ঢাকা ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হ্যাঁ ভোটে বিজয় এলে সাংবাদিকদের দিকে কেউ চোখ রাঙাতে পারবে না: মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০১:১০:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫১৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেছেন, গণভোট শুধু একটি ভোট নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ভোট। জুলাই বিপ্লবে যারা আহত ও নিহত হয়েছেন, গণভোট তাদের আত্মত্যাগের প্রতি জাতির দায় শোধ করার একটি সুযোগ।

একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ সামনে রেখে ঝালকাঠিতে সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত এক অবহিতকরণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, গণভোট সফল করতে হলে নিরপেক্ষ তথ্য প্রচার এবং ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমেই জনগণের আস্থা অর্জন করা সম্ভব।

সাংবাদিকদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণভোটের সময় সাংবাদিকদের দায়িত্ব অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী শেয়ার করা হবে আর কী করা হবে না— সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আরও বলেন, নির্বাচন বা গণভোট সংক্রান্ত কোনো তথ্য শুধুমাত্র সরকারি ও যাচাইকৃত সূত্র ছাড়া প্রচার করা যাবে না। নিজের নিরাপত্তার বিষয়টিও সাংবাদিকদের মাথায় রাখতে হবে। গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ছিল সংকুচিত। অনেক সাংবাদিক গুম, খুন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। ৫ আগস্টের আগের সেই পরিস্থিতিতে কেউই ফিরে যেতে চায় না। এখন আর কোনো সাংবাদিককে নির্যাতন করে পার পাওয়া যাবে না। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে গণমাধ্যমও নিরাপদ থাকবে।

গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে এই দায় শোধ করতে হবে। হ্যাঁ ভোটে বিজয় এলে সাংবাদিকদের দিকে কেউ চোখ রাঙাতে পারবে না। অন্যথায় অতীতের দুঃসময় ফিরে আসার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

এর আগে তিনি বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও বরগুনা জেলার ৩০ জন সাংবাদিকের মাঝে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করেন।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মমিন উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. সাইফুল ইসলাম, ট্রাস্টের উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এ বি এম রফিকুল ইসলাম এবং ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আককাস সিকদারসহ অন্যান্যরা।

‎সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, গণভোট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যেখানে জনগণ সরাসরি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে মত প্রকাশের সুযোগ পায়। গণভোটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের মতামতকে সম্মান দেওয়া এবং একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো। গণভোটের চারটি প্রস্তাবনা কমিশনের কাছ থেকে এসেছে যা সরাসরি জনগণের কাছে ছোড়া হয়েছে মতামতের জন্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

হ্যাঁ ভোটে বিজয় এলে সাংবাদিকদের দিকে কেউ চোখ রাঙাতে পারবে না: মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ

হ্যাঁ ভোটে বিজয় এলে সাংবাদিকদের দিকে কেউ চোখ রাঙাতে পারবে না: মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ

আপডেট সময় ০১:১০:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেছেন, গণভোট শুধু একটি ভোট নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ভোট। জুলাই বিপ্লবে যারা আহত ও নিহত হয়েছেন, গণভোট তাদের আত্মত্যাগের প্রতি জাতির দায় শোধ করার একটি সুযোগ।

একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ সামনে রেখে ঝালকাঠিতে সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত এক অবহিতকরণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, গণভোট সফল করতে হলে নিরপেক্ষ তথ্য প্রচার এবং ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমেই জনগণের আস্থা অর্জন করা সম্ভব।

সাংবাদিকদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণভোটের সময় সাংবাদিকদের দায়িত্ব অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী শেয়ার করা হবে আর কী করা হবে না— সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আরও বলেন, নির্বাচন বা গণভোট সংক্রান্ত কোনো তথ্য শুধুমাত্র সরকারি ও যাচাইকৃত সূত্র ছাড়া প্রচার করা যাবে না। নিজের নিরাপত্তার বিষয়টিও সাংবাদিকদের মাথায় রাখতে হবে। গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ছিল সংকুচিত। অনেক সাংবাদিক গুম, খুন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। ৫ আগস্টের আগের সেই পরিস্থিতিতে কেউই ফিরে যেতে চায় না। এখন আর কোনো সাংবাদিককে নির্যাতন করে পার পাওয়া যাবে না। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে গণমাধ্যমও নিরাপদ থাকবে।

গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে এই দায় শোধ করতে হবে। হ্যাঁ ভোটে বিজয় এলে সাংবাদিকদের দিকে কেউ চোখ রাঙাতে পারবে না। অন্যথায় অতীতের দুঃসময় ফিরে আসার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

এর আগে তিনি বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও বরগুনা জেলার ৩০ জন সাংবাদিকের মাঝে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করেন।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মমিন উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. সাইফুল ইসলাম, ট্রাস্টের উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এ বি এম রফিকুল ইসলাম এবং ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আককাস সিকদারসহ অন্যান্যরা।

‎সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, গণভোট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যেখানে জনগণ সরাসরি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে মত প্রকাশের সুযোগ পায়। গণভোটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের মতামতকে সম্মান দেওয়া এবং একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো। গণভোটের চারটি প্রস্তাবনা কমিশনের কাছ থেকে এসেছে যা সরাসরি জনগণের কাছে ছোড়া হয়েছে মতামতের জন্য।