ঢাকা ০২:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘গণমাধ্যমে হামলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুরুতর ব্যর্থতার প্রতিফলন’

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৯:৫৯:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৩০ বার পড়া হয়েছে

 

গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা বেড়ে যাওয়া দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুরুতর ব্যর্থতার প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে হামলার ঘটনায় দেখা গেছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও তথ্যপ্রবাহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

 

শনিবার (১১ জানুয়ারি) ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক নীতিগত সংলাপে এসব কথা বলেন বক্তারা।

সংলাপে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক পরিসরে মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বর্তমান অবস্থা মূল্যায়নে রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা অংশ নেন।

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আইনি সহায়তা সেবার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে সংলাপ জানান আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, বর্তমানে আগের তুলনায় প্রায় দশ গুণ বেশি মানুষ রাষ্ট্রীয় আইনি সহায়তা পাচ্ছেন।

 

ড. আসিফ নজরুল বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ইতোমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে বিচারসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উচ্চ আদালতে স্থানান্তর, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী মানবাধিকার আইন প্রণয়ন এবং আইনি সহায়তা কার্যক্রমের সম্প্রসারণ উল্লেখযোগ্য। তিনি জানান, বর্তমানে আগের তুলনায় দশ গুণ বেশি মানুষ এই আইনি সহায়তা পাচ্ছেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ আইনে প্রায় ৯০ শতাংশ উন্নয়ন আনা হয়েছে এবং ২০ হাজারের বেশি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর তার বিরুদ্ধে ব্যাপক সাইবার বুলিংয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থবহ সংস্কারের জন্য সময় প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমকে আত্মসমালোচনায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরে দেশ এগিয়ে নিতে সততা, বিবেক, সহনশীলতা ও জবাবদিহি অপরিহার্য বলেও মন্তব্য করেন।

সংলাপের শুরুতে সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসে, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিসর ততই সংকুচিত হয়। তিনি বলেন, আইনকে প্রায়ই রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়, আর সহিংসতা, হুমকি ও হয়রানি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

 

বাংলাদেশে আদৌ আইনের শাসন আছে কি না—সে প্রশ্ন তুলে তিনি দীর্ঘসূত্র আদালত কার্যক্রম ও ভঙ্গুর গণমাধ্যম স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করেন। প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের মতো গণমাধ্যমে হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসব ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুরুতর ব্যর্থতার প্রতিফলন।

 

জিল্লুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুমের ভয় ভিন্নমত দমন করেছিল, আর বর্তমানে দেখা যাচ্ছে মব কালচারের উত্থান। তিনি গত ৫৪ বছরে সুস্থ নির্বাচনী সংস্কৃতির অভাব, সাংবাদিক বরখাস্ত, গণমাধ্যম মালিকানার পরিবর্তন এবং গোয়েন্দা সংস্থার অপব্যবহারেরও সমালোচনা করেন।

 

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মানবাধিকার সার্বজনীন—আপেক্ষিক নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো এখনও অর্থ, ক্ষমতা ও ধর্মের ওপর নির্ভরশীল, আর রাষ্ট্র মব শক্তির উত্থানকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।

 

তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর আত্মসমালোচনার আহ্বান জানিয়ে আদিবাসীদের অধিকার নির্বাচনি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। নির্বাচনের পর বৈষম্যবিরোধী আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি কোন কোন বিষয়ে গণভোট প্রয়োজন—সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর স্পষ্ট অবস্থান দাবি করেন।

 

বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)-এর নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা সংশোধন হলেও এর প্রয়োগ এখনও ত্রুটিপূর্ণ। অতীতে আদালত নির্বিচারে জামিন দিয়েছে—এমন দাবি নাকচ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এখন সাংবাদিকরা কেন গুম ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন করতে ভয় পান।

 

ঔপনিবেশিক আমলের আইন—যেমন ধর্ম অবমাননা, সন্ত্রাসবিরোধী ও মানহানি আইন—নিয়ে খোলামেলা বিতর্কের আহ্বান জানান ব্যারিস্টার সারা হোসেন। একইসঙ্গে অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি ও জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

