্রতিবেশীর মতো আচরণ করবে, এমন আশা করে জামায়াত। তবে সেই আচরণ হতে হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে। নির্দিষ্ট কোনো রাষ্ট্রের দিকে না ঝুঁকে সারা বিশ্বের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সমন্বয় রক্ষা করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চায় জামায়াত।

 

নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি জামায়াত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে উল্লেখ করে দলটির আমির বলেন, তারা বিশ্বাস করেন, মা-বোনেরা এবার জামায়াতকে বেছে নেবেন। এর লক্ষণ ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু জামায়াতের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারীদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি হিজাব খুলে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তাঁদের তাড়িয়ে দেওয়ার, ঠেকিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দলের কাজ হচ্ছে সব শ্রেণি-পেশার, বয়সের, লিঙ্গের মানুষকে সম্মান দেখানো। শুধু রাজনৈতিক কারণে কাউকে অপমান করার অধিকার কারও নেই।

 

শফিকুর রহমান বলেন, আশা করা যায়, আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। জামায়াত অর্পিত আমানতের বোঝা সঠিকভাবে বহন করার চেষ্টা করবে। জনগণ যদি অন্য কাউকে পছন্দ করে, জামায়াত দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে। অন্যরা যদি বিরোধী দলে যায়, তাদের কাছ থেকেও একই বিষয় প্রত্যাশা করে জামায়াত। এটা স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি। নির্বাচন হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থিতিশীলতার প্রক্রিয়ায় কোনো পক্ষ বা রাজনৈতিক দল হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। বিচার বিভাগ স্বাধীনতা ভোগ করবে। তবে বিচার বিভাগেরও জবাবদিহি, দায়বদ্ধতার জায়গা থাকবে। সেটিও নিশ্চিত করা হবে, যাতে সেখানে একটি ভারসাম্য নিশ্চিত করা যায়।

 

গত ৫৪ বছরের রাজনীতি দেখে জনগণ হতাশ উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, এই রাজনীতি আর মানুষ দেখতে চায় না, তারা পরিবর্তন চায়। সেই পরিবর্তনের জন্য মাসের পর মাস ঐকমত্য কমিশন বৈঠক করেছে। যারা সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই সেসব বৈঠকে অংশ নিয়েছে। এসব বৈঠক থেকে উঠে আসা পরামর্শকে ধারণ ও গ্রহণ করতে হবে। ক্ষমতায় গেলে এসব বাস্তবায়ন করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে দলগুলোকে। সংস্কার বাস্তবায়ন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত এবং দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান যদি নিশ্চিত হয়, তাহলে সব ধরনের সহায়তা করতে জামায়াত প্রস্তুত।