আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্রের ধারেকাছে ভিড়তে না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কুমিল্লার তিতাস উপজেলা বিএনপির নেতা কামরুজ্জামান হীরা। গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার সাতানী ইউনিয়নের চরকুমরিয়া বাজারে এক দোয়া মাহফিলে এমন বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্যের ৩ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
এদিকে ভাইরাল হওয়া বক্তব্য তাকে বলতে শোনা যায়, ‘কেন্দ্র থেকে আওয়ামী লীগই আমাকে সরাতে পারেনি, এখন তো আওয়ামী লীগের নামই নেই। কিসের স্বতন্ত্র আর কিসের জামায়াত—তাদেরকে কেন্দ্রের আশপাশেও ঢুকতে দেব না, ইনশাআল্লাহ। তবে আপনারা যথাযথ মূল্যায়ন করে জেনে রাখবেন।’
চরকুমরিয়া কেন্দ্রটি ১৯৯১ সাল থেকেই বিএনপির দুর্গ দাবি করে ওই নেতা আরও বলেন, ‘এই চরকুমরিয়া কেন্দ্র ১৯৯১ সাল থেকেই বিএনপি বিজয় লাভ করে আসছে। আওয়ামী লীগের আমলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সালাউদ্দিন সরকার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দাঁড়িয়েছিলেন, আমি তাকে এখান থেকে জয়যুক্ত করেছিলাম। তাই আমি বলবো, নেতৃবৃন্দকে—আমাদের চারটি কেন্দ্র নিয়ে আমাদের শামসুল হক বলেছে, আসুন আমরা ভাগ করে নেই। আমি তার কথার সমর্থন ও সাধুবাদ জানাচ্ছি। আগামী ১২ তারিখ এই কেন্দ্র থেকে আমি বিজয় অর্জন করে প্রমাণ করে দেব।’ একইসঙ্গে তিনি ওই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়াকে বিপুল ভোটে জয়ী করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং তাকে বড় মাপের নেতা হিসেবে অভিহিত করেন।
এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-২ আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া। দলীয় নেতার এমন বক্তব্যের বিষয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, ‘কামরুজ্জামান হীরা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত বক্তব্য। এই বক্তব্যের দায় দল নেবে না।’ অনুষ্ঠানটিতে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ভোটকেন্দ্র দখল ও প্রতিপক্ষকে ঢুকতে না দেওয়ার এমন হুমকির পর সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তিতাস উপজেলার সাধারণ ভোটাররা একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ভীতিহীন নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। বিএনপি নেতার এমন বক্তব্য নির্বাচনি আচরণবিধির পরিপন্থী কি না, তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।




