 

এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসরিন সুলতানা মিলি বলেন, নির্বাচনের আগে ছোট দলগুলোকে লোভের মাধ্যমে বিভক্ত করা হয়। এর ফলে ‘সুপ্রিম লিডার’ তৈরি হয়, যারা একসময় কাল্ট ফিগারে পরিণত হয়ে কর্তৃত্ববাদ উসকে দেয়। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনকে প্রায়ই সম্ভাব্য বিজয়ী দলের পক্ষে ঝুঁকে থাকতে দেখা যায়।

 

অ্যাডভোকেট মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন। ক্ষমতাসীনরা নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করেন, আর তার খেসারত দেয় জনগণ। তিনি ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও মানবাধিকার সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন।

 

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাঈদ খান বলেন, মব সহিংসতা এখন আদালতের রায়ের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের দুর্বলতার দিকটি তুলে ধরে তিনি বলেন, সমালোচনা সহ্য করার সংস্কৃতি ছাড়া কোনও জাতি এগোতে পারে না। বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম বলেন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের জন্য ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করেন।

 

সাংবাদিক মো. মুক্তাদির রশীদ রোমিও প্রশ্ন রেখে বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখন নাগরিকদের নাকি মবের হাতে? তিনি বলেন, বাংলাদেশ ক্রমেই বিভক্ত হয়ে পড়ছে; কার্যকর কমিশনের অভাব এবং ভিন্নমতকে ‘বিদেশি এজেন্ট’ আখ্যা দেওয়ার প্রবণতা প্রকৃত বিতর্ককে দমন করছে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, দিদার ভূঁইয়া, রাগিব আহসান মুন্না, পারভেজ করিম আব্বাসী, ফারুক হাসান, পল্লব চাকমা, ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান ও শেখ ফজলুল করিম মারুফ প্রমৃখ। তারা নাগরিক পরিসর সংকোচন, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের অভাব, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে মব শক্তির ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশপ্রেমিক হওয়ার কারণে কি আমার স্বামীকে হত্যা করা হলো?: র‌্যাব কর্মকর্তা মোতালেবের স্ত্রীর প্রশ্ন

‘গণমাধ্যমে হামলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুরুতর ব্যর্থতার প্রতিফলন’

আপডেট সময় ০৯:৫৯:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

 

গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা বেড়ে যাওয়া দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুরুতর ব্যর্থতার প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে হামলার ঘটনায় দেখা গেছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও তথ্যপ্রবাহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

 

শনিবার (১১ জানুয়ারি) ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক নীতিগত সংলাপে এসব কথা বলেন বক্তারা।

সংলাপে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক পরিসরে মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বর্তমান অবস্থা মূল্যায়নে রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা অংশ নেন।

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আইনি সহায়তা সেবার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে সংলাপ জানান আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, বর্তমানে আগের তুলনায় প্রায় দশ গুণ বেশি মানুষ রাষ্ট্রীয় আইনি সহায়তা পাচ্ছেন।

 

ড. আসিফ নজরুল বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ইতোমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে বিচারসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উচ্চ আদালতে স্থানান্তর, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী মানবাধিকার আইন প্রণয়ন এবং আইনি সহায়তা কার্যক্রমের সম্প্রসারণ উল্লেখযোগ্য। তিনি জানান, বর্তমানে আগের তুলনায় দশ গুণ বেশি মানুষ এই আইনি সহায়তা পাচ্ছেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ আইনে প্রায় ৯০ শতাংশ উন্নয়ন আনা হয়েছে এবং ২০ হাজারের বেশি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর তার বিরুদ্ধে ব্যাপক সাইবার বুলিংয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থবহ সংস্কারের জন্য সময় প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমকে আত্মসমালোচনায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরে দেশ এগিয়ে নিতে সততা, বিবেক, সহনশীলতা ও জবাবদিহি অপরিহার্য বলেও মন্তব্য করেন।

সংলাপের শুরুতে সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসে, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিসর ততই সংকুচিত হয়। তিনি বলেন, আইনকে প্রায়ই রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়, আর সহিংসতা, হুমকি ও হয়রানি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

