ঢাকা ০৩:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মেয়েদের মাস্টার্স পর্যন্ত পড়ালেখা ফ্রি করবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৯:২৭:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫২২ বার পড়া হয়েছে

এবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে মেয়েদের মাস্টার্স পর্যন্ত বিনা খরচে পড়ালেখার সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি আরও বলেন, কুমিল্লাকে বিভাগ হিসেবে ঘোষণা করা হবে এবং দল ক্ষমতায় না এলেও কুমিল্লাকে বিভাগে উন্নীত করতে বাধ্য করা হবে। গতকাল শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ৯টায় কুমিল্লা টাউন হল মাঠে ১১ দলীয় জোটের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, যুবসমাজ বেকার ভাতা পাওয়ার জন্য আন্দোলন করেনি, বরং সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, যারা নিপীড়িত হওয়ার পরিবর্তে নিপীড়ক হয়ে উঠেছে, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে জনগণ তাদের পরাজিত করবে। এ ছাড়া তিনি মায়েদের অপমান করা হলে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের আবারও মাঠে নামার আহ্বান জানান। ডা. শফিক বলেছেন, বিভাগ গঠনের আগে কুমিল্লা বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করতে হবে এবং কুমিল্লা ইপিজেডকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা গেলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এখানে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন। তিনি বলেন, আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি করি না, প্রতিশোধ আমাদের নীতি নয়। আমরা সুনীতির রাজনীতি করি, রাজার নীতি নয়।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. শফিক বলেন, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দমন-পীড়নের শিকার হলেও ১/১১ পরবর্তী সময়ে কোনো দলের অফিস বন্ধ হয়নি বা প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, গুমের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা ৩৬ জুলাই সেজদায় শুকরিয়া আদায় করেছি। আমরা ঘোষণা দিয়েছি কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেব না।

তিনি আরও বলেন, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও জামায়াত চাঁদাবাজিতে জড়াবে না এবং খুব সীমিত আকারে মামলা করেছে। আমরা একজনকে আসামি করে মামলা করেছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। তাদের অবদানের কারণেই আজ আমরা কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি। তাদের চোখের পানি ও রক্ত আমরা দেখেছি। ডা. শফিক অভিযোগ করে বলেন, দেশে চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে। শিল্পপতি থেকে শুরু করে ফুটপাতের ব্যবসায়ী, কেউই রেহাই পাচ্ছেন না। রাতে ফোন দিয়ে চাঁদা চাওয়া হয়, সকালে লোক পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়। সাড়ে ১৫ বছর আমরা নির্যাতনের শিকার হয়েছি। তবু দেশের মানুষের ভালোবাসার কারণে দেশ ছেড়ে যাইনি এবং যাবও না।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দলের আমির বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান জানাতে হবে। ভোটের আগে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমরাও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না। মা-বোনদের সম্মান নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেললে যুব সমাজ চুপ থাকবে না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখে দাঁড়াতে হবে। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় এক বৃদ্ধা মা তাকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন রাখেন, একজন মাকে জড়িয়ে ধরলে এত আপত্তি কেন? তাদের কি মা নেই?

জনপ্রিয় সংবাদ

এবার তারেক রহমানের আসনে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে নারীদের বড় শোডাউন

মেয়েদের মাস্টার্স পর্যন্ত পড়ালেখা ফ্রি করবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট সময় ০৯:২৭:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

এবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে মেয়েদের মাস্টার্স পর্যন্ত বিনা খরচে পড়ালেখার সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি আরও বলেন, কুমিল্লাকে বিভাগ হিসেবে ঘোষণা করা হবে এবং দল ক্ষমতায় না এলেও কুমিল্লাকে বিভাগে উন্নীত করতে বাধ্য করা হবে। গতকাল শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ৯টায় কুমিল্লা টাউন হল মাঠে ১১ দলীয় জোটের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, যুবসমাজ বেকার ভাতা পাওয়ার জন্য আন্দোলন করেনি, বরং সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, যারা নিপীড়িত হওয়ার পরিবর্তে নিপীড়ক হয়ে উঠেছে, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে জনগণ তাদের পরাজিত করবে। এ ছাড়া তিনি মায়েদের অপমান করা হলে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের আবারও মাঠে নামার আহ্বান জানান। ডা. শফিক বলেছেন, বিভাগ গঠনের আগে কুমিল্লা বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করতে হবে এবং কুমিল্লা ইপিজেডকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা গেলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এখানে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন। তিনি বলেন, আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি করি না, প্রতিশোধ আমাদের নীতি নয়। আমরা সুনীতির রাজনীতি করি, রাজার নীতি নয়।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. শফিক বলেন, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দমন-পীড়নের শিকার হলেও ১/১১ পরবর্তী সময়ে কোনো দলের অফিস বন্ধ হয়নি বা প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, গুমের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা ৩৬ জুলাই সেজদায় শুকরিয়া আদায় করেছি। আমরা ঘোষণা দিয়েছি কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেব না।

তিনি আরও বলেন, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও জামায়াত চাঁদাবাজিতে জড়াবে না এবং খুব সীমিত আকারে মামলা করেছে। আমরা একজনকে আসামি করে মামলা করেছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। তাদের অবদানের কারণেই আজ আমরা কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি। তাদের চোখের পানি ও রক্ত আমরা দেখেছি। ডা. শফিক অভিযোগ করে বলেন, দেশে চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে। শিল্পপতি থেকে শুরু করে ফুটপাতের ব্যবসায়ী, কেউই রেহাই পাচ্ছেন না। রাতে ফোন দিয়ে চাঁদা চাওয়া হয়, সকালে লোক পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়। সাড়ে ১৫ বছর আমরা নির্যাতনের শিকার হয়েছি। তবু দেশের মানুষের ভালোবাসার কারণে দেশ ছেড়ে যাইনি এবং যাবও না।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দলের আমির বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান জানাতে হবে। ভোটের আগে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমরাও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না। মা-বোনদের সম্মান নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেললে যুব সমাজ চুপ থাকবে না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখে দাঁড়াতে হবে। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় এক বৃদ্ধা মা তাকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন রাখেন, একজন মাকে জড়িয়ে ধরলে এত আপত্তি কেন? তাদের কি মা নেই?