ঢাকা ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম মিসাইল আনল ইরান

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১০:১৯:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬০৭ বার পড়া হয়েছে

এবার ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতায় আরেকটি বড় অগ্রগতি অর্জনের দাবি করেছে। দেশটির ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা এমন একটি অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে, যা বিশ্বের যেকোনো শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম। একই সঙ্গে ইরান রাজধানী তেহরানের গভীরে নির্মিত একটিমিসাইল সিটিবা ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র নগরেরও উদ্বোধন করেছে দেশটির এয়ারোস্পেস ফোর্স। সেখানে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ ও উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়।

বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম হিউম্যান টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এটি ২ হাজার ৫০০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত ওজনের বিস্ফোরক বা ওয়ারহেড বহনে সক্ষম এবং প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় গতি ও ধ্বংসক্ষমতা অনেক বেশি।

আইআরজিসি দাবি করেছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পরও গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে, ফলে আধুনিক রাডার বা ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থার মাধ্যমে একে শনাক্ত ও প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে উন্নত ম্যানুভারেবল রিএন্ট্রি ভেহিকল (MaRV) প্রযুক্তির কারণে এটি মাত্র ১০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আবদুর রহিম মুসাভি বলেছেন, দেশের সামরিক নীতিতে এখন বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে সরে এসে ইরান এখনআক্রমণাত্মক সক্ষমতাঅর্জনের দিকে এগোচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতার আলোকে এই কৌশলগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। যুদ্ধ থেকে পাওয়া শিক্ষা কাজে লাগিয়ে পাহাড়ের শক্ত কংক্রিট স্তরের নিচে নিরাপদে নতুন মিসাইল সিটিগুলো নির্মাণ করা হয়েছে, যেখান থেকে প্রয়োজনে দ্রুত ও নিরাপদভাবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসপাতালে গিয়ে দুই রোগীর খোঁজ নিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম মিসাইল আনল ইরান

আপডেট সময় ১০:১৯:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এবার ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতায় আরেকটি বড় অগ্রগতি অর্জনের দাবি করেছে। দেশটির ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা এমন একটি অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে, যা বিশ্বের যেকোনো শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম। একই সঙ্গে ইরান রাজধানী তেহরানের গভীরে নির্মিত একটিমিসাইল সিটিবা ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র নগরেরও উদ্বোধন করেছে দেশটির এয়ারোস্পেস ফোর্স। সেখানে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ ও উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়।

বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম হিউম্যান টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এটি ২ হাজার ৫০০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত ওজনের বিস্ফোরক বা ওয়ারহেড বহনে সক্ষম এবং প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় গতি ও ধ্বংসক্ষমতা অনেক বেশি।

আইআরজিসি দাবি করেছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পরও গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে, ফলে আধুনিক রাডার বা ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থার মাধ্যমে একে শনাক্ত ও প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে উন্নত ম্যানুভারেবল রিএন্ট্রি ভেহিকল (MaRV) প্রযুক্তির কারণে এটি মাত্র ১০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আবদুর রহিম মুসাভি বলেছেন, দেশের সামরিক নীতিতে এখন বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে সরে এসে ইরান এখনআক্রমণাত্মক সক্ষমতাঅর্জনের দিকে এগোচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতার আলোকে এই কৌশলগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। যুদ্ধ থেকে পাওয়া শিক্ষা কাজে লাগিয়ে পাহাড়ের শক্ত কংক্রিট স্তরের নিচে নিরাপদে নতুন মিসাইল সিটিগুলো নির্মাণ করা হয়েছে, যেখান থেকে প্রয়োজনে দ্রুত ও নিরাপদভাবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে।