আফ্রিকান ফুটবলে অন্যতম সেরা দল মিশর। মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের টুর্নামেন্ট আফকনে এখন পর্যন্ত মোট ৭ বার শিরোপা জিতেছে দলটি। আর সে কারণে দলটির জার্সিতে আছে সাতটি তারকা। তবে এবারের বিশ্বকাপে এমন তারকাযুক্ত জার্সি না রাখার জন্য মিশরকে অনুরোধ জানিয়েছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ফুটবলে জাতীয় দলের জার্সিতে থাকা তারকার সংখ্যা কেবল একটি নকশা নয়, এটি সেই দলের বিশ্বজয়ের সংখ্যাকেও নির্দেশ করে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে ব্রাজিলের জার্সিতে আছে সর্বোচ্চ পাঁচটি তারকা। চারটি করে তারকা নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইতালি ও জার্মানি। আর সর্বশেষ আসরে সোনালি ট্রফি জিতে নিজেদের জার্সিতে তৃতীয় তারকা যোগ করেছে আর্জেন্টিনা।
তবে কোনো শিরোপা না জিতেই মিশরের জার্সিতে আছে সাত তারকা! বিশ্বকাপ জেতা তো দূরের কথা, একবারও গ্রুপ পর্ব পার করতে পারেনি দলটি। মিশরের এই জার্সির নকশা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে তাদের জার্সি পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছে ফিফা। ফিফার নতুন নীতি অনুযায়ী, বিশ্বকাপের মূল মঞ্চের শিরোপা জয় ছাড়া অন্য কোনো মহাদেশীয় বা আঞ্চলিক টুর্নামেন্টের সাফল্যের স্মারক হিসেবে জার্সিতে কোনো তারকা চিহ্ন ব্যবহার করা যাবে না। ফলে আফ্রিকার সফলতম দল হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বমঞ্চে সেই ইতিহাস বাদ দিয়েই মাঠে নামতে হচ্ছে মিশরকে।
শুধু তারকা বাদ দেওয়াই নয়, আরও একটি কারণে মিশরকে তাদের জার্সি সংশোধন করতে বলেছে ফিফা। সেটি হলো জার্সিতে থাকা খেলোয়াড়দের নম্বরের রঙ। মিসরের বিশ্বকাপ জার্সিতে নম্বরের জন্য সোনালি রঙ ব্যবহার করা হয়েছিল।
ফিফার যুক্তি অনুযায়ী, মাঠের আলোয় দূর থেকে সোনালি রঙ দেখতে অসুবিধা হয়। তাই খেলা চলাকালীন রেফারি ও দর্শকদের সুবিধার্থে সেই সোনালি রঙ বদলে আরও সাদা রঙের নম্বর ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ফিফার এই কঠোর নিয়মের বেড়াজালে অবশ্য কেবল মিশরই পড়েনি। এর আগে হাইতি ফুটবল দলের জার্সিতে রাজনৈতিক বার্তা থাকার অভিযোগে তাদের জার্সিও পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছিল ফিফা।

