 

বাংলাদেশে আদৌ আইনের শাসন আছে কি না—সে প্রশ্ন তুলে তিনি দীর্ঘসূত্র আদালত কার্যক্রম ও ভঙ্গুর গণমাধ্যম স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করেন। প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের মতো গণমাধ্যমে হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসব ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুরুতর ব্যর্থতার প্রতিফলন।

 

জিল্লুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুমের ভয় ভিন্নমত দমন করেছিল, আর বর্তমানে দেখা যাচ্ছে মব কালচারের উত্থান। তিনি গত ৫৪ বছরে সুস্থ নির্বাচনী সংস্কৃতির অভাব, সাংবাদিক বরখাস্ত, গণমাধ্যম মালিকানার পরিবর্তন এবং গোয়েন্দা সংস্থার অপব্যবহারেরও সমালোচনা করেন।

 

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মানবাধিকার সার্বজনীন—আপেক্ষিক নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো এখনও অর্থ, ক্ষমতা ও ধর্মের ওপর নির্ভরশীল, আর রাষ্ট্র মব শক্তির উত্থানকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।

 

তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর আত্মসমালোচনার আহ্বান জানিয়ে আদিবাসীদের অধিকার নির্বাচনি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। নির্বাচনের পর বৈষম্যবিরোধী আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি কোন কোন বিষয়ে গণভোট প্রয়োজন—সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর স্পষ্ট অবস্থান দাবি করেন।

 

বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)-এর নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা সংশোধন হলেও এর প্রয়োগ এখনও ত্রুটিপূর্ণ। অতীতে আদালত নির্বিচারে জামিন দিয়েছে—এমন দাবি নাকচ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এখন সাংবাদিকরা কেন গুম ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন করতে ভয় পান।

 

ঔপনিবেশিক আমলের আইন—যেমন ধর্ম অবমাননা, সন্ত্রাসবিরোধী ও মানহানি আইন—নিয়ে খোলামেলা বিতর্কের আহ্বান জানান ব্যারিস্টার সারা হোসেন। একইসঙ্গে অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি ও জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

 

এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসরিন সুলতানা মিলি বলেন, নির্বাচনের আগে ছোট দলগুলোকে লোভের মাধ্যমে বিভক্ত করা হয়। এর ফলে ‘সুপ্রিম লিডার’ তৈরি হয়, যারা একসময় কাল্ট ফিগারে পরিণত হয়ে কর্তৃত্ববাদ উসকে দেয়। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনকে প্রায়ই সম্ভাব্য বিজয়ী দলের পক্ষে ঝুঁকে থাকতে দেখা যায়।

 

অ্যাডভোকেট মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন। ক্ষমতাসীনরা নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করেন, আর তার খেসারত দেয় জনগণ। তিনি ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও মানবাধিকার সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন।

 

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাঈদ খান বলেন, মব সহিংসতা এখন আদালতের রায়ের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের দুর্বলতার দিকটি তুলে ধরে তিনি বলেন, সমালোচনা সহ্য করার সংস্কৃতি ছাড়া কোনও জাতি এগোতে পারে না। বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম বলেন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের জন্য ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করেন।

 

সাংবাদিক মো. মুক্তাদির রশীদ রোমিও প্রশ্ন রেখে বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখন নাগরিকদের নাকি মবের হাতে? তিনি বলেন, বাংলাদেশ ক্রমেই বিভক্ত হয়ে পড়ছে; কার্যকর কমিশনের অভাব এবং ভিন্নমতকে ‘বিদেশি এজেন্ট’ আখ্যা দেওয়ার প্রবণতা প্রকৃত বিতর্ককে দমন করছে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, দিদার ভূঁইয়া, রাগিব আহসান মুন্না, পারভেজ করিম আব্বাসী, ফারুক হাসান, পল্লব চাকমা, ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান ও শেখ ফজলুল করিম মারুফ প্রমৃখ। তারা নাগরিক পরিসর সংকোচন, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের অভাব, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে মব শক্তির ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।