ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাইকগাছায় ভেঙে ফেলা হয়েছে আওয়ামী লীগের কার্যালয়

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৮:৪৩:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫১৭ বার পড়া হয়েছে

 

সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে পাইকগাছা পৌর সদরের মধুমিতা পার্কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অংশ হিসেবে ভেঙে ফেলা হলো খুলনার পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়। উচ্চ আদালতের আদেশে খুলনা জেলা পরিষদের জায়গায় নির্মিত দ্বিতল ভবনের দলীয় কার্যালয় টি ১৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার বুল ডোজার দিয়ে সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়। উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হাসান। এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী, সহকারী কমিশনার ভূমি মো. ফজলে রাব্বী ও ওসি তদন্ত ইদ্রিসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য ১৯৮০ সালে পাইকগাছা উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে খুলনা জেলা পরিষদের মালিকানাধীন জায়গা স্থাপন করা হয় মধুমিতা পার্ক। পার্কের মাঝে একটি পুকুর রয়েছে, যে পুকুরের পানি এলাকার মানুষ সুপেয় পানি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। অন্য সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে পার্কটি দৃষ্টি নন্দন করা হয়। এদিকে ২০০৪ সালে কিছু মানুষ পার্কের জায়গা স্থাপনা নির্মাণ করে মার্কেট তৈরী করেন। এর বিরুদ্ধে পার্ক সংরক্ষণ কমিটির পক্ষে ২০০৫ সালে উচ্চ আদালতে রিট পটিশন করেন। যার নং ৩৫৯০/০৫। মহামান্য হাইকোর্ট অবৈধ নির্মাণ বন্ধের আদেশ দিলে তা কার্যকর না হওয়ায় পার্ক সংরক্ষণ কমিটির পক্ষে পরবর্তীতে মহামান্য হাইকোর্ট অব কন্টেম পিটিশন দাখিল করেন। যার নং ১০২/২২ কয়েক দফা শুনানি অন্তে মহামান্য হাইকোর্ট ২০ দিনের মধ্যে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের আদেশ দেন। আদালতের আদেশে ২০২৩ সালের মে মাসে পার্কের ৩০ টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলে ও থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের দ্বিতল ভবনটি।

 

আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের এই ভবন টি নির্মাণ করেন আওয়ামী লীগের প্রয়াত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোঃ নূরুল হক। শেখ মোঃ নূরুল হক দশম সংসদের সংসদ সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে একাদশ সংসদে আলহাজ্ব আক্তারুজ্জামান বাবু নির্বাচিত হয়ে দলীয় কার্যালয়ের সম্প্রসারণ করেন। জুলাই আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীরা ৫ আগস্ট দলীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দলীয় এ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের কোন নেতাকর্মীর উপস্থিত দেখা যায়নি। অবশেষে মহামান্য হাইকোর্টের আদেশে খুলনা জেলা পরিষদের জায়গায় নির্মিত পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সম্পূর্ণ দ্বিতল ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়।

 

মঙ্গলবার সকাল থেকে দিনভর বুল ডোজার ও বেশ কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে উচ্ছেদ করা হয় দলীয় কার্যালয়টি। আদালতের আদেশে উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে এটি ভাঙা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হাসান।

জনপ্রিয় সংবাদ

মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র অস্বীকারকারীদের রাজনীতিতে থাকার অধিকার নেই: ইশরাক হোসেন

পাইকগাছায় ভেঙে ফেলা হয়েছে আওয়ামী লীগের কার্যালয়

আপডেট সময় ০৮:৪৩:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

 

সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে পাইকগাছা পৌর সদরের মধুমিতা পার্কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অংশ হিসেবে ভেঙে ফেলা হলো খুলনার পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়। উচ্চ আদালতের আদেশে খুলনা জেলা পরিষদের জায়গায় নির্মিত দ্বিতল ভবনের দলীয় কার্যালয় টি ১৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার বুল ডোজার দিয়ে সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়। উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হাসান। এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী, সহকারী কমিশনার ভূমি মো. ফজলে রাব্বী ও ওসি তদন্ত ইদ্রিসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য ১৯৮০ সালে পাইকগাছা উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে খুলনা জেলা পরিষদের মালিকানাধীন জায়গা স্থাপন করা হয় মধুমিতা পার্ক। পার্কের মাঝে একটি পুকুর রয়েছে, যে পুকুরের পানি এলাকার মানুষ সুপেয় পানি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। অন্য সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে পার্কটি দৃষ্টি নন্দন করা হয়। এদিকে ২০০৪ সালে কিছু মানুষ পার্কের জায়গা স্থাপনা নির্মাণ করে মার্কেট তৈরী করেন। এর বিরুদ্ধে পার্ক সংরক্ষণ কমিটির পক্ষে ২০০৫ সালে উচ্চ আদালতে রিট পটিশন করেন। যার নং ৩৫৯০/০৫। মহামান্য হাইকোর্ট অবৈধ নির্মাণ বন্ধের আদেশ দিলে তা কার্যকর না হওয়ায় পার্ক সংরক্ষণ কমিটির পক্ষে পরবর্তীতে মহামান্য হাইকোর্ট অব কন্টেম পিটিশন দাখিল করেন। যার নং ১০২/২২ কয়েক দফা শুনানি অন্তে মহামান্য হাইকোর্ট ২০ দিনের মধ্যে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের আদেশ দেন। আদালতের আদেশে ২০২৩ সালের মে মাসে পার্কের ৩০ টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলে ও থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের দ্বিতল ভবনটি।

 

আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের এই ভবন টি নির্মাণ করেন আওয়ামী লীগের প্রয়াত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোঃ নূরুল হক। শেখ মোঃ নূরুল হক দশম সংসদের সংসদ সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে একাদশ সংসদে আলহাজ্ব আক্তারুজ্জামান বাবু নির্বাচিত হয়ে দলীয় কার্যালয়ের সম্প্রসারণ করেন। জুলাই আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীরা ৫ আগস্ট দলীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দলীয় এ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের কোন নেতাকর্মীর উপস্থিত দেখা যায়নি। অবশেষে মহামান্য হাইকোর্টের আদেশে খুলনা জেলা পরিষদের জায়গায় নির্মিত পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সম্পূর্ণ দ্বিতল ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়।

 

মঙ্গলবার সকাল থেকে দিনভর বুল ডোজার ও বেশ কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে উচ্ছেদ করা হয় দলীয় কার্যালয়টি। আদালতের আদেশে উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে এটি ভাঙা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হাসান।